ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

দিল্লিতে চলছেই ধরপাকড়, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৪৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে দ্বিতীয় দিনেও ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। রামকৃষ্ণ আশ্রম এলাকা থেকে আবারও আটক হয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে শনিবার বিক্ষোভের সময়ও নেহা বোরাকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। রোববারও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের টেনেহিঁচড়ে বাসে তোলেন নিরাপত্তাকর্মীরা। আটক অনেকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

এক আন্দোলনকারী বলেন, আন্দোলনকারীদের আটক এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে তারা রাজপথে থাকবেন। সিইসির পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। রোববার সকালে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও স্টেশন এলাকায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।

এদিকে, মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বড় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আটকের একদিন পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুক্তি পেয়েছেন সিজেপির অভিজিৎ দিপকেসহ তিন নেতা। এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে মুক্তি পান দিপকে। মুক্তি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভীতু বলে আখ্যা দেন তিনি।

পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় ভারতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তার অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের লড়াই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিষয়টিকে নিজের বিরুদ্ধে নিয়ে তাকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।

এর আগে মুক্তি পান জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। তার দাবি, তাকে আটক করা হয়নি, বরং অপহরণ করা হয়েছিল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে চলছেই ধরপাকড়, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির

আপডেট সময়ঃ ১০:৪৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে দ্বিতীয় দিনেও ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। রামকৃষ্ণ আশ্রম এলাকা থেকে আবারও আটক হয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে শনিবার বিক্ষোভের সময়ও নেহা বোরাকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। রোববারও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের টেনেহিঁচড়ে বাসে তোলেন নিরাপত্তাকর্মীরা। আটক অনেকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

এক আন্দোলনকারী বলেন, আন্দোলনকারীদের আটক এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে তারা রাজপথে থাকবেন। সিইসির পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। রোববার সকালে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও স্টেশন এলাকায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।

এদিকে, মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বড় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আটকের একদিন পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুক্তি পেয়েছেন সিজেপির অভিজিৎ দিপকেসহ তিন নেতা। এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে মুক্তি পান দিপকে। মুক্তি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভীতু বলে আখ্যা দেন তিনি।

পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় ভারতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তার অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের লড়াই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিষয়টিকে নিজের বিরুদ্ধে নিয়ে তাকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।

এর আগে মুক্তি পান জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। তার দাবি, তাকে আটক করা হয়নি, বরং অপহরণ করা হয়েছিল।