ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

ঢাকায় ই-রিকশা নিবন্ধন শুরু, শর্ত পূরণে মিলবে চলাচলের অনুমতি

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে আবেদন করলেই মিলবে না নিবন্ধন বা চলাচলের অনুমতি। নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে ই-রিকশা তৈরি করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদন বা ছাড়পত্র নিতে হবে। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রণীত ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর শর্ত পূরণ করে সিটি করপোরেশনে আবেদন করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ফরম কোনো চলাচলের অনুমতিপত্র নয়; এটি কেবল নিবন্ধনের আবেদনপত্র। আবেদনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বুয়েটের ছাড়পত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে।’

ই-রিকশা ব্যবস্থাপনাকে সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, নির্ধারিত মডেলের ই-রিকশা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ ঠিক করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবহার বন্ধে ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ই-রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ওই সভায় জোন নির্ধারণের পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক ই-রিকশার সম্ভাব্য সংখ্যাও চূড়ান্ত করা হবে।

একসঙ্গে সব অটোরিকশা বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, ‘সবকিছু হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে আমরা ধাপে ধাপে এগুলোকে নিয়ম ও নিবন্ধনের আওতায় আনতে চাই। প্রথম পর্যায়ে এক হাজার, দুই হাজার কিংবা ৫০০—যতগুলো ই-রিকশা শর্ত পূরণ করবে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হবে।’

৩ নভেম্বর থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যে নিবন্ধনের আবেদন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নগর ভবন এবং ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এসব ফরম সংগ্রহ করা যাবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি আবেদন ফরম নিতে পারবেন।

অটোরিকশাকে ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসক এ সমস্যা সমাধানে নাগরিক, রিকশার মালিক ও চালক, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকায় ই-রিকশা নিবন্ধন শুরু, শর্ত পূরণে মিলবে চলাচলের অনুমতি

আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে আবেদন করলেই মিলবে না নিবন্ধন বা চলাচলের অনুমতি। নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে ই-রিকশা তৈরি করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদন বা ছাড়পত্র নিতে হবে। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রণীত ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর শর্ত পূরণ করে সিটি করপোরেশনে আবেদন করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ফরম কোনো চলাচলের অনুমতিপত্র নয়; এটি কেবল নিবন্ধনের আবেদনপত্র। আবেদনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বুয়েটের ছাড়পত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে।’

ই-রিকশা ব্যবস্থাপনাকে সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, নির্ধারিত মডেলের ই-রিকশা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ ঠিক করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবহার বন্ধে ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ই-রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ওই সভায় জোন নির্ধারণের পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক ই-রিকশার সম্ভাব্য সংখ্যাও চূড়ান্ত করা হবে।

একসঙ্গে সব অটোরিকশা বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, ‘সবকিছু হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে আমরা ধাপে ধাপে এগুলোকে নিয়ম ও নিবন্ধনের আওতায় আনতে চাই। প্রথম পর্যায়ে এক হাজার, দুই হাজার কিংবা ৫০০—যতগুলো ই-রিকশা শর্ত পূরণ করবে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হবে।’

৩ নভেম্বর থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যে নিবন্ধনের আবেদন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নগর ভবন এবং ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এসব ফরম সংগ্রহ করা যাবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি আবেদন ফরম নিতে পারবেন।

অটোরিকশাকে ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসক এ সমস্যা সমাধানে নাগরিক, রিকশার মালিক ও চালক, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।