রেলের পূর্বাঞ্চলে কমিশন সিন্ডিকেটে পেনশন সেবায় চরম দুর্নীতি, প্রশ্নের মুখে দায়িত্বশীলরা
- আপডেট সময়ঃ ০৭:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / ৬ বার পড়া হয়েছে
আবদুল মতিন চৌধুরী রিপন, বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের হিসাব বিভাগ যেন এক অঘোষিত ‘কমিশন কেন্দ্র’। পেনশন উত্তোলন থেকে শুরু করে সরকারি বিল পাস—প্রতিটি ধাপে ঘুষ ছাড়া কাজ এগোয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন বিভাগীয় অর্থ উপদেষ্টা (ডিএফএ) মো. আব্দুর রহিমকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত অঙ্কের ঘুষ না দিলে পেনশনের ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও এই হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। অন্যদিকে রেলের বিভিন্ন ক্রয় কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করে প্রতিটি কেনাকাটায় নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্রগুলো জানায়, এসব অনিয়মের টাকায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও ভবনের মালিক হয়েছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। ডবলমুরিংয়ের ঝর্ণাপাড়া এলাকায় কোটি টাকার সম্পত্তি কিনে বহুতল ভবনে রূপান্তরের কাজ চলছে।
পাহাড়তলী ও হালিশহর এলাকাতেও রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। নিজ জেলা জয়পুরহাটেও মার্কেটসহ বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি কক্সবাজারের কয়েকটি হোটেলে বিনিয়োগ থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, রেলের একটি বাংলো নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাড়া দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আয় করা হচ্ছে। সেখানে ভাড়াটিয়ারা ব্যবহার করছেন সরকারি গ্যাস ও বিদ্যুৎ। পার্কিং স্পেস দখল করে কক্ষ তৈরি এবং গাছ কেটে নতুন পার্কিং তৈরির ঘটনাও উঠে এসেছে, যা পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হিসাব শাখার ভেতরে ঘুষ বাণিজ্য এখন ‘ওপেন সিক্রেট’—এমনটাই বলছেন একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। সম্প্রতি ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে দরকষাকষির একটি ঘটনা এবং সেই টাকার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এসব ঘটনা জানার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান অর্থ উপদেষ্টা মো. সাইদুর রহমানের নীরব সমর্থনেই এই সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং প্রমাণ চেয়েছেন। তবে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সরাসরি কোনো জবাব দেননি। এদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) রফিকুল বারী খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে আস্থা সংকট তৈরি করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হিসাব বিভাগের প্রায় প্রতিটি স্তরেই অনিয়মের চক্র গড়ে উঠেছে, যেখানে নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত ভাগ-বাটোয়ারার সংস্কৃতি চালু রয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অন্যথায় রেলের আর্থিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান আরও অবনতি হতে পারে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।






















