ঢাকা, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ | ই-পেপার

যুদ্ধের ধাক্কায় থেমে যাওয়া রিফাইনারি ফের চালু: হরমুজ সংকট পেরিয়ে তেল সরবরাহে স্বস্তির ইঙ্গিত

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:২৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে

আবদুল মতিন চৌধুরী রিপন,বিশেষ প্রতিনিধি: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ধাক্কায় নজিরবিহীনভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি অবশেষে আবার চালু হতে যাচ্ছে। প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ৭ মে থেকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরছে প্রতিষ্ঠানটি—যা জ্বালানি খাতে স্বস্তির বার্তা দিলেও উন্মোচিত হয়েছে আমদানি নির্ভরতার গভীর সংকট ,

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দীর্ঘ সময় কোনো ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছায়নি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে রিফাইনারির উৎপাদনে। শেষ পর্যন্ত ১৪ এপ্রিল ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ—যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পর প্রথম ঘটনা ,
তবে সংকট কাটাতে বিকল্প পথে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। পরদিন থেকে শুরু হবে তেল খালাস, আর সেই জ্বালানিই ফের সচল করবে রিফাইনারির চাকা।

ইস্টার্ন রিফাইনারির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান গ্রেডের ক্রুড অয়েলই মূলত পরিশোধন করা হয় এখানে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন তেলের ওপর নির্ভর করে দেশের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ। ফলে সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাতও পুরো ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে—যার বাস্তব উদাহরণ মিলল এবারের সংকটে,

এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আসার কথা রয়েছে। এতে আপাতত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ,

তবে এই ঘটনা শুধু সাময়িক সংকট নয়—বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বল দিকগুলো স্পষ্ট করেছে। একদিকে একক রিফাইনারির ওপর অতিনির্ভরতা, অন্যদিকে নির্দিষ্ট রুটের ওপর আমদানি নির্ভরতা—দুটিই বড় ঝুঁকি হিসেবে সামনে এসেছে ,

প্রশ্ন উঠেছে—বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা, মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন রিফাইনারি স্থাপনের পরিকল্পনা কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে? নাকি প্রতিবার বৈশ্বিক সংকটেই একই চক্রে আটকে পড়বে দেশের জ্বালানি খাত?

সরকারি কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করছেন, আপাতত বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে বাস্তবতা বলছে—বৈশ্বিক ভূরাজনীতির টানাপোড়েনে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন আর কেবল অর্থনীতির নয়, জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধের ধাক্কায় থেমে যাওয়া রিফাইনারি ফের চালু: হরমুজ সংকট পেরিয়ে তেল সরবরাহে স্বস্তির ইঙ্গিত

আপডেট সময়ঃ ০৭:২৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

আবদুল মতিন চৌধুরী রিপন,বিশেষ প্রতিনিধি: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ধাক্কায় নজিরবিহীনভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি অবশেষে আবার চালু হতে যাচ্ছে। প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ৭ মে থেকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরছে প্রতিষ্ঠানটি—যা জ্বালানি খাতে স্বস্তির বার্তা দিলেও উন্মোচিত হয়েছে আমদানি নির্ভরতার গভীর সংকট ,

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দীর্ঘ সময় কোনো ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছায়নি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে রিফাইনারির উৎপাদনে। শেষ পর্যন্ত ১৪ এপ্রিল ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ—যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পর প্রথম ঘটনা ,
তবে সংকট কাটাতে বিকল্প পথে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। পরদিন থেকে শুরু হবে তেল খালাস, আর সেই জ্বালানিই ফের সচল করবে রিফাইনারির চাকা।

ইস্টার্ন রিফাইনারির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান গ্রেডের ক্রুড অয়েলই মূলত পরিশোধন করা হয় এখানে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন তেলের ওপর নির্ভর করে দেশের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ। ফলে সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাতও পুরো ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে—যার বাস্তব উদাহরণ মিলল এবারের সংকটে,

এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আসার কথা রয়েছে। এতে আপাতত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ,

তবে এই ঘটনা শুধু সাময়িক সংকট নয়—বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বল দিকগুলো স্পষ্ট করেছে। একদিকে একক রিফাইনারির ওপর অতিনির্ভরতা, অন্যদিকে নির্দিষ্ট রুটের ওপর আমদানি নির্ভরতা—দুটিই বড় ঝুঁকি হিসেবে সামনে এসেছে ,

প্রশ্ন উঠেছে—বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা, মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন রিফাইনারি স্থাপনের পরিকল্পনা কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে? নাকি প্রতিবার বৈশ্বিক সংকটেই একই চক্রে আটকে পড়বে দেশের জ্বালানি খাত?

সরকারি কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করছেন, আপাতত বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে বাস্তবতা বলছে—বৈশ্বিক ভূরাজনীতির টানাপোড়েনে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন আর কেবল অর্থনীতির নয়, জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে ।