ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ | ই-পেপার

নরসিংদীতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মনসুর আলী শিকদার ,নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মুহম্মদ আলী আহসান নরসিংদীরি পলাশে স্ত্রীকে নৃশংস ভাবে গলা টিপে হত্যা করার অপরাধে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরো ১ এক বছর সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন। ৩০ জুলাই ২০২৬ ইং বৃহস্প্রতিবার নরসিংদীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান আদালতে প্রকাশ্যে এ রায় প্রদান করেন। মামলার বিবরনে প্রকাশ, কিশোরগঞ্জ জেলার তারাল থানার তাল জাংগা গ্রামের ফজলু মিয়া নরসিংদীর পলাশের মিয়া পাড়া গ্রামে থাকাবস্থায় তার কন্যা সুমি আক্তার (২৩) কে নরসিংদী পলাশ থানার মিয়া পাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম মিয়ার পুত্র নুর আলম ওরুফে রুপা (২৭) এর সহিত ঘটনার ৬ বছর পূর্বে ইসলামিক বিধান মোতাবেক বিবাহ দেন। বিবাহের পর সংসার জীবনে ইলমী নামে তাদের কোলে ৪ বছরের একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়। বিবাহের পর হতেই স্বামী নুর আলম ওরুফে রুপা স্ত্রী সুমি আক্তারকে যৌতুকের টাকার জন্য শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করিতে থাকে। এ ঘটনা পিতার কাছে বলার পর মেয়ের সুখের জন্য দারিদ্র পিতা ফজলু মিয়া কষ্ট করে ম্যানেজ করে ২ লক্ষ টাকা সুমির স্বামী রুপাকে প্রদান করেন। তার পরও স্বামী রুপা পুনরায় আর ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। উক্ত দাবীকৃত টাকা দিতে না পেরে স্বামীর নির্যাতনের কারনে এক পর্যায়ে স্ত্রী নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী সুমি আক্তার বিদেশে চলে যায়।বিদেশে গিয়ে স্বামীর নিকট সন্তানের খরচ সহ সংসারে খরচ পাঠায় । একপর্যায়ে স্ত্রী দেশে ফিরে স্বামীর নিকট পাঠানো টাকার হিসাব চাইলে স্বামী রুপা, স্ত্রী সুমি আক্তার এর কাছে পুনরায় মটর সাইকেল কিনে দিতে বলে, তখন স্ত্রী মটর সাইকেল কিনে দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে অস্বীকৃতি জানাইলে, স্বামী নুর আলম রুপা স্ত্রী সুমি আক্তারকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে সেই সুত্র ধরেই গত ১৮/১১/২০২৩ ইং তারিখ রাত্র অনুমান ১০ ঘটিকা হতে ১৯/১১/২০২৩ তারিখে সকাল ১১ ঘটিকার মধ্যবর্তী যে কোন সময় নুর আলম রুপা তার স্ত্রী সুমি আক্তারকে গলায় চাপ দিয়া ধরিয়া শ^াষ রোধ করিয়া হত্যা করে স্ত্রী’র লাশ নরসিংদীর পলাশ থানাধীন ঘোড়াশাল পৌরসভার উত্তর মিয়া পাড়ার সাকিনস্থ জৈনক আবুল হোসেনের ভাড়া বাসার মেঝেতে ফেলে তার স্বামী পালিয়ে যায় । এ হত্যার ঘটনায় নিহত সুমি আক্তার এর বাবা ফজলু মিয়া মেয়ের জামাই নুর আলম রুপাকে আসামী করে পলাশ থানায় নারী শিশু আইনের ধারায় ৫(১১)২৩ নং মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় পুলিশ নুর আলম রুপার বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান করেন। এরপর আদালত রাষ্ট্র পক্ষে ১১ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে হত্যার ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমানীত হওয়ার কারনে বিজ্ঞ নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান ,বৃহস্প্রতিবার ৩০ জুৃলাই ২০২৬ ইং তারিখে প্রকাশ্য আদালতে আসামী নুর আলম ওরুফে রুপাকে দোষী সাব্যস্থ করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ১ এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন । মামলা হওয়ার পর আসামী গ্রেফতার হয়ে হাজতে ছিলেন এবং রায় ঘোষনার দিন ও আসামীকে পুলিশ পাহাড়ায় জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। রাষ্ট্র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিজ্ঞ পিপি এডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী । আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট কানিজ ফাতেমা । এ সাজার বিরুদ্ধে আসামী উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে জানা যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নরসিংদীতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল

আপডেট সময়ঃ ০৯:১৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মোঃ মনসুর আলী শিকদার ,নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মুহম্মদ আলী আহসান নরসিংদীরি পলাশে স্ত্রীকে নৃশংস ভাবে গলা টিপে হত্যা করার অপরাধে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরো ১ এক বছর সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন। ৩০ জুলাই ২০২৬ ইং বৃহস্প্রতিবার নরসিংদীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান আদালতে প্রকাশ্যে এ রায় প্রদান করেন। মামলার বিবরনে প্রকাশ, কিশোরগঞ্জ জেলার তারাল থানার তাল জাংগা গ্রামের ফজলু মিয়া নরসিংদীর পলাশের মিয়া পাড়া গ্রামে থাকাবস্থায় তার কন্যা সুমি আক্তার (২৩) কে নরসিংদী পলাশ থানার মিয়া পাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম মিয়ার পুত্র নুর আলম ওরুফে রুপা (২৭) এর সহিত ঘটনার ৬ বছর পূর্বে ইসলামিক বিধান মোতাবেক বিবাহ দেন। বিবাহের পর সংসার জীবনে ইলমী নামে তাদের কোলে ৪ বছরের একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়। বিবাহের পর হতেই স্বামী নুর আলম ওরুফে রুপা স্ত্রী সুমি আক্তারকে যৌতুকের টাকার জন্য শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করিতে থাকে। এ ঘটনা পিতার কাছে বলার পর মেয়ের সুখের জন্য দারিদ্র পিতা ফজলু মিয়া কষ্ট করে ম্যানেজ করে ২ লক্ষ টাকা সুমির স্বামী রুপাকে প্রদান করেন। তার পরও স্বামী রুপা পুনরায় আর ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। উক্ত দাবীকৃত টাকা দিতে না পেরে স্বামীর নির্যাতনের কারনে এক পর্যায়ে স্ত্রী নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী সুমি আক্তার বিদেশে চলে যায়।বিদেশে গিয়ে স্বামীর নিকট সন্তানের খরচ সহ সংসারে খরচ পাঠায় । একপর্যায়ে স্ত্রী দেশে ফিরে স্বামীর নিকট পাঠানো টাকার হিসাব চাইলে স্বামী রুপা, স্ত্রী সুমি আক্তার এর কাছে পুনরায় মটর সাইকেল কিনে দিতে বলে, তখন স্ত্রী মটর সাইকেল কিনে দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে অস্বীকৃতি জানাইলে, স্বামী নুর আলম রুপা স্ত্রী সুমি আক্তারকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে সেই সুত্র ধরেই গত ১৮/১১/২০২৩ ইং তারিখ রাত্র অনুমান ১০ ঘটিকা হতে ১৯/১১/২০২৩ তারিখে সকাল ১১ ঘটিকার মধ্যবর্তী যে কোন সময় নুর আলম রুপা তার স্ত্রী সুমি আক্তারকে গলায় চাপ দিয়া ধরিয়া শ^াষ রোধ করিয়া হত্যা করে স্ত্রী’র লাশ নরসিংদীর পলাশ থানাধীন ঘোড়াশাল পৌরসভার উত্তর মিয়া পাড়ার সাকিনস্থ জৈনক আবুল হোসেনের ভাড়া বাসার মেঝেতে ফেলে তার স্বামী পালিয়ে যায় । এ হত্যার ঘটনায় নিহত সুমি আক্তার এর বাবা ফজলু মিয়া মেয়ের জামাই নুর আলম রুপাকে আসামী করে পলাশ থানায় নারী শিশু আইনের ধারায় ৫(১১)২৩ নং মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় পুলিশ নুর আলম রুপার বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান করেন। এরপর আদালত রাষ্ট্র পক্ষে ১১ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে হত্যার ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমানীত হওয়ার কারনে বিজ্ঞ নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান ,বৃহস্প্রতিবার ৩০ জুৃলাই ২০২৬ ইং তারিখে প্রকাশ্য আদালতে আসামী নুর আলম ওরুফে রুপাকে দোষী সাব্যস্থ করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ১ এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন । মামলা হওয়ার পর আসামী গ্রেফতার হয়ে হাজতে ছিলেন এবং রায় ঘোষনার দিন ও আসামীকে পুলিশ পাহাড়ায় জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। রাষ্ট্র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিজ্ঞ পিপি এডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী । আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট কানিজ ফাতেমা । এ সাজার বিরুদ্ধে আসামী উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে জানা যায়।