টিআইবি’র সিলেটে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অভিযোগ
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৩১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে
মোঃ নিজাম উদ্দিন সিলেটঃ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার বাংলাদেশ (টিআইবি) বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি প্রতিরোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। টিআইবি অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় তাদের জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে। আমাদের দীর্ঘদিনের এক অকাট্য আস্থা-বিশ্বাস ছিল টিআইবির প্রতি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়, গত ২৫ জুলাই সিলেটে টিআইবির অনুসন্ধানী ও ডেটা সাংবদিকতার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টিআইবি সেই অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস ধ্বংস করে দিয়েছে। সিলেটের এ প্রশিক্ষণে টিআইবি নিজেই চরম অস্বচ্ছতা, এমনকি দুর্নীতিরও আশ্রয় নিয়েছে বলেই তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে।
এবার আসি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে। টিআইবি কী নিয়ে কাজ করে ? সরকার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে। টিআইবি নিজেই কি স্বচ্ছ আছে ? এ প্রশিক্ষণের তালিকা কাদের দিয়ে টিআইবি তৈরি করেছে ? তারা কি স্বচ্ছতার প্রক্রিয়াগুলো অতিক্রম করেছে ? নাকি কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আজ্ঞাবহ একটা তালিকা দিয়েই সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে ? টিআইবি যদি ঢাকায় বসে তালিকা করে, তাহলে এ তালিকায় টিআইবি অস্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছে। ঢাকায় যারা তালিকা করেছেন, তারা স্রেফ নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে একটা স্বজনপ্রীতিমূলক তালিকা করেছেন। কারণ, এ তালিকায় সিলেটের অনেক তরুণ অনুসন্ধানী পেশাদার সাংবাদিকদের নাম নেই।
টিআইবি যদি বলে, এ প্রশিক্ষণ সিলেটের কোনো কো-অর্ডিনেটর তালিকা বা সমন্বয় করেছে, তবে আমি টিআইবির কাছে জবাব চাইবো না। কিন্তু টিআইবি যদি এ দায় তাদের কাঁধে নেয়, অর্থাৎ- তারা বলে এ তালিকা তারাই ঢাকা থেকে তাদের লোক দিয়ে করেছে, তাহলে আমি বলবো_টিআইবি নিজেই একটি অস্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান। আজ থেকে এ প্রতিষ্ঠান যেনো সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে, বা টিআইবি যেনো কারও দুর্নীতি না খুঁজে। কারণ, সিলেটের এ প্রশিক্ষণে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, টিআইবি যদি ঢাকায় টেবিলে বসে সিলেটের সাংবাদিকদের একটি প্রশিক্ষণ তালিকা অস্বচ্ছভাবে করতে পারে, তাহলে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে টিআইবি যত জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ। এসব জরিপ রিপোর্ট উদ্দেশ্যমূলক, বায়াস্ট, প্ররোচিত, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অস্বচ্ছ।
টিআইবির কাছে আমার আহ্বান, অবিলম্বে সিলেটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এ প্রতারণামূলক কাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে টিআইবি নিজেকে স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান দাবি করলে, সিলেটের এ প্রশিক্ষণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে ব্যাখা দিবে।
পরিশেষে বলবো, টিআইবি ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে আমরা ধরেই নিবো বাংলাদেশে টিআইবির মতো প্রতিষ্ঠানের জরিপ রিপোর্ট ভুয়া। বিদেশিদের টাকায় কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য টিআইবি বাংলাদেশে ভুয়া জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ করে চাপে ফেলে ফায়দা হাসিল করে। অতএব, আশা করি, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিলেটের সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে অস্বচ্ছতার বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা হবে।
























