ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে ইউএনডিপি ‘র করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তার অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃ জুয়েল হোসাইন, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবানে ইউএনডিপি’র করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অফিসের সূত্রে জানা গেছে, জেলা কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। অন্যের জন্য বরাদ্দকৃত প্রকল্পের কাজ গুলো জেলা কর্মকর্তা পদের ক্ষমতা অপব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ গুলো নিজে বাস্তবায়ন করে থাকেন। এমনকি ইয়ুথ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানিত ভাতা ২ হাজার টাকা থেকে ৫০০ টাকা কর্তন করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। রুমা, থানচি, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকা থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানী ভাতা ন্যায্য হয়নি। কারণ দুর্গম এলাকা থেকে বান্দরবান শহরে আসা-যাওয়া খুব খরচের ব্যাপার।

আরো অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমন্বয় সহযোগী সেলিম উদ্দিন ও জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি জেলা থেকে নিতু প্রসাদ চাকমাকে ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য বান্দরবানে নিয়ে আসা হয়েছে। তার পাশাপাশি নিতু প্রসাদ চাকমাকে দিয়ে ঠিকাদারী কার্যক্রম গুলো পরিচালনা করানো হয়েছে ৫% চুক্তিতে। ফিজিবিলিটি স্টাডির নামে ৮ লক্ষ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বলেন, এবার টিটিসিতে মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের দুপুরের খাবারে নিম্নমানের খাবার দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে ৩০ জন অংশগ্রহণকারীদের নিম্নমানের পানি মেরামতের সরঞ্জামও দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের উপকারভোগীরা বলেন, করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিতে অবশ্যই ইউএনডিপির জেলা কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিশ্লেষক খুশী রায় ত্রিপুরা, উপজেলা সমন্বয় সহযোগী সেলিম উদ্দিন এবং হিসাব রক্ষক ক্যউইন মার্মা সম্পূর্ণভাবে জড়িত আছে। তা না হলে জেলা কর্মকর্তা এত সাহস পায় কিভাবে?

লামা উপজেলার দরদরী মার্মা পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, উন্নয়ন প্রকল্প কাজ নিজের ইচ্ছামত করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে পাড়া বাসীদের স্বাক্ষর নিয়ে বিল উত্তোলন করেছে জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান। উন্নয়ন কাজটির ব্যাপারে মোটেও সন্তুষ্ট নয় পাড়াবাসীরা।

এদিকে থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে উপকারভোগীদের কৃষি সরঞ্জাম ও রান্নার জিনিসপত্র বন্টনে কম দিয়ে জেলা পরিষদ রেস্ট হাউসে বাকি জিনিসপত্রগুলো মজুদ করে রাখা হয়েছে।

করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান বলেন, আমি কোন তথ্য ও বক্তব্য দিতে পারবনা। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করেন তিনি বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে ইউএনডিপির জেলা কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিশ্লেষক খুশী রায় ত্রিপুরার সাথে কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থামজামা লুসাই বলেন, কেউ যদি লিখিতভাবে কোন অভিযোগ দেয় তাহলে ওই বিষয়ে তদন্ত করে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বান্দরবানে ইউএনডিপি ‘র করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তার অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ

আপডেট সময়ঃ ০৩:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

মোঃ জুয়েল হোসাইন, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবানে ইউএনডিপি’র করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অফিসের সূত্রে জানা গেছে, জেলা কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। অন্যের জন্য বরাদ্দকৃত প্রকল্পের কাজ গুলো জেলা কর্মকর্তা পদের ক্ষমতা অপব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ গুলো নিজে বাস্তবায়ন করে থাকেন। এমনকি ইয়ুথ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানিত ভাতা ২ হাজার টাকা থেকে ৫০০ টাকা কর্তন করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। রুমা, থানচি, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকা থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানী ভাতা ন্যায্য হয়নি। কারণ দুর্গম এলাকা থেকে বান্দরবান শহরে আসা-যাওয়া খুব খরচের ব্যাপার।

আরো অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমন্বয় সহযোগী সেলিম উদ্দিন ও জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি জেলা থেকে নিতু প্রসাদ চাকমাকে ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য বান্দরবানে নিয়ে আসা হয়েছে। তার পাশাপাশি নিতু প্রসাদ চাকমাকে দিয়ে ঠিকাদারী কার্যক্রম গুলো পরিচালনা করানো হয়েছে ৫% চুক্তিতে। ফিজিবিলিটি স্টাডির নামে ৮ লক্ষ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বলেন, এবার টিটিসিতে মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের দুপুরের খাবারে নিম্নমানের খাবার দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে ৩০ জন অংশগ্রহণকারীদের নিম্নমানের পানি মেরামতের সরঞ্জামও দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের উপকারভোগীরা বলেন, করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিতে অবশ্যই ইউএনডিপির জেলা কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিশ্লেষক খুশী রায় ত্রিপুরা, উপজেলা সমন্বয় সহযোগী সেলিম উদ্দিন এবং হিসাব রক্ষক ক্যউইন মার্মা সম্পূর্ণভাবে জড়িত আছে। তা না হলে জেলা কর্মকর্তা এত সাহস পায় কিভাবে?

লামা উপজেলার দরদরী মার্মা পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, উন্নয়ন প্রকল্প কাজ নিজের ইচ্ছামত করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে পাড়া বাসীদের স্বাক্ষর নিয়ে বিল উত্তোলন করেছে জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান। উন্নয়ন কাজটির ব্যাপারে মোটেও সন্তুষ্ট নয় পাড়াবাসীরা।

এদিকে থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে উপকারভোগীদের কৃষি সরঞ্জাম ও রান্নার জিনিসপত্র বন্টনে কম দিয়ে জেলা পরিষদ রেস্ট হাউসে বাকি জিনিসপত্রগুলো মজুদ করে রাখা হয়েছে।

করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান বলেন, আমি কোন তথ্য ও বক্তব্য দিতে পারবনা। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করেন তিনি বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে ইউএনডিপির জেলা কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিশ্লেষক খুশী রায় ত্রিপুরার সাথে কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থামজামা লুসাই বলেন, কেউ যদি লিখিতভাবে কোন অভিযোগ দেয় তাহলে ওই বিষয়ে তদন্ত করে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিব।