ঢাকা, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | ই-পেপার

গাইবান্ধা নিউ ব্রীজ ঘাঘট নদীর দুই পাড় বালু খেকোদের দখলে -হুমকীতে শহর রক্ষা বাঁধ

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

নুরুল ইসলাম ,গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা শহরের ঘাঘট নদীর নিউ ব্রিজ সংলগ্ন শহর রক্ষা বাঁধের ডান ও বাম তীর ঘেঁষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণকৃত জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালু মজুদ ও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমি ব্যবহার করে প্রকাশ্যে বালু ব্যবসা পরিচালনার ফলে শহর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাঘট নদীর নিউ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বড় নৌকা ও বোলগেটের মাধ্যমে বালু এনে নদীতীরবর্তী স্থানে মজুদ করা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে ট্রাক, ট্রলি, মাহিন্দ্রা ট্র্যাক্টর, কাঁকড়া ও অন্যান্য যানবাহনে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলে শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয় ও ফাটল দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বালু পরিবহন ও মজুদের কারণে সৃষ্ট ধুলাবালিতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বালুর স্তূপ থেকে উড়ে আসা ধুলা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদীর চর থেকে বালু উত্তোলন করে বড় নৌকা ও বোলগেটের মাধ্যমে ঘাঘট নদীপথে এনে এসব স্থানে মজুদ করা হয়। পরে তা বিক্রির জন্য বিভিন্ন যানবাহনে পরিবহন করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রশাসনের অভিযানের পরও প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আগেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল। ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন শাখা-৪-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরহাদ হোসেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত ভূমি দখল করে বালু মজুদ ও ব্যবসা পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক, ট্রলি, মাহিন্দ্রা ট্র্যাক্টর ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের কারণে শহর রক্ষা বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা এবং লিখিত নোটিশ প্রদান করা হলেও তারা বালু অপসারণ করেননি। বরং সরকারি জমিতে বালু মজুদ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার কাছে অনুরোধ জানানো হয়।

বর্তমানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু এনে শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন সরকারি জমিতে স্তূপ করা হচ্ছে এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, দিন-রাত পালাক্রমে কাঁকড়া (ট্রাক্টর) চালকেরা শহর রক্ষা বাঁধের ওপর দিয়েই বালু বহন করছেন। ভারী যানবাহনের এ অবাধ চলাচলে বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বাঁধের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এ ব্যাপারে পানী উন্নয়ন বোর্ডের এসডি-২ মোঃ রেজাউর রহমানের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান-উপজেলা নির্বাহী অফিসার/জেলা প্রশাসক কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিতে পারেন। সচেতন মহলে দাবী, বৈধ বালুমহালের পরিবর্তে নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে নদী ও পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তারা অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন সরকারি জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গাইবান্ধা নিউ ব্রীজ ঘাঘট নদীর দুই পাড় বালু খেকোদের দখলে -হুমকীতে শহর রক্ষা বাঁধ

আপডেট সময়ঃ ০৪:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

নুরুল ইসলাম ,গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা শহরের ঘাঘট নদীর নিউ ব্রিজ সংলগ্ন শহর রক্ষা বাঁধের ডান ও বাম তীর ঘেঁষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণকৃত জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালু মজুদ ও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমি ব্যবহার করে প্রকাশ্যে বালু ব্যবসা পরিচালনার ফলে শহর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাঘট নদীর নিউ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বড় নৌকা ও বোলগেটের মাধ্যমে বালু এনে নদীতীরবর্তী স্থানে মজুদ করা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে ট্রাক, ট্রলি, মাহিন্দ্রা ট্র্যাক্টর, কাঁকড়া ও অন্যান্য যানবাহনে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলে শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয় ও ফাটল দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বালু পরিবহন ও মজুদের কারণে সৃষ্ট ধুলাবালিতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বালুর স্তূপ থেকে উড়ে আসা ধুলা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদীর চর থেকে বালু উত্তোলন করে বড় নৌকা ও বোলগেটের মাধ্যমে ঘাঘট নদীপথে এনে এসব স্থানে মজুদ করা হয়। পরে তা বিক্রির জন্য বিভিন্ন যানবাহনে পরিবহন করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রশাসনের অভিযানের পরও প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আগেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল। ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন শাখা-৪-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরহাদ হোসেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত ভূমি দখল করে বালু মজুদ ও ব্যবসা পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক, ট্রলি, মাহিন্দ্রা ট্র্যাক্টর ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের কারণে শহর রক্ষা বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা এবং লিখিত নোটিশ প্রদান করা হলেও তারা বালু অপসারণ করেননি। বরং সরকারি জমিতে বালু মজুদ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার কাছে অনুরোধ জানানো হয়।

বর্তমানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু এনে শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন সরকারি জমিতে স্তূপ করা হচ্ছে এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, দিন-রাত পালাক্রমে কাঁকড়া (ট্রাক্টর) চালকেরা শহর রক্ষা বাঁধের ওপর দিয়েই বালু বহন করছেন। ভারী যানবাহনের এ অবাধ চলাচলে বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বাঁধের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এ ব্যাপারে পানী উন্নয়ন বোর্ডের এসডি-২ মোঃ রেজাউর রহমানের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান-উপজেলা নির্বাহী অফিসার/জেলা প্রশাসক কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিতে পারেন। সচেতন মহলে দাবী, বৈধ বালুমহালের পরিবর্তে নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে নদী ও পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তারা অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন সরকারি জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন