ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে সিলেট টেস্টের প্রথম দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:১৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে

সিলেট টেস্টের প্রথম সেশনে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরি ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের ফিফটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা। প্রথম দিনের খেলা শেষে ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান তুলেছে ক্যারিবীয়রা। আলোকস্বল্পতায় আগেভাগেই শেষ হয়েছে দিনের খেলা।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম সেশনে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের পেস আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল ক্যারিবীয়রা। তবে চতুর্থ উইকেটে আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকহ্যামের ১৩১ রানের জুটি ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেয়।

দিন শেষে জাঙ্গু ১১১ ও জাস্টিন গ্রিভস ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৭৭ রান। এর আগে অভিষেকেই ফিফটি তুলে নিয়ে ৬১ রান করে ফিরেছেন উইকহ্যাম।

এর আগে এদিন দলে ফিরেই বল হাতে দারুণ প্রভাব রেখেছেন তাসকিন আহমেদ। ব্রেন্ডন কিংকে বোল্ড করে উইকেটের সূচনা করেন তিনি। পরে জশুয়া ডি সিলভাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। অন্যদিকে, দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে হজকে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ।

তাসকিনের দুই উইকেট ও হাসানের এক উইকেটে মাত্র ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এরপরই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জাঙ্গু ও অভিষিক্ত উইকহ্যাম। তাদের দৃঢ়তায় ২৬ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৮৬ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় সফরকারীরা।

লাঞ্চের পরও অবিচ্ছিন্ন থাকে এই জুটি। জাঙ্গু তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। ৬ টেস্টে এর আগে একবারই ৫০ ছাড়িয়েছিলেন তিনি, সেই ইনিংসে করেছিলেন ২৩৩ রান।

অন্যদিকে, অভিষেকেই ফিফটির দেখা পান উইকহ্যাম। চাপের মুখে তার এই ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। ৪১ ওভারে ১২৯/৩ স্কোরে পৌঁছানোর পর চতুর্থ উইকেটে শতরানের জুটি পূর্ণ করেন দুজন।

দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তি আসে হাসান মাহমুদের হাত ধরে। ৫১তম ওভারে উইকহ্যামকে বোল্ড করে ভাঙেন ১৩১ রানের জুটি। ৬১ রান করে ফেরেন অভিষিক্ত এই ব্যাটার। দ্বিতীয় সেশনে ৯৪ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল মাত্র একটি উইকেট। ফলে সেশনটি নিজেদের করে নেয় সফরকারীরাই।

চা বিরতির পর তৃতীয় সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতই সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যান জাঙ্গু। ৬০ ওভারে ২০৪/৪ স্কোরে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর ৬৫তম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। দারুণ এক ইনসাইড-আউট শটে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান জাঙ্গু। তার সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হলেও কিছুক্ষণ পর আবার শুরু হয়। তবে ৭০ ওভার শেষে ২৩৫/৪ স্কোরে পৌঁছানোর পর ফের আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ রাখেন আম্পায়াররা। শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের খেলা সেখানেই শেষ হয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৭০ ওভারে ২৩৫/৪

আমির জাঙ্গু ১১১*, জাস্টিন গ্রিভস ৩৫*, কেভিন উইকহ্যাম ৬১, জশুয়া ডি সিলভা ১২, ব্রেন্ডন কিং ৯।

বাংলাদেশের বোলিং: তাসকিন আহমেদ ২/৬১, হাসান মাহমুদ ২/৫৮।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে সিলেট টেস্টের প্রথম দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের

আপডেট সময়ঃ ০৫:১৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

সিলেট টেস্টের প্রথম সেশনে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরি ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের ফিফটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা। প্রথম দিনের খেলা শেষে ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান তুলেছে ক্যারিবীয়রা। আলোকস্বল্পতায় আগেভাগেই শেষ হয়েছে দিনের খেলা।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম সেশনে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের পেস আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল ক্যারিবীয়রা। তবে চতুর্থ উইকেটে আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকহ্যামের ১৩১ রানের জুটি ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেয়।

দিন শেষে জাঙ্গু ১১১ ও জাস্টিন গ্রিভস ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৭৭ রান। এর আগে অভিষেকেই ফিফটি তুলে নিয়ে ৬১ রান করে ফিরেছেন উইকহ্যাম।

এর আগে এদিন দলে ফিরেই বল হাতে দারুণ প্রভাব রেখেছেন তাসকিন আহমেদ। ব্রেন্ডন কিংকে বোল্ড করে উইকেটের সূচনা করেন তিনি। পরে জশুয়া ডি সিলভাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। অন্যদিকে, দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে হজকে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ।

তাসকিনের দুই উইকেট ও হাসানের এক উইকেটে মাত্র ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এরপরই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জাঙ্গু ও অভিষিক্ত উইকহ্যাম। তাদের দৃঢ়তায় ২৬ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৮৬ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় সফরকারীরা।

লাঞ্চের পরও অবিচ্ছিন্ন থাকে এই জুটি। জাঙ্গু তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। ৬ টেস্টে এর আগে একবারই ৫০ ছাড়িয়েছিলেন তিনি, সেই ইনিংসে করেছিলেন ২৩৩ রান।

অন্যদিকে, অভিষেকেই ফিফটির দেখা পান উইকহ্যাম। চাপের মুখে তার এই ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। ৪১ ওভারে ১২৯/৩ স্কোরে পৌঁছানোর পর চতুর্থ উইকেটে শতরানের জুটি পূর্ণ করেন দুজন।

দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তি আসে হাসান মাহমুদের হাত ধরে। ৫১তম ওভারে উইকহ্যামকে বোল্ড করে ভাঙেন ১৩১ রানের জুটি। ৬১ রান করে ফেরেন অভিষিক্ত এই ব্যাটার। দ্বিতীয় সেশনে ৯৪ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল মাত্র একটি উইকেট। ফলে সেশনটি নিজেদের করে নেয় সফরকারীরাই।

চা বিরতির পর তৃতীয় সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতই সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যান জাঙ্গু। ৬০ ওভারে ২০৪/৪ স্কোরে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর ৬৫তম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। দারুণ এক ইনসাইড-আউট শটে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান জাঙ্গু। তার সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হলেও কিছুক্ষণ পর আবার শুরু হয়। তবে ৭০ ওভার শেষে ২৩৫/৪ স্কোরে পৌঁছানোর পর ফের আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ রাখেন আম্পায়াররা। শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের খেলা সেখানেই শেষ হয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৭০ ওভারে ২৩৫/৪

আমির জাঙ্গু ১১১*, জাস্টিন গ্রিভস ৩৫*, কেভিন উইকহ্যাম ৬১, জশুয়া ডি সিলভা ১২, ব্রেন্ডন কিং ৯।

বাংলাদেশের বোলিং: তাসকিন আহমেদ ২/৬১, হাসান মাহমুদ ২/৫৮।