ইরানের তেল বাণিজ্যে সহায়তার অভিযোগে ভারত-তুরস্কে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- আপডেট সময়ঃ ০৬:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে

ইরানের তেল রপ্তানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন ভারতের এক দম্পতি, তাঁদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এবং তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠান।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চণ্ডীগড়ে বসবাসকারী সুনীল কুমার শর্মা ও তাঁর স্ত্রী জসপ্রীত প্রীতি শহীদ একটি বিস্তৃত অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত নয়টি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই দম্পতি গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসসহ কয়েকটি দেশের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে জাহাজের জন্য ভুয়া পতাকা ও সনদ ইস্যু করার অভিযোগ রয়েছে। এসব নথি ব্যবহার করে ইরানের তেল বহনকারী মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকারগুলোকে চলাচল অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়া হতো। এসব জাহাজের কয়েকটি ইরানের সামরিক বাহিনী ও দেশটির মিত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য কাজ করত বলেও দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০১৪ সাল থেকে এই কার্যক্রম চলছিল। বিভিন্ন দেশের সরকারি জাহাজ নিবন্ধন ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে নেটওয়ার্কটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত।
এ ছাড়া তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেসের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ইরানের কয়েকটি বিমান সংস্থাকে বিমানবন্দরে যাত্রী ও উড়োজাহাজ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সেবা দিত বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। এসব সংস্থার মধ্যে ইরান এয়ার ট্যুর ও সাহা এয়ারলাইনস রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জাহাজ চলাচল ও পরিবহন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভুয়া পতাকায় চলাচলকারী জাহাজের সঙ্গে ব্যবসা করার ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্ক করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, তেহরানকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হবে। পাশাপাশি সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য ইরানের তেল বিক্রির আয় বন্ধ করে দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের উৎস সংকুচিত করা। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের চলমান অভিযানের কারণে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দর নতুন করে তলানিতে নেমেছে এবং মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার এক দিন পর এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো।





















