ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

তিন মিনিটে দুই গোল দিয়েও ভারতের কাছে হারল পাকিস্তান

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

প্রথমার্ধে তিন গোলের লিড। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও পুরোপুরি হাতে। দেখে মনে হচ্ছিল, পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় দিয়েই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করতে যাচ্ছে ভারত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। যোগ করা সময়ে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ভারতকে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছিল পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৩-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

তবে শুরুর দাপটের সঙ্গে শেষের পারফরম্যান্সের কোনো মিল ছিল না ভারতের। এমনকি পাকিস্তান যদি একটি পেনাল্টি মিস না করতো, তাহলে হয়তো পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে পারতো তারা।

বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ভারত। প্রথমার্ধে তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।

কিন্তু বিরতির পর গোলের দেখা না পেলেও শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। যোগ করা সময়ের দুই গোলে ম্যাচে ফেরার আভাসও দিয়েছিল দলটি। তবে শেষ বাঁশি বেজে যাওয়ায় নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আর বাস্তব হয়নি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে পাকিস্তানকে চাপে রাখে ভারত। ১৩ মিনিটে মুহাম্মদ সুহাইলের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সুহাইল আহমেদ বাট। ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনিই। সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে অভিষেকের পাস পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বাট।

৩১ মিনিটে ভারতের তৃতীয় গোল। এবার নওশাদের পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন কিপগেন। তিন গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

৩৪ মিনিটে ভারতের বক্সে ঢুকে পড়েন মোহাম্মদ হায়ান ঘটক। তাকে ফাউল করেন অভিষেক। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে পারেননি শায়াক দোস্ত। তার নেওয়া শট চলে যায় পোস্টের বাইরে। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে পরিচিত মুখ শায়াক এবার খেলছেন সিটি ক্লাবের হয়ে। সেই পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।

প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ভারত। তখন মনে হচ্ছিল, ব্যবধান আরও বড় হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সেই আক্রমণাত্মক ধার আর ধরে রাখতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে গোলের ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তান। ম্যাচের শেষ দিকে তাদের আক্রমণের তীব্রতা বাড়ে, আর চাপে পড়ে ভারতীয় রক্ষণ।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়েই জমে ওঠে ম্যাচ। চতুর্থ মিনিটে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন পাকিস্তানের নাজীব উল্লাহ। তাতেও থামেনি পাকিস্তানের আক্রমণ। এক মিনিট পরই ব্যবধান ৩-২ করেন আলমগীর খান গাজী। আবদুল্লাহর ক্রস থেকে দুর্দান্ত সাইডভলিতে বল জালে পাঠান আলমগীর খান গাজী। তার শটে ভারতের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

দুই গোল হজমের পর ভারতের শিবিরে তখন স্বস্তির বদলে উদ্বেগ। অন্যদিকে পাকিস্তান শিবিরে জেগেছিল অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের আশা। কিন্তু দ্বিতীয় গোলের পরপরই রেফারির শেষ বাঁশি বেজে ওঠে। ফলে শেষ মুহূর্তের দুই গোলও হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি পাকিস্তানের।

তিন দলের গ্রুপে ড্র করতে পারলে সেমিফাইনালে ওঠার আশা জিইয়ে রাখতে পারত পাকিস্তান। কিন্তু হারের কারণে তাদের পরের পর্বে যাওয়ার সমীকরণ কঠিন হয়ে গেল। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে তারা। অন্যদিকে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও ভারতের জন্য এই ম্যাচের শেষ ভাগ সতর্কবার্তা হয়ে থাকল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

তিন মিনিটে দুই গোল দিয়েও ভারতের কাছে হারল পাকিস্তান

আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

প্রথমার্ধে তিন গোলের লিড। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও পুরোপুরি হাতে। দেখে মনে হচ্ছিল, পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় দিয়েই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করতে যাচ্ছে ভারত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। যোগ করা সময়ে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ভারতকে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছিল পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৩-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

তবে শুরুর দাপটের সঙ্গে শেষের পারফরম্যান্সের কোনো মিল ছিল না ভারতের। এমনকি পাকিস্তান যদি একটি পেনাল্টি মিস না করতো, তাহলে হয়তো পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে পারতো তারা।

বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ভারত। প্রথমার্ধে তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।

কিন্তু বিরতির পর গোলের দেখা না পেলেও শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। যোগ করা সময়ের দুই গোলে ম্যাচে ফেরার আভাসও দিয়েছিল দলটি। তবে শেষ বাঁশি বেজে যাওয়ায় নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আর বাস্তব হয়নি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে পাকিস্তানকে চাপে রাখে ভারত। ১৩ মিনিটে মুহাম্মদ সুহাইলের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সুহাইল আহমেদ বাট। ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনিই। সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে অভিষেকের পাস পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বাট।

৩১ মিনিটে ভারতের তৃতীয় গোল। এবার নওশাদের পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন কিপগেন। তিন গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

৩৪ মিনিটে ভারতের বক্সে ঢুকে পড়েন মোহাম্মদ হায়ান ঘটক। তাকে ফাউল করেন অভিষেক। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে পারেননি শায়াক দোস্ত। তার নেওয়া শট চলে যায় পোস্টের বাইরে। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে পরিচিত মুখ শায়াক এবার খেলছেন সিটি ক্লাবের হয়ে। সেই পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।

প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ভারত। তখন মনে হচ্ছিল, ব্যবধান আরও বড় হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সেই আক্রমণাত্মক ধার আর ধরে রাখতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে গোলের ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তান। ম্যাচের শেষ দিকে তাদের আক্রমণের তীব্রতা বাড়ে, আর চাপে পড়ে ভারতীয় রক্ষণ।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়েই জমে ওঠে ম্যাচ। চতুর্থ মিনিটে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন পাকিস্তানের নাজীব উল্লাহ। তাতেও থামেনি পাকিস্তানের আক্রমণ। এক মিনিট পরই ব্যবধান ৩-২ করেন আলমগীর খান গাজী। আবদুল্লাহর ক্রস থেকে দুর্দান্ত সাইডভলিতে বল জালে পাঠান আলমগীর খান গাজী। তার শটে ভারতের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

দুই গোল হজমের পর ভারতের শিবিরে তখন স্বস্তির বদলে উদ্বেগ। অন্যদিকে পাকিস্তান শিবিরে জেগেছিল অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের আশা। কিন্তু দ্বিতীয় গোলের পরপরই রেফারির শেষ বাঁশি বেজে ওঠে। ফলে শেষ মুহূর্তের দুই গোলও হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি পাকিস্তানের।

তিন দলের গ্রুপে ড্র করতে পারলে সেমিফাইনালে ওঠার আশা জিইয়ে রাখতে পারত পাকিস্তান। কিন্তু হারের কারণে তাদের পরের পর্বে যাওয়ার সমীকরণ কঠিন হয়ে গেল। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে তারা। অন্যদিকে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও ভারতের জন্য এই ম্যাচের শেষ ভাগ সতর্কবার্তা হয়ে থাকল।