বড় ভাইকে জোড়পূর্বক পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদে প্রাণনাশের হুমকি ধামকির অভিযোগ
- আপডেট সময়ঃ ১১:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর হেতেখা সবজি পাড়ায় পৈত্রিক সম্পত্তি জোড়পূর্বক নিজ দখলে নিতে ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী সঙ্গে নিয়ে ছোট ভাই কর্তৃক বড় ভাইকে হুমকি ধামকি ও লাঞ্চিতের ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়ে গত ২৩ জুলাই তিনজনের নাম উল্লেখপূর্বক আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানায় ভুক্তভোগী বড় ভাই কাজি মোহাম্মদ হুমায়ন কবির একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন, মৃত কাজি জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ও ভুক্তভোগীর ছোট ভাই এমরান কবির রোকন (৪৮), রানী বাজার এলাকার হাবিব খান (৫০) ও তার ছেলে হিমেল (২০) সহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জন।
থানায় দেয়া অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর দেয়া তথ্য মতে, ভুক্তভোগী হুমায়ন কবির গত ২৩ জুলাই বাড়ির সামনে নিজস্ব চেম্বারে একাই বসে থাকাবস্থায় তারই ছোট ভাই এমরান তিনটি ইজিবাইকে করে আট-দশজন বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে এনে জোড়পূর্বক বড় ভাই হুমায়ন কবিরকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে চুপচাপ চলে যেতে বলেন হুমায়ন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে নিজের অধিকার থেকে জোড়পূর্বক কেনো বঞ্চিত করা হচ্ছে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে হুমায়নকে।
বিষয়টি নিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তদের মধ্য থেকে একজন প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগী হুমায়নকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, চারটা মার্ডার করেছি, তোকে মারল পাঁচটা হবে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি আরোবেশি উত্তপ্তের দিকে অগ্ৰসর হবার সময় আসর নামাজ শেষে মসজিদ থেকে হুহু করে মুসল্লীরা বের হবার কারনে অভিযুক্তরা তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন, বলে থানায় করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে।
ভুক্তভোগী হুমায়ন কবির জানান, ১৯৮২ সালের দিকে বাবার মৃত্যুর পর ছোট ছোট চার ভাই চার বোনকে নিজে কর্ম করে বড় করেছি। কখনোই বাবার শূণ্যতা কখনোই বুঝতে দেয়নি। তারা বড় হয়ে কৌশলে ঈশ্বরদীতে থাকা দাদা ও বাবার সম্পত্তি আমাকে না জানিয়েই বিক্রি করে দিয়েছে। তাতেও আমি কিছু বলিনি। শহরের হেঁতেখা সবজি পাড়া এলাকায় থাকা মাত্র তিন কাঠা জমির মধ্যে ১২ ছটাক জমি আমার তিন ভাই ভোগ করছে বছরের পর বছর। আমি বাবার মৃত্যুর পর থেকে এখন অবদি মাত্র ১০ ফিট বাই সাত ফিট জায়গাতে ছোট্ট একটা চেম্বার করে সেখানে থাকছি। আমি হৃদরোগের একজন মানুষ। কয়েক মাস আগে টাকা পঁচিশ দিন আইসিইউ-তে ভর্তি ছিলাম। কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরেই এই অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটিয়েছে আমার ছোট ভাই এমরান ও আমার ভগ্নিপতি হাবিব সহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা কথা বললেই তারা সেটা মানতে চাননা। আমাকে জোড়পূর্বক এখান থেকে উচ্ছেদ করতে চাই তারা। আমি আইনের কাছে এর ন্যায়বিচার চাই, বলেন মি. হুমায়ন কবির।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এমরান কবির রোকনকে তার নিজস্ব মোবাইল নাম্বারে বেশকয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জানতে চাইলে থানায় করা অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মামুন বলেন, অভিযুক্তদের সাবধান করে দেয়া হয়েছে। তারা আর ঘটনাস্থল নিয়ে আর কোন ঝামেলা করবেনা।















