ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ | ই-পেপার

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে ১৩২ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ১৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। এমতাবস্থায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা।

কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভিস জানিয়েছে, চলতি শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।

সোমবারের (১১ আগস্ট) এ ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কালী, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেস। ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়।

দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালীতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা কংক্রিটের বড় বড় টুকরা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কালীতে অন্তত ২০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং আরও ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন।

কালী শহরের ৬৪ বছর বয়সি ট্যাক্সিচালক জর্জে মনকায়ো বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ভবনগুলো ধসে পড়ার সময় পুরো শহরজুড়ে ধুলোর মেঘ উঠতে দেখেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা আমার কখনো হয়নি। আমরা বেঁচে আছি— এ জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।’

আরেক বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস ওসোরিও কারাকোল টেলিভিশনকে বলেন, ভবন ধসে পড়ার শব্দ বোমা বিস্ফোরণের মতো শোনায়।

জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরই দেশটিতে এই ভয়াবহ দুর্যোগ আঘাত হানল। ফলে নতুন সরকারের সামনে এটি প্রথম বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সব জায়গায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকার তার সব সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।’

দে লা এস্প্রিয়েলা জানান, প্রাথমিক হিসাবে ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে পরবর্তী সময়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে ১৩২ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আপডেট সময়ঃ ১২:০১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ১৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। এমতাবস্থায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা।

কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভিস জানিয়েছে, চলতি শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।

সোমবারের (১১ আগস্ট) এ ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কালী, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেস। ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়।

দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালীতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা কংক্রিটের বড় বড় টুকরা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কালীতে অন্তত ২০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং আরও ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন।

কালী শহরের ৬৪ বছর বয়সি ট্যাক্সিচালক জর্জে মনকায়ো বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ভবনগুলো ধসে পড়ার সময় পুরো শহরজুড়ে ধুলোর মেঘ উঠতে দেখেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা আমার কখনো হয়নি। আমরা বেঁচে আছি— এ জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।’

আরেক বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস ওসোরিও কারাকোল টেলিভিশনকে বলেন, ভবন ধসে পড়ার শব্দ বোমা বিস্ফোরণের মতো শোনায়।

জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরই দেশটিতে এই ভয়াবহ দুর্যোগ আঘাত হানল। ফলে নতুন সরকারের সামনে এটি প্রথম বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সব জায়গায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকার তার সব সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।’

দে লা এস্প্রিয়েলা জানান, প্রাথমিক হিসাবে ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে পরবর্তী সময়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।