ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পান্থকুঞ্জের আপ-র্যাম্প চালুর নির্দেশ
- আপডেট সময়ঃ ১১:২৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পান্থকুঞ্জ পার্ক সংলগ্ন আপ-র্যাম্পের নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
বুধবার সেতু ভবনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্থায়ন এবং চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। সেতু ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
এ সময় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের নতুন অর্থায়ন, নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা এবং অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সেতু সচিব আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পান্থকুঞ্জ পার্ক সংলগ্ন আপ-র্যাম্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে তা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে চীনা প্রতিনিধিদলসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনাও দেন।
একই সঙ্গে প্রকল্পের অন্যান্য অবশিষ্ট কাজও দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন আবদুর রউফ। তিনি বলেন, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সুফল ঢাকাবাসীর কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে হলে নির্মাণকাজের গতি আরও বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রকল্প এলাকায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে প্রকল্পের অর্থায়ন পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রকল্পের সার্বিক অর্থায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে চীনা প্রতিনিধিদল জানায়, অর্থায়ন কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ প্রক্রিয়া বেগবান করতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তারা আরও জানায়, বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে চীনের শ্যানডং প্রদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ব্যাংক ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এদিকে, এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিতে আরএফআইডি-ভিত্তিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে। এ ব্যবস্থা দ্রুত চালু করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের জন্য চীনা প্রতিনিধিদলকে অনুরোধ জানানো হয়।
সেতু সচিব প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত ও পরিচালনাগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে একটি সুস্পষ্ট ও সময়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
নির্মাণকাজ চলাকালে প্রকল্প এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার তাগিদও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত পিপিপি প্রকল্প। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কাওলা) থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মূল উড়ালসড়কের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার এবং ওঠানামার সংযোগকারী র্যাম্পসহ প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। রাজধানীর সড়কপথের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং এফডিইইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















