ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাজ্য

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের উন্নয়নে বড় আকারের বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। পর্যটন বিষয়ে নিজেদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় দেশটি বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক খাতকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশে যুক্তরাজ্য ভূমিকা রাখতে চায়। এতে দুই দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হবে।

‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এবং বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পর্যালোচনার লক্ষ্যে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও ব্যবসায়ী, বিমান চলাচল, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

‘মানা বে’ এবং ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ’ (আইএইচজি)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সারাহ কুক বলেন, তৈরি পোশাক, অবকাঠামো ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সম্ভাবনাময় চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, রন্ধনশিল্প ও আতিথেয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’

বাংলাদেশ ভ্রমণের নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, সিলেটের চা-বাগান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কক্সবাজার এবং দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চমৎকার উদাহরণ।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে পর্যটন খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও পর্যটন সহায়ক।

পর্যটনের সঙ্গে বিমান চলাচল খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, কোনো পর্যটকের অভিজ্ঞতা হোটেল, রিসোর্ট কিংবা পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর শুরু হয় না; বরং তার অনেক আগেই সেটি শুরু হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শুরু হয় যখন তারা ফ্লাইটের টিকিট কাটেন, বিমানবন্দরে নামেন, ইমিগ্রেশন পার হন এবং নতুন একটি দেশকে প্রথমবারের মতো দেখেন।’

এ প্রসঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে বিনিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এর ফলে যাত্রীসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মানা বে ওয়াটার পার্ক এবং সম্প্রতি চালু হওয়া ৯৫ কক্ষের ‘মানা বে রিসোর্ট’ নির্মাণে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু অবকাঠামোগত বিনিয়োগই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, যার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে পর্যটন, আতিথেয়তা ও বিমান চলাচল খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে বড় ধরনের সুযোগ রয়েছে।’

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ এবং ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তাঁর মতে, এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাজ্য

আপডেট সময়ঃ ০৭:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের উন্নয়নে বড় আকারের বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। পর্যটন বিষয়ে নিজেদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় দেশটি বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক খাতকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশে যুক্তরাজ্য ভূমিকা রাখতে চায়। এতে দুই দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হবে।

‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এবং বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পর্যালোচনার লক্ষ্যে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও ব্যবসায়ী, বিমান চলাচল, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

‘মানা বে’ এবং ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ’ (আইএইচজি)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সারাহ কুক বলেন, তৈরি পোশাক, অবকাঠামো ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সম্ভাবনাময় চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, রন্ধনশিল্প ও আতিথেয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’

বাংলাদেশ ভ্রমণের নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, সিলেটের চা-বাগান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কক্সবাজার এবং দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চমৎকার উদাহরণ।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে পর্যটন খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও পর্যটন সহায়ক।

পর্যটনের সঙ্গে বিমান চলাচল খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, কোনো পর্যটকের অভিজ্ঞতা হোটেল, রিসোর্ট কিংবা পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর শুরু হয় না; বরং তার অনেক আগেই সেটি শুরু হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শুরু হয় যখন তারা ফ্লাইটের টিকিট কাটেন, বিমানবন্দরে নামেন, ইমিগ্রেশন পার হন এবং নতুন একটি দেশকে প্রথমবারের মতো দেখেন।’

এ প্রসঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে বিনিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এর ফলে যাত্রীসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মানা বে ওয়াটার পার্ক এবং সম্প্রতি চালু হওয়া ৯৫ কক্ষের ‘মানা বে রিসোর্ট’ নির্মাণে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু অবকাঠামোগত বিনিয়োগই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, যার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে পর্যটন, আতিথেয়তা ও বিমান চলাচল খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে বড় ধরনের সুযোগ রয়েছে।’

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ এবং ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তাঁর মতে, এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।