কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবার ট্যাবু ভাঙতে হবে, দ্রুত কাজে যেতে চাই: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময়ঃ ০৩:০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে

কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের নির্ভয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং কাউন্সেলিং নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আলোচনা ও নীতিগত অঙ্গীকারে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সম্মেলনের আয়োজন করে সেরাক-বাংলাদেশ।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রতি পাঁচজনের একজন কিশোর-কিশোরী। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে সুস্থ ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ডিজিটাল সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ নীতিগত গুরুত্ব দিতে হবে।
কৈশোরে শারীরিক পরিবর্তন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কৌতূহল স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার কারণে অনেক কিশোর-কিশোরী প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য কোথায় যাবে বা কার কাছে জানতে চাইবে, তা বুঝতে পারে না। অন্যদিকে মানসিক আঘাত ও পারিবারিক নির্যাতন তাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। এসব সমস্যা চেপে রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রশ্ন করলেই সন্তানদের ‘বেয়াদব’ বা ‘এঁচোড়ে পাকা’ আখ্যা দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে হবে এবং তাদের প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষায় পরিবার সবচেয়ে বড় সহায়। তাই এ-সংক্রান্ত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ হতে হবে পরিবারকেন্দ্রিক।
কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে বড় পরিসরে জাতীয় প্রচারাভিযান শুরু হবে।
তিনি বলেন, দেশের সব এলাকার সমস্যা এক রকম নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বাল্যবিয়ে ও পারিবারিক সহিংসতার হটস্পট চিহ্নিত করতে হবে। এসব এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কিশোর-কিশোরীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সঠিক পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস না থাকায় তরুণদের অনেকে তথ্য জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা পেতে প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিবাচক হলেও একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
তরুণদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ও বিশ্বস্ত স্বাস্থ্যতথ্য সহজলভ্য করতে সরকার একটি গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়ে কাজ করছে বলেও জানান।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বেঞ্জামিন রিয়াজী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসীন। সঞ্চালনা করেন সেরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত। আরও বক্তব্য দেন যুব প্রতিনিধি আতিকা রহমান চৌধুরী ও কিশোর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।



















