ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১ বার পড়া হয়েছে

নিজের সন্তানদের সুস্থ ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই কেবল নিজের এলাকা নয়, পুরো ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।’

ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার সমাধান এক দিন বা সাত দিনে সম্ভব নয়। তবে আন্তরিকতা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।’

নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সময় সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে দায়িত্বশীল হলে নগরীর পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব।

লন্ডনের উদাহরণ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে সেখানকার অনেক এলাকাও অপরিচ্ছন্ন ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে শহরটির পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকেই হয়তো বিদেশের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর দেখেছেন। দেশে ফিরে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, আমাদের শহরটা যদি এমন হতো! কিন্তু সেই আফসোস করে বসে থাকলে হবে না। নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।’

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তাঁকে জানিয়েছেন, আগের তুলনায় ঢাকার পরিচ্ছন্নতা কিছুটা বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বলেছেন, কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।’

নগরীর সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান তিনি। কোথাও সড়ক বিভাজক নির্মাণ, কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের উন্নয়নের মতো উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।’

এর আগে নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আবহাওয়া, ভূমিকম্প, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস ও বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যও দেখেন তিনি।

এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও চিত্র দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময়ঃ ০৩:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নিজের সন্তানদের সুস্থ ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই কেবল নিজের এলাকা নয়, পুরো ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।’

ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার সমাধান এক দিন বা সাত দিনে সম্ভব নয়। তবে আন্তরিকতা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।’

নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সময় সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে দায়িত্বশীল হলে নগরীর পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব।

লন্ডনের উদাহরণ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে সেখানকার অনেক এলাকাও অপরিচ্ছন্ন ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে শহরটির পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকেই হয়তো বিদেশের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর দেখেছেন। দেশে ফিরে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, আমাদের শহরটা যদি এমন হতো! কিন্তু সেই আফসোস করে বসে থাকলে হবে না। নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।’

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তাঁকে জানিয়েছেন, আগের তুলনায় ঢাকার পরিচ্ছন্নতা কিছুটা বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বলেছেন, কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।’

নগরীর সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান তিনি। কোথাও সড়ক বিভাজক নির্মাণ, কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের উন্নয়নের মতো উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।’

এর আগে নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আবহাওয়া, ভূমিকম্প, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস ও বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যও দেখেন তিনি।

এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও চিত্র দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান।