ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকে চলছে পাঠদান কার্যক্রম

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৩৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বর্তমানে দেশে বড়সংখ্যক শিক্ষকেরই বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন), এমএড (মাস্টার অব এডুকেশন) এবং সিএডের (সার্টিফিকেট অব এডুকেশন) মতো শিক্ষকতার ফাউন্ডেশনমূলক প্রশিক্ষণ নেই। সারাদেশে শিক্ষার মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৪১ শতাংশ শিক্ষকেরই প্রশিক্ষণ নেই। আর এক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষকদের দুরবস্থা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশে সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া সব পর্যায়ের শিক্ষক মিলিয়ে আড়াই লাখ শিক্ষকই পাঠদান করছে প্রশিক্ষণ ছাড়া। সমপ্রতি বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ৩ লাখ চার হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষক ছিল। তার মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৩০ জন পুরুষ এবং ৯৯ হাজার ১৬ জন নারী শিক্ষক ছিলো। আর মোট শিক্ষকের ৫৯.৪৮ শতাংশের প্রশিক্ষণ রয়েছে। তার মধ্যে পুরুষ ৬২.৭০ শতাংশ এবং নারী ৫২.৭৯ শতাংশ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ রয়েছে। আর নারী ও পুরষ মিলে প্রশিক্ষণ নেই ৪১ শতাংশ শিক্ষকের। মাউশি এবং ব্যানবেইস সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিগত ২০২৪ সালে শিক্ষকের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৯৩ হাজার ২৮৯ জন। তার মধ্যে ৯২ হাজার ৪৯২ জন ছিলেন নারী শিক্ষক। কিন্তু মোট শিক্ষকের মধ্যে ৬৬.১ শতাংশ বা এক লাখ ৯৩ হাজার ৮৫১ জন প্রশিক্ষিত ছিলেন। তার মধ্যে নারী শিক্ষকের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৫৫ হাজার ৪৯২ জন প্রশিক্ষিত ছিলেন। তাছাড়া বিগত ২০২৫ সালে দেশে মাদরাসা শিক্ষকের সংখ্যা এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা ১০ থেকে ১২ শতাংশ। আর বিগত ২০২৪ সালে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ছিল এক লাখ ২৮ হাজার ৫২২ জন। তখন মোট শিক্ষকের মাত্র ৯.১৯ শতাংশ প্রশিক্ষিত ছিল।

সূত্র জানায়, দেশে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার ১৫১। তার মধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নেই। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নেই স্বল্পসংখ্যক শিক্ষকের। সব মিলিয়ে ফাউন্ডেশন ট্রেনিং ছাড়াই আড়াই লাখ শিক্ষক পাঠদান করছে। আর বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের সংখ্যা হিসাব করা হলে প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়াবে দ্বিগুণেরও বেশি। মূলত দেশে উল্টোভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদেশে আগে শিক্ষক নিয়োগ হয় এবং তারপর তারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। কিন্তু প্রশিক্ষণের নির্দিষ্ট সময় ও বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেকেই তা গ্রহণ করে না। ফলে শিক্ষকতার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকা ব্যক্তিরাও শিক্ষক হয়ে যাচ্ছে। আর তারা সঠিকভাবে পাঠদান করতে না পারায় উন্নত হচ্ছে না শিক্ষার মান। তাছাড়া এদেশের বেশির ভাগ স্কুলই বেসরকারি। ওসব এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ওসব শিক্ষক শিক্ষক নিয়োগ দিলেও তা শিক্ষকতার প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

সূত্র আরো জানায়, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিখন ঘাটতি দূর করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জন শিক্ষককে বিভিন্ন মেয়াদে এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নবীন শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নেতৃত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সমন্বিত শিক্ষা, গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এরই মধ্যে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছে। বর্তমানে আরো দুই হাজার ২৬০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। দেশের ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ওই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যদিও ওই প্রশিক্ষণ ফাউন্ডেশন কোর্স নয়।

এদিকে এখনো দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদা পায়। অথচ সরকারি বেশির ভাগ চাকরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান চাওয়া হলে তাদের পদমর্যাদা সাধারণত দ্বিতীয় শ্রেণির থাকে এবং ১০ম বা ১১তম গ্রেডে বেতন পায়। কিন্তু ব্যতিক্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের চাওয়া হলেও চাকরি তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদায় রয়েছে। আর প্রশিক্ষণবিহীন অবস্থায় ১৪তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলে ১৩তম গ্রেডে বেতন পায়। দেশের সাড়ে ৩ লাখ সহকারী শিক্ষকের মধ্যে এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। যদিও প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের দাবিতে আন্দোলন করছে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী জানান, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই, এমনকি ভারতেও প্রশিক্ষণের শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। এদেশেও ওই ব্যবস্থা চালু হলে প্রার্থীরা নিজ গরজেই প্রশিক্ষণ নেবেন। এখন এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। ফলে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন যাদের প্রশিক্ষণ নেই তাদের প্রশিক্ষণ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান যাতে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার করে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকে চলছে পাঠদান কার্যক্রম

আপডেট সময়ঃ ০৩:৩৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বর্তমানে দেশে বড়সংখ্যক শিক্ষকেরই বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন), এমএড (মাস্টার অব এডুকেশন) এবং সিএডের (সার্টিফিকেট অব এডুকেশন) মতো শিক্ষকতার ফাউন্ডেশনমূলক প্রশিক্ষণ নেই। সারাদেশে শিক্ষার মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৪১ শতাংশ শিক্ষকেরই প্রশিক্ষণ নেই। আর এক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষকদের দুরবস্থা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশে সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া সব পর্যায়ের শিক্ষক মিলিয়ে আড়াই লাখ শিক্ষকই পাঠদান করছে প্রশিক্ষণ ছাড়া। সমপ্রতি বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ৩ লাখ চার হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষক ছিল। তার মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৩০ জন পুরুষ এবং ৯৯ হাজার ১৬ জন নারী শিক্ষক ছিলো। আর মোট শিক্ষকের ৫৯.৪৮ শতাংশের প্রশিক্ষণ রয়েছে। তার মধ্যে পুরুষ ৬২.৭০ শতাংশ এবং নারী ৫২.৭৯ শতাংশ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ রয়েছে। আর নারী ও পুরষ মিলে প্রশিক্ষণ নেই ৪১ শতাংশ শিক্ষকের। মাউশি এবং ব্যানবেইস সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিগত ২০২৪ সালে শিক্ষকের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৯৩ হাজার ২৮৯ জন। তার মধ্যে ৯২ হাজার ৪৯২ জন ছিলেন নারী শিক্ষক। কিন্তু মোট শিক্ষকের মধ্যে ৬৬.১ শতাংশ বা এক লাখ ৯৩ হাজার ৮৫১ জন প্রশিক্ষিত ছিলেন। তার মধ্যে নারী শিক্ষকের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৫৫ হাজার ৪৯২ জন প্রশিক্ষিত ছিলেন। তাছাড়া বিগত ২০২৫ সালে দেশে মাদরাসা শিক্ষকের সংখ্যা এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তার মধ্যে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা ১০ থেকে ১২ শতাংশ। আর বিগত ২০২৪ সালে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ছিল এক লাখ ২৮ হাজার ৫২২ জন। তখন মোট শিক্ষকের মাত্র ৯.১৯ শতাংশ প্রশিক্ষিত ছিল।

সূত্র জানায়, দেশে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার ১৫১। তার মধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নেই। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নেই স্বল্পসংখ্যক শিক্ষকের। সব মিলিয়ে ফাউন্ডেশন ট্রেনিং ছাড়াই আড়াই লাখ শিক্ষক পাঠদান করছে। আর বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের সংখ্যা হিসাব করা হলে প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়াবে দ্বিগুণেরও বেশি। মূলত দেশে উল্টোভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদেশে আগে শিক্ষক নিয়োগ হয় এবং তারপর তারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। কিন্তু প্রশিক্ষণের নির্দিষ্ট সময় ও বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেকেই তা গ্রহণ করে না। ফলে শিক্ষকতার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকা ব্যক্তিরাও শিক্ষক হয়ে যাচ্ছে। আর তারা সঠিকভাবে পাঠদান করতে না পারায় উন্নত হচ্ছে না শিক্ষার মান। তাছাড়া এদেশের বেশির ভাগ স্কুলই বেসরকারি। ওসব এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ওসব শিক্ষক শিক্ষক নিয়োগ দিলেও তা শিক্ষকতার প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

সূত্র আরো জানায়, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিখন ঘাটতি দূর করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জন শিক্ষককে বিভিন্ন মেয়াদে এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নবীন শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নেতৃত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সমন্বিত শিক্ষা, গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এরই মধ্যে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছে। বর্তমানে আরো দুই হাজার ২৬০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। দেশের ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ওই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যদিও ওই প্রশিক্ষণ ফাউন্ডেশন কোর্স নয়।

এদিকে এখনো দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদা পায়। অথচ সরকারি বেশির ভাগ চাকরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান চাওয়া হলে তাদের পদমর্যাদা সাধারণত দ্বিতীয় শ্রেণির থাকে এবং ১০ম বা ১১তম গ্রেডে বেতন পায়। কিন্তু ব্যতিক্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের চাওয়া হলেও চাকরি তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদায় রয়েছে। আর প্রশিক্ষণবিহীন অবস্থায় ১৪তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলে ১৩তম গ্রেডে বেতন পায়। দেশের সাড়ে ৩ লাখ সহকারী শিক্ষকের মধ্যে এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। যদিও প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের দাবিতে আন্দোলন করছে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী জানান, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই, এমনকি ভারতেও প্রশিক্ষণের শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। এদেশেও ওই ব্যবস্থা চালু হলে প্রার্থীরা নিজ গরজেই প্রশিক্ষণ নেবেন। এখন এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। ফলে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন যাদের প্রশিক্ষণ নেই তাদের প্রশিক্ষণ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান যাতে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার করে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।