ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ | ই-পেপার

দিল্লি ফেরত হাইকমিশনারকে নিয়ে দুই উপদেষ্টার বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ০২:১০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২১৫ বার পড়া হয়েছে

ভারতের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনার লক্ষ্যে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে নিয়ে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক শেষে দুপুর ১২টার আগেই নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা একসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান।

অন্যদিকে, হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপদেষ্টাদের আগেই মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হন। প্রায় আধঘণ্টা ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরে তিনজনের মধ্যে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জানান, বিভিন্ন সময় হাইকমিশনারদের ঢাকায় ডেকে এনে আলোচনা করা হয়। তবে তিনি আলোচনার বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও মন্ত্রণালয় ত্যাগের সময় গণমাধ্যমের সামনে এ বৈঠক নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সোমবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ঢাকায় তলব করে।

সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ও ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ সময় ভারতের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন হামলা চালায়, যার পর কেন্দ্রটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনেও হামলার ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনার জেরে ঢাকা ও দিল্লিতে দুই দেশের হাইকমিশনারদের একে অপরকে তলব করার ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় দেশ দুই দফায় পরস্পরের কূটনীতিকদের তলব করে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানায়।

সবশেষ, গত ২৩ ডিসেম্বর সকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হলে এর প্রতিক্রিয়ায় একই দিন বিকেলে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে। একই দিনে দুই দেশের দূতকে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লি ফেরত হাইকমিশনারকে নিয়ে দুই উপদেষ্টার বৈঠক

আপডেট সময়ঃ ০২:১০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনার লক্ষ্যে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে নিয়ে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক শেষে দুপুর ১২টার আগেই নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা একসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান।

অন্যদিকে, হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপদেষ্টাদের আগেই মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হন। প্রায় আধঘণ্টা ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরে তিনজনের মধ্যে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জানান, বিভিন্ন সময় হাইকমিশনারদের ঢাকায় ডেকে এনে আলোচনা করা হয়। তবে তিনি আলোচনার বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও মন্ত্রণালয় ত্যাগের সময় গণমাধ্যমের সামনে এ বৈঠক নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সোমবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ঢাকায় তলব করে।

সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ও ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ সময় ভারতের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন হামলা চালায়, যার পর কেন্দ্রটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনেও হামলার ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনার জেরে ঢাকা ও দিল্লিতে দুই দেশের হাইকমিশনারদের একে অপরকে তলব করার ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় দেশ দুই দফায় পরস্পরের কূটনীতিকদের তলব করে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানায়।

সবশেষ, গত ২৩ ডিসেম্বর সকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হলে এর প্রতিক্রিয়ায় একই দিন বিকেলে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে। একই দিনে দুই দেশের দূতকে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।