ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ | ই-পেপার

রৌমারী সীমান্তে ‘পুশইন’ চেষ্টার অভিযোগ, বিজিবি ও স্থানীয়দের অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফ

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০ টার পর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত রৌমারী উপজেলার ঝাউবাড়ী ও খেয়ারচর সীমান্ত এলাকায় কয়েক দফা এ ধরনের তৎপরতা চালায় বিএসএফ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) অধীন রৌমারী সীমান্তের ঝাউবাড়ী ও খেয়ারচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিএসএফের তৎপরতার তথ্য পাওয়া যায়। মেইন পিলার ১০৬৮ থেকে ১০৭১ নম্বর পিলার পর্যন্ত ভারতের ১৮৩ বিএসএফ সদরটিলা ক্যাম্পের সদস্যরা কয়েকজন বাংলা ভাষাভাষী ভারতীয় নাগরিককে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে আসে বলে জানা যায়।

সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ায় বিজিবি। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা ও লাইট হাতে নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেন।

খেয়ারচর এলাকার ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শনিবার ও রোববার রাতে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের আলোকসজ্জা বন্ধ করে কিছু মানুষকে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও এলাকাবাসীর শক্ত অবস্থানের কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

খেয়ারচর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার বশির আহমেদ বলেন, শনিবার ও রোববার রাতের পাশাপাশি সোমবার সকালেও বিএসএফ কয়েকজন বাংলা ভাষাভাষী ব্যক্তিকে খেয়ারচর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের মুখে তারা সরে যেতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্তে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রৌমারী সীমান্তে ‘পুশইন’ চেষ্টার অভিযোগ, বিজিবি ও স্থানীয়দের অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফ

আপডেট সময়ঃ ০৮:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০ টার পর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত রৌমারী উপজেলার ঝাউবাড়ী ও খেয়ারচর সীমান্ত এলাকায় কয়েক দফা এ ধরনের তৎপরতা চালায় বিএসএফ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) অধীন রৌমারী সীমান্তের ঝাউবাড়ী ও খেয়ারচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিএসএফের তৎপরতার তথ্য পাওয়া যায়। মেইন পিলার ১০৬৮ থেকে ১০৭১ নম্বর পিলার পর্যন্ত ভারতের ১৮৩ বিএসএফ সদরটিলা ক্যাম্পের সদস্যরা কয়েকজন বাংলা ভাষাভাষী ভারতীয় নাগরিককে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে আসে বলে জানা যায়।

সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ায় বিজিবি। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা ও লাইট হাতে নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেন।

খেয়ারচর এলাকার ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শনিবার ও রোববার রাতে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের আলোকসজ্জা বন্ধ করে কিছু মানুষকে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও এলাকাবাসীর শক্ত অবস্থানের কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

খেয়ারচর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার বশির আহমেদ বলেন, শনিবার ও রোববার রাতের পাশাপাশি সোমবার সকালেও বিএসএফ কয়েকজন বাংলা ভাষাভাষী ব্যক্তিকে খেয়ারচর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের মুখে তারা সরে যেতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্তে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।