“এক রাতের বৃষ্টিতে ফের অচল চট্টগ্রাম”
- আপডেট সময়ঃ ০৭:০৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / ১০ বার পড়া হয়েছে
২৪ ঘণ্টায় ১৩৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি; ফের তলিয়ে নিচু এলাকা, স্থগিত শিক্ষা কার্যক্রম—দুর্ভোগে লাখো মানুষ, প্রশ্নে জলাবদ্ধতা নিরসনের কার্যকারিতা
রিপন চৌধুরী :
মাত্র দুই দিনের স্বস্তি কাটতেই আবারও ভারী বর্ষণে হাঁটুপানিতে ডুবে গেল চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সড়ক। ২৪ ঘণ্টায় ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন করে জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রমও স্থগিত করেছে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রতি বছর একই চিত্র কেন? কোটি কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও কেন এক পশলা ভারী বৃষ্টিতে অচল হয়ে পড়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী?
সরেজমিনে দেখা যায়, নিচু এলাকাগুলোতে সড়কে হাঁটুপানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষকে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়েছে। অনেক এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেয়। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, সুযোগ বুঝে অনেক চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে নতুন করে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই একই এলাকায় পানি জমে থাকে। খাল, নালা ও ড্রেনের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে সামান্য ভারী বর্ষণেই নগরজীবন স্থবির হয়ে পড়ে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে ২৪ ঘণ্টায় ১৩৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সোমবার থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমবে। তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাব কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের জন্য জারি করা ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবুও টানা বৃষ্টির কারণে নগরের জলাবদ্ধতার সংকট পুরোপুরি কাটেনি।
গত সপ্তাহেই জুলাই মাসে এক দিনে গত ৪৩ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল চট্টগ্রামে। তখন আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, পতেঙ্গা, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও চান্দগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দুই দিন পানি কিছুটা নেমে গেলেও নতুন করে ভারী বর্ষণে আবারও সেই দুর্ভোগ ফিরে এসেছে।
এদিকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, জেলার সবচেয়ে বেশি পানিবন্দি মানুষ রয়েছে সাতকানিয়ায়—৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া বাঁশখালীতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ এখনো বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ড্রেন পরিষ্কার বা খাল খনন নয়; সমন্বিত নগর পরিকল্পনা, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ, দখলমুক্ত খাল এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাই পারে চট্টগ্রামকে বারবারের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।























