সিডিএতে ইমারত পরিদর্শক নিয়োগে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
রিপন চৌধুরী বিশেষ প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ইমারত পরিদর্শক পদে সাম্প্রতিক নিয়োগকে ঘিরে প্রশাসনিক ও আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভে ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত উল্লেখ থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে যে কয়েকজন কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিলেন একাধিক চাকরিপ্রার্থী। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে সিডিএ বোর্ডে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, বোর্ডে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বছরের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১৮ জন ইমারত পরিদর্শক নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়।
সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—
উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে;
স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভে ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে;
সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ না করা কয়েকজন আবেদনকারী আবেদন করেন, পরীক্ষায় অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত নিয়োগও পান।
গত ২৫ জানুয়ারি ১৪ জন পরীক্ষার্থী চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা কিছু আবেদনকারীকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তাঁদের আবেদন বিবেচনায় না নিয়েই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সিডিএ বোর্ডে ওঠে। বোর্ডসভায় কয়েকজন নিয়োগপ্রাপ্তের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
তবে বোর্ডসভার কার্যবিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিও স্পষ্ট নয়।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
প্রশাসনিক সূত্রগুলো ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিলেও আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ না হওয়ায় বিভ্রান্তি কাটেনি।
কিছু সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে নিয়োগবিধি সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এমন উদ্যোগ থাকলেও তা বর্তমান নিয়োগের আইনগত অবস্থানকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, সে বিষয়ে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগের সময় যে বিধি কার্যকর ছিল, তার আলোকে নিয়োগের বৈধতা মূল্যায়ন করতে হবে। পরবর্তীকালে বিধি পরিবর্তন হলে সেটি পূর্ববর্তী নিয়োগে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো ও সিদ্ধান্তের ওপর।
সিডিএ জাতীয়তাবাদী দল সিবিএর সভাপতি ফয়েজ আহম্মদ বলেন,
“সিডিএর ইতিহাসে এসএসসি পাস করে ইমারত পরিদর্শক নিয়োগের নজির নেই। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
তিনি আরও দাবি করেন, নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনকে চাকরি স্থায়ী হওয়ার আগেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সিডিএর অর্থ ও প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) নুরুল্লা নুরী এর আগে বলেছিলেন,
“যদি কোনো প্রার্থীর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকে, তাহলে বিষয়টি যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাঁর হালনাগাদ বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।
একইভাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিডিএ চেয়ারম্যান এবং সিডিএ সচিবের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
জনপ্রশাসন ও নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নিয়োগে বিজ্ঞপ্তির শর্ত সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যদি অভিযোগ সত্য হয় যে যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেও কেউ নিয়োগ পেয়েছেন, তাহলে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। আবার অভিযোগ সঠিক না হলে সেটিও নথির মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
আবেদন যাচাইয়ের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল? অভিযোগ পাওয়ার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন থামানো হয়নি? বোর্ডসভার সিদ্ধান্তের বর্তমান অবস্থা কী? পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করা হবে কি? অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্ত হবে কি? বিশ্লেষকদের মতে, এ বিতর্ক নিরসনে নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি, বোর্ডসভার সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে এবং সরকারি নিয়োগব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় থাকবে।























