ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ | ই-পেপার

পার্বত্য এলাকায় ১৫ দিনে হাম রোগের৭ শিশুর মৃত্যু, হাসাপাতালে ভর্তি ৪১

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ জুয়েল হোসাইন, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বান্দরবান সদর হাসপাতাল দূর্গম এলাকায় থানচি,রোয়াংছড়ি,
রুমায় পাহাড়ের নিরীহ অসহায় হাম রোগী ভোগান্তি শিশুদেরকে দেখতে যাই পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক,থানজামা লুসাই এবং জেলা পরিষদে সদস্য ডা,সানাই প্রু।

এসময় পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই তিনি বলেন, হাম রোগ আক্রান্ত বাচ্চাদের চিকিৎসা বিষয়ে সদর হাসপাতাল কর্মরত ডা,নার্সদের কে বলা হয় পাহাড় দূর্গম এলাকায় থেকে হাসপাতালে ভর্তি যে শিশুর ভর্তি জন্য আসবে তাদেরকে এই হাম রোগ যতই ধরনের চিকিৎসক আছে ঔষধ বা,ট্রিটমেন্ট প্রয়োজনে চিকিৎসার দেবার জন্য বিশেষ ভাবেই বলা হলো প্রয়োজনীয় চিকিৎসক বিষয়ে চেয়ারম্যান কাছে অবগত করতে বলেছেন।

এদিকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম লেতং খুমী পাড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পার্বত্য এলাকায় উপজেলায় ১৫ দিনে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৭জনের দাঁড়িয়েছে।

একই উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন এবং বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জনসহ মোট ৪১ জন শিশু চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী মৃত শিশুরা হলো, ফ্রেলেএং খুমী (৫), খ্রেপা খুমী (১১), শইফ্রা খুমী (৫), প্রেটেম এং খুমী (৬), পলিএং খুমী (৯), প্রেটেমএং খুমী (৭), পও এং খুমী (৭) এবং কুপাও ম্রো (১৩)।

এদিকে, লেতং খুমী পাড়ায় দুই শিশুর মৃতুর পর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে লেতং খুমী পাড়ায় শিশুদের ভ্যাকসিন দিতে যান উপজেলা ইউনিসেফের ভ্যাকসিনেটর উ থোয়াই সিং মারমা।

তিনি বলেন, “লেতং খুমী পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ঘরেই শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে। অনেক পরিবার আধুনিক চিকিৎসার পরিবর্তে গাছ-গাছড়া ও ভেষজ চিকিৎসার ওপর নির্ভর করছে।”

রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লেতং খুমী পাড়া অত্যন্ত দুর্গম। মোটরসাইকেলে একটি নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত যাওয়ার পর আরও তিন থেকে চার ঘণ্টা পাহাড়ি পথ ও ঝিরিপথ পায়ে হেঁটে সেখানে পৌঁছাতে হয়।

যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক বা মেডিক্যাল টিম পৌঁছাতে পারে না। ফলে অসুস্থ শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। দারিদ্র্যের কারণেও অনেক পরিবার সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনা।

বান্দরবানের জেলা সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহিন হোসাইন চৌধুরী মঙ্গলবার জানান, গত শনিবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে লেতং খুমী পাড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই দুইজন স্বাস্থ্যকর্মী ও একজন ভ্যাকসিনেটরকে সেখানে পাঠানো হয়। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সম্প্রতি মারা যাওয়া শিশুদের শরীরে হামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ দেখতে পান।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, “গত ৩ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৯ জন শিশু রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ  করা হয়েছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।”

তিনি বলেন, “যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা বাড়িতে অথবা হাসপাতালে আনার পথে মারা গেছে। দুর্গম এলাকায় হামের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় রোগীদের হাসপাতালে আনা এবং শিশুদের টিকাদানে উদ্বুদ্ধ করার কার্যক্রম চলছে।”

জেলা সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহিন হোসাইন চৌধুরী তিনি জানান, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গে কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি। যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতে অথবা হাসপাতালে আনার পথেই মারা গেছে। 

তিনি আরও জানান, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। রোগী শনাক্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং টিকাদান কর্মসূচিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এ কাজে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পার্বত্য এলাকায় ১৫ দিনে হাম রোগের৭ শিশুর মৃত্যু, হাসাপাতালে ভর্তি ৪১

আপডেট সময়ঃ ০৮:০৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মোঃ জুয়েল হোসাইন, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বান্দরবান সদর হাসপাতাল দূর্গম এলাকায় থানচি,রোয়াংছড়ি,
রুমায় পাহাড়ের নিরীহ অসহায় হাম রোগী ভোগান্তি শিশুদেরকে দেখতে যাই পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক,থানজামা লুসাই এবং জেলা পরিষদে সদস্য ডা,সানাই প্রু।

এসময় পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই তিনি বলেন, হাম রোগ আক্রান্ত বাচ্চাদের চিকিৎসা বিষয়ে সদর হাসপাতাল কর্মরত ডা,নার্সদের কে বলা হয় পাহাড় দূর্গম এলাকায় থেকে হাসপাতালে ভর্তি যে শিশুর ভর্তি জন্য আসবে তাদেরকে এই হাম রোগ যতই ধরনের চিকিৎসক আছে ঔষধ বা,ট্রিটমেন্ট প্রয়োজনে চিকিৎসার দেবার জন্য বিশেষ ভাবেই বলা হলো প্রয়োজনীয় চিকিৎসক বিষয়ে চেয়ারম্যান কাছে অবগত করতে বলেছেন।

এদিকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম লেতং খুমী পাড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পার্বত্য এলাকায় উপজেলায় ১৫ দিনে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৭জনের দাঁড়িয়েছে।

একই উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন এবং বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জনসহ মোট ৪১ জন শিশু চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী মৃত শিশুরা হলো, ফ্রেলেএং খুমী (৫), খ্রেপা খুমী (১১), শইফ্রা খুমী (৫), প্রেটেম এং খুমী (৬), পলিএং খুমী (৯), প্রেটেমএং খুমী (৭), পও এং খুমী (৭) এবং কুপাও ম্রো (১৩)।

এদিকে, লেতং খুমী পাড়ায় দুই শিশুর মৃতুর পর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে লেতং খুমী পাড়ায় শিশুদের ভ্যাকসিন দিতে যান উপজেলা ইউনিসেফের ভ্যাকসিনেটর উ থোয়াই সিং মারমা।

তিনি বলেন, “লেতং খুমী পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ঘরেই শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে। অনেক পরিবার আধুনিক চিকিৎসার পরিবর্তে গাছ-গাছড়া ও ভেষজ চিকিৎসার ওপর নির্ভর করছে।”

রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লেতং খুমী পাড়া অত্যন্ত দুর্গম। মোটরসাইকেলে একটি নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত যাওয়ার পর আরও তিন থেকে চার ঘণ্টা পাহাড়ি পথ ও ঝিরিপথ পায়ে হেঁটে সেখানে পৌঁছাতে হয়।

যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক বা মেডিক্যাল টিম পৌঁছাতে পারে না। ফলে অসুস্থ শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। দারিদ্র্যের কারণেও অনেক পরিবার সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনা।

বান্দরবানের জেলা সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহিন হোসাইন চৌধুরী মঙ্গলবার জানান, গত শনিবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে লেতং খুমী পাড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই দুইজন স্বাস্থ্যকর্মী ও একজন ভ্যাকসিনেটরকে সেখানে পাঠানো হয়। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সম্প্রতি মারা যাওয়া শিশুদের শরীরে হামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ দেখতে পান।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, “গত ৩ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৯ জন শিশু রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ  করা হয়েছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।”

তিনি বলেন, “যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা বাড়িতে অথবা হাসপাতালে আনার পথে মারা গেছে। দুর্গম এলাকায় হামের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় রোগীদের হাসপাতালে আনা এবং শিশুদের টিকাদানে উদ্বুদ্ধ করার কার্যক্রম চলছে।”

জেলা সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহিন হোসাইন চৌধুরী তিনি জানান, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গে কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি। যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতে অথবা হাসপাতালে আনার পথেই মারা গেছে। 

তিনি আরও জানান, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। রোগী শনাক্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং টিকাদান কর্মসূচিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এ কাজে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।