ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

সেঞ্চুরির অপেক্ষা বাড়ল সাদমানের, দিন শেষে বাংলাদেশের ২১৩ রান

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৫১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

সাতসকালে কাঠফাটা রোদ। বেলা যত গড়ায়, সূর্যের তেজও যেন পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। সাদা পোশাকে লাল বলের ক্রিকেটের জন্য যেন এক আদর্শ মঞ্চ। অথচ সেই মঞ্চেই কখনো কালো মেঘের আনাগোনা, কখনো মেঘের আড়াল ভেঙে সূর্যের উঁকি। আলো-আঁধারির এমন লুকোচুরি চলেছে দিনের শুরু থেকে মধ্যগগন পর্যন্ত। তবে প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনার মাঝেও ২২ গজে একজনই ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে। তিনি সাদমান ইসলাম।

দিনের শুরুতেই তানজিদ হাসানের বিদায়। এরপর সাজঘরে ফিরেছেন মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তও। একের পর এক সতীর্থের বিদায়ে যখন বাংলাদেশের ইনিংসে ভাঙনের সুর, তখন একপ্রান্তে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যান সাদমান। প্রতিপক্ষের বোলারদের চোখরাঙানি, উইকেটের চ্যালেঞ্জ কিংবা সময়ের চাপ, কোনো কিছুই যেন টলাতে পারেনি তার ধৈর্য আর মনোবল।

ব্যাট হাতে কখনো রক্ষণে দৃঢ়, কখনো সুযোগ বুঝে নান্দনিক শটে রান তুলে নিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইনিংসের ভিত গড়েছেন ইটের পর ইট সাজিয়ে। আর সেই অধ্যবসায়ের পূর্ণতা আসত যদি ৯৯ রানের ইনিংসটি তিন অঙ্কে রূপ পেত! নাহ, বিপদ হয়নি। আলোরস্বল্পতায় দ্বিতীয়বার যখন খেলা বন্ধ হলো তখন ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান।

ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান। তার ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ২১৩ রান তুলেছে। ৭৪ ওভারের খেলায় রান রেট ২.৮৮।

২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয়েছিল সাদমানের। সেই পথচলায় চড়াই-উতরাই কম আসেনি। তবে এদিন যেন ব্যাট হাতেই নিজের সামর্থ্যের নতুন এক স্বাক্ষর রাখলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। সতীর্থরা যখন আসা-যাওয়ার মিছিলে, তখন সাদমান হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের আশার বাতিঘর। আলো-আঁধারির দিনে ২২ গজে তার ব্যাটেই যেন সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলাদেশের সকাল, দুপুর, শেষ বিকাল।

দিনটাকে রাঙানোর পথেই ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। মুশফিকুরের চোটে তাওহীদ সুযোগ পান একাদশে। সাদমানের সঙ্গে ৮৮ রানের জুটি গড়ার পথে ব্যাট হাতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এই ব্যাটার। কিন্তু দুইবার ক্র্যাম্পের শেষ তার ৮৪ বলে ৪২ রানের ইনিংস। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। নিতে হয় শুশ্রূষা।

এরপর লিটনকে সঙ্গে নিয়ে সাদমান এগিয়ে যান সেঞ্চুরির পথে। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে প্রথমবার খেলা বন্ধ হওয়ার সময়ে বাঁহাতি ব্যাটার অপরাজিত ৯৬ রানে। ৫০ মিনিট পর খেলা শুরু হলে সেঞ্চুরির আশা জেগে উঠে সাদমানের। কিন্তু ১৬ মিনিট পর আবার আলোকস্বল্পতা। এবার সাদমান অপরাজিত ৯৯ রানে!

মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমের পথে সাদমানের মুখে তখন অম্লমধুর হাসি। একদিকে ১ রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষা, অন্যদিকে দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে, প্রতিটি বল বুঝেশুনে খেলার আত্মবিশ্বাস। অপেক্ষার প্রহর পেরিয়েও সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে অপরাজিত থাকার আনন্দ যেন মিশে ছিল তার সেই হাসিতে। ২১৯ বলে ১০ বাউন্ডারিতে সাজানো তার ৯৯ রানের চোয়ালবদ্ধ ইনিংস। সঙ্গে থাকা লিটন অপরাজিত ১০ রানে।

আগামীকাল দ্বিতীয় দিনের প্রথম প্রহর সাদমানের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জের। ২২ গজে পুরোনো মনোযোগে নতুন লড়াই শুরু করতে হবে বাঁহাতি ব্যাটারকে। কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলে ভাস্বর হয়ে উঠবে তার ইনিংস। পূর্ণতা পাবে তার লড়াই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সেঞ্চুরির অপেক্ষা বাড়ল সাদমানের, দিন শেষে বাংলাদেশের ২১৩ রান

আপডেট সময়ঃ ০২:৫১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সাতসকালে কাঠফাটা রোদ। বেলা যত গড়ায়, সূর্যের তেজও যেন পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। সাদা পোশাকে লাল বলের ক্রিকেটের জন্য যেন এক আদর্শ মঞ্চ। অথচ সেই মঞ্চেই কখনো কালো মেঘের আনাগোনা, কখনো মেঘের আড়াল ভেঙে সূর্যের উঁকি। আলো-আঁধারির এমন লুকোচুরি চলেছে দিনের শুরু থেকে মধ্যগগন পর্যন্ত। তবে প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনার মাঝেও ২২ গজে একজনই ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে। তিনি সাদমান ইসলাম।

দিনের শুরুতেই তানজিদ হাসানের বিদায়। এরপর সাজঘরে ফিরেছেন মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তও। একের পর এক সতীর্থের বিদায়ে যখন বাংলাদেশের ইনিংসে ভাঙনের সুর, তখন একপ্রান্তে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যান সাদমান। প্রতিপক্ষের বোলারদের চোখরাঙানি, উইকেটের চ্যালেঞ্জ কিংবা সময়ের চাপ, কোনো কিছুই যেন টলাতে পারেনি তার ধৈর্য আর মনোবল।

ব্যাট হাতে কখনো রক্ষণে দৃঢ়, কখনো সুযোগ বুঝে নান্দনিক শটে রান তুলে নিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইনিংসের ভিত গড়েছেন ইটের পর ইট সাজিয়ে। আর সেই অধ্যবসায়ের পূর্ণতা আসত যদি ৯৯ রানের ইনিংসটি তিন অঙ্কে রূপ পেত! নাহ, বিপদ হয়নি। আলোরস্বল্পতায় দ্বিতীয়বার যখন খেলা বন্ধ হলো তখন ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান।

ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান। তার ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ২১৩ রান তুলেছে। ৭৪ ওভারের খেলায় রান রেট ২.৮৮।

২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয়েছিল সাদমানের। সেই পথচলায় চড়াই-উতরাই কম আসেনি। তবে এদিন যেন ব্যাট হাতেই নিজের সামর্থ্যের নতুন এক স্বাক্ষর রাখলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। সতীর্থরা যখন আসা-যাওয়ার মিছিলে, তখন সাদমান হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের আশার বাতিঘর। আলো-আঁধারির দিনে ২২ গজে তার ব্যাটেই যেন সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলাদেশের সকাল, দুপুর, শেষ বিকাল।

দিনটাকে রাঙানোর পথেই ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। মুশফিকুরের চোটে তাওহীদ সুযোগ পান একাদশে। সাদমানের সঙ্গে ৮৮ রানের জুটি গড়ার পথে ব্যাট হাতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এই ব্যাটার। কিন্তু দুইবার ক্র্যাম্পের শেষ তার ৮৪ বলে ৪২ রানের ইনিংস। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। নিতে হয় শুশ্রূষা।

এরপর লিটনকে সঙ্গে নিয়ে সাদমান এগিয়ে যান সেঞ্চুরির পথে। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে প্রথমবার খেলা বন্ধ হওয়ার সময়ে বাঁহাতি ব্যাটার অপরাজিত ৯৬ রানে। ৫০ মিনিট পর খেলা শুরু হলে সেঞ্চুরির আশা জেগে উঠে সাদমানের। কিন্তু ১৬ মিনিট পর আবার আলোকস্বল্পতা। এবার সাদমান অপরাজিত ৯৯ রানে!

মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমের পথে সাদমানের মুখে তখন অম্লমধুর হাসি। একদিকে ১ রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষা, অন্যদিকে দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে, প্রতিটি বল বুঝেশুনে খেলার আত্মবিশ্বাস। অপেক্ষার প্রহর পেরিয়েও সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে অপরাজিত থাকার আনন্দ যেন মিশে ছিল তার সেই হাসিতে। ২১৯ বলে ১০ বাউন্ডারিতে সাজানো তার ৯৯ রানের চোয়ালবদ্ধ ইনিংস। সঙ্গে থাকা লিটন অপরাজিত ১০ রানে।

আগামীকাল দ্বিতীয় দিনের প্রথম প্রহর সাদমানের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জের। ২২ গজে পুরোনো মনোযোগে নতুন লড়াই শুরু করতে হবে বাঁহাতি ব্যাটারকে। কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলে ভাস্বর হয়ে উঠবে তার ইনিংস। পূর্ণতা পাবে তার লড়াই।