আত্মসমর্পণ করে ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমণি
- আপডেট সময়ঃ ১২:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার (৪ নভেম্বর) একই আদালত পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর পরীমনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
যেভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
এর আগে ৪ নভেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি পরীমনি। তাঁর আইনজীবী অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে সময়ের আবেদন করেন।
অন্যদিকে, মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং পরীমনিসহ অপর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি
২০২৪ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।
২০২১ সালে মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন
২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলার এজাহারে নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।
একপর্যায়ে পরীমনি তাঁর দিকে সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া পরীমনি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
পাল্টা মামলাও রয়েছে পরীমনির
বোট ক্লাবের ওই ঘটনার পর পরীমনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, নাসির উদ্দিনের করা মামলায় অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।





















