ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

পুলিশের গুলিতে অন্ধ হওয়ার পথে শিক্ষার্থী

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৪
  • / ২৮১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে বাঁ চোখ হারানোর পথে এক কলেজশিক্ষার্থী। একসময় পাড়ার মাঠে ব্যাট-বল হাতে যে ছুটে বেড়াতেন তিনি এখন বিছানায় ছটফট করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বাঁ-হাতের ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বোকা বানাতে পারদর্শী ছিলেন উদীয়মান অর্থডক্স স্পিনার সাকিব (২০)। চোখের রেটিনা ফেটে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসা জন্য আর্থিক সাহায্য চান সাকিবের বিধবা মা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা উপজেলা শহরের পাঁচমাথা মোড় পুলিশ বক্সের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে সমন্বয়করা বক্তব্য দেওয়ার সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে গুরুতর আহত হন রংপুর কারমাইকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব। তার মাথায় ৮টি, বাঁ চোখে ১টি ও নাকে একটি ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। ওই সময় দ্রুত তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় বাংলাদেশ চক্ষু হাসপাতালে। সেখানে চক্ষুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার দাস অপারেশন করে চোখের গুলি বের করলেও রেটিনা ফেটে যাওয়ায় ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যেতে বলেন। তবে টাকার অভাবে আর ভারতে যাওয়া হয়নি নীলফামারী জেলার প্রথম বিভাগের এ বাঁ-হাতি অর্থডক্স স্পিনারের। বর্তমানে বাড়িতে বিনা চিকিৎসায় চোখের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন বাবাহারা এই শিক্ষার্থী। পৌর শহরের কাজিপাড়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় শুয়ে আছেন সাকিব। তার বাঁ চোখে ব্যান্ডেজ। সাকিব বলেন, ওই দিন পুলিশের ছোঁড়া প্রথম গুলির শিকার আমি। এরপর অন্যরা। দেশের চিকিৎসা প্রায় শেষ। বিধবা মা ঋণ করে দেড় লাখ টাকা জোগাড় করে ঢাকায় চিকিৎসা করান। এখন তো সব শেষ। চোখটাও ভালো হলো না। কিছুই দেখতে পারি না। ক্রিকেট মাঠে বল হাতে ফিরতে পারবো কি না জানি না। বলতে বলতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন সাকিব ও তার মা। উদীয়মান এই ক্রিকেটারের আইডল দেশীয় ক্রিকেটের পোস্টারবয় সাকিব আল হাসান। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের মায়াবী ঘূর্ণি, কুইকার ও আর্মার ডেলিভারিতে বোকা বানিয়েছেন বহুবার। তার এমন পারদর্শিতার দাপট এখন শুধুই স্মৃতি। মাঠে সুনাম কুড়ানো খেলোয়াড়টি আজ দেশের বৈষম্য দূর করতে গিয়ে অন্ধত্বের পথে। সাকিবের ভাই সাজু হাসান বলেন, অন্যের দোকানে শ্রমিকের কাজ করি। ওই মজুরি দিয়ে কোনোরকমে ৮ সদস্যের পরিবার চলে। এখন তার (সাকিব) চিকিৎসার জন্য বিশাল অঙ্কের এই টাকা কোথায় পাবো, কে দেবে? এমন পরিস্থিতিতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। সাকিবের মা আছিয়া খাতুন বলেন, সাকিব সেদিন সবাইকে ফাঁকি দিয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনে গেছে। পরে জানতে পারি তার বাঁ চোখে গুলি লেগেছে। প্রচুর ধারদেনা করে চিকিৎসা করালাম। তবুও সুস্থ হলো না। এখন কী করবো, বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ছেলেকে সুস্থ দেখতে দেশের ক্রীড়া বোর্ডসহ সকলের কাছে আর্থিক সহায়তা কামনা করেন তার মা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

​জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের-এর বাসভবনে কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ’ ​ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান, গণমানুষের নেতা জননেতা আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি-এর রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে একদল দুষ্কৃতকারী কর্তৃক হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। ​ কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বাসভবনে এ ধরনের হীন ও কাপুরুষোচিত হামলা দেশের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তিশৃঙ্খলার ওপর এক চরম আঘাত। এটি স্পষ্টতই রাজনীতিকে সহিংস করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। ​জাতীয় ছাত্র সমাজ স্পষ্টভাবে জানাতে চান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সংগঠনসমূহের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামানো যাবে না। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জিএম কাদের-এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সাক্ষাৎকারে ​দাবি ও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন : ১. অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এই হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ২. বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ​যদি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলার পেছনে থাকা অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে জাতীয় ছাত্র সমাজ দেশের ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

৬

পুলিশের গুলিতে অন্ধ হওয়ার পথে শিক্ষার্থী

আপডেট সময়ঃ ০৯:১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে বাঁ চোখ হারানোর পথে এক কলেজশিক্ষার্থী। একসময় পাড়ার মাঠে ব্যাট-বল হাতে যে ছুটে বেড়াতেন তিনি এখন বিছানায় ছটফট করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বাঁ-হাতের ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বোকা বানাতে পারদর্শী ছিলেন উদীয়মান অর্থডক্স স্পিনার সাকিব (২০)। চোখের রেটিনা ফেটে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসা জন্য আর্থিক সাহায্য চান সাকিবের বিধবা মা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা উপজেলা শহরের পাঁচমাথা মোড় পুলিশ বক্সের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে সমন্বয়করা বক্তব্য দেওয়ার সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে গুরুতর আহত হন রংপুর কারমাইকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব। তার মাথায় ৮টি, বাঁ চোখে ১টি ও নাকে একটি ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। ওই সময় দ্রুত তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় বাংলাদেশ চক্ষু হাসপাতালে। সেখানে চক্ষুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার দাস অপারেশন করে চোখের গুলি বের করলেও রেটিনা ফেটে যাওয়ায় ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যেতে বলেন। তবে টাকার অভাবে আর ভারতে যাওয়া হয়নি নীলফামারী জেলার প্রথম বিভাগের এ বাঁ-হাতি অর্থডক্স স্পিনারের। বর্তমানে বাড়িতে বিনা চিকিৎসায় চোখের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন বাবাহারা এই শিক্ষার্থী। পৌর শহরের কাজিপাড়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় শুয়ে আছেন সাকিব। তার বাঁ চোখে ব্যান্ডেজ। সাকিব বলেন, ওই দিন পুলিশের ছোঁড়া প্রথম গুলির শিকার আমি। এরপর অন্যরা। দেশের চিকিৎসা প্রায় শেষ। বিধবা মা ঋণ করে দেড় লাখ টাকা জোগাড় করে ঢাকায় চিকিৎসা করান। এখন তো সব শেষ। চোখটাও ভালো হলো না। কিছুই দেখতে পারি না। ক্রিকেট মাঠে বল হাতে ফিরতে পারবো কি না জানি না। বলতে বলতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন সাকিব ও তার মা। উদীয়মান এই ক্রিকেটারের আইডল দেশীয় ক্রিকেটের পোস্টারবয় সাকিব আল হাসান। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের মায়াবী ঘূর্ণি, কুইকার ও আর্মার ডেলিভারিতে বোকা বানিয়েছেন বহুবার। তার এমন পারদর্শিতার দাপট এখন শুধুই স্মৃতি। মাঠে সুনাম কুড়ানো খেলোয়াড়টি আজ দেশের বৈষম্য দূর করতে গিয়ে অন্ধত্বের পথে। সাকিবের ভাই সাজু হাসান বলেন, অন্যের দোকানে শ্রমিকের কাজ করি। ওই মজুরি দিয়ে কোনোরকমে ৮ সদস্যের পরিবার চলে। এখন তার (সাকিব) চিকিৎসার জন্য বিশাল অঙ্কের এই টাকা কোথায় পাবো, কে দেবে? এমন পরিস্থিতিতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। সাকিবের মা আছিয়া খাতুন বলেন, সাকিব সেদিন সবাইকে ফাঁকি দিয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনে গেছে। পরে জানতে পারি তার বাঁ চোখে গুলি লেগেছে। প্রচুর ধারদেনা করে চিকিৎসা করালাম। তবুও সুস্থ হলো না। এখন কী করবো, বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ছেলেকে সুস্থ দেখতে দেশের ক্রীড়া বোর্ডসহ সকলের কাছে আর্থিক সহায়তা কামনা করেন তার মা।