ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

হাদি ও লক্ষ্মীপুরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন মনে করছে ইসি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। আবার আজ ভোরে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের নিচতলার স্টোর রুমে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের কাছে এসব বিষয় জানতে চাইলে কালের কণ্ঠকে তিনি এসব কথা জানান।

ওসমান হাদির গুলির ঘটনায় কমিশন থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না বা এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিশন এই মুহূর্তে সব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেছে। এই স্পেসিফিক ঘটনার একটা তদন্ত দিন ব্যাপার। তদন্ত করে দেখুক যে এটা কে বা কারা জড়িত ছিল। আপনারা হয়তো এইটা মনে করবেন যে যেহেতু তফসিলের পরপরই এই ঘটনা ঘটেছে কাজে তফসিলের সঙ্গে এটা জড়িত।

অথবা যেহেতু উনি একজন সম্ভাব্য প্রার্থী কাজেই এটা হয়তো নির্বাচনে পরিবেশটাকে বা নির্বাচন ভঙ্গ করার একটা প্রচেষ্টা হতে পারে। এটা আপনাদের মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয় এখন কোনো কিছু বলব না। আমরা বলব তদন্ত করে দেখা হোক।
এই ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত এবং কী তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এইটা যদি বের হয় তাহলেই আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া বলব।’
তিনি আরো বলেন, ‘যদি আরো প্রতিক্রিয়া জানতে চান আমরা আপাতত বলব যে, এটা একটা ঘটনা ঘটেছে; এই ঘটনাকে আমরা বিচ্ছিন্ন ঘটনাই বলতে পারি।’

এ সময় এই নির্বাচন কমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি যখন বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা বলছেন তখন কিন্তু লক্ষ্মীপুরের একটা নির্বাচন অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। আপনি এটাকে কিভাবে দেখবেন? উত্তরে এই কমিশনার বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টাও জানি। এখন যেটা হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আর কী বলব।

এখন আমরা নির্বাচন করার জন্য একেবারে বদ্ধপরিকর। আমরা দেখেছি যে আজকে সরকার সব দল নিয়ে বসেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা যারা রয়েছেন তাদের নিয়েও বসছেন। উনারা নিশ্চয়ই নির্দেশ দেবেন।’
আপনাদের পক্ষ থেকে কি কোনো নির্দেশনা ছিল না বা পুলিশের সঙ্গে কি কোনো কথা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক কোনো কথা আমরা কারো সঙ্গে বা কাউকে বলি নাই। আমার জানামতে বলা হয়নি।’

এখন তো প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধায়নে চলে এসেছে। তফসিলের পর তো সেটিই ঘটে থাকে, এমন প্রশ্নের উত্তরে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘এই তত্ত্বাবধায়ন বলতে কিন্তু এই না যে, তাদের বিভাগের কাজ তারা করবে না। এই যে একটা ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তত্ত্বাবধায়ন বলতে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি লাগবে বা আমাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে এই ধরনের কিছু না। তবে আমাদের কাছ থেকে এই বার্তা সব সময় আমরা দিয়ে আসতেছি যে, নির্বাচনের পরিবেশ ভঙ্গ করতে পারে বা নির্বাচনের এই যাত্রাকে কেউ ভঙ্গ করতে পারে এই ধরনের কোনো অশুভ বা অন্যায্য যদি কোনো ঘটনা ঘটে তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

এর আগে শরীফ ওসমান হাদির ওপর হওয়া গুলির ঘটনায় গতকাল থেকেই পুলিশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে কালের কণ্ঠের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় ওসমান হাদির ওপর হওয়া গুলির ঘটনায় ইসি পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ দেখছে। গতকাল দুপুর থেকে এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ইসির আলোচনা চলছে। পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

​জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের-এর বাসভবনে কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ’ ​ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান, গণমানুষের নেতা জননেতা আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি-এর রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে একদল দুষ্কৃতকারী কর্তৃক হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। ​ কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বাসভবনে এ ধরনের হীন ও কাপুরুষোচিত হামলা দেশের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তিশৃঙ্খলার ওপর এক চরম আঘাত। এটি স্পষ্টতই রাজনীতিকে সহিংস করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। ​জাতীয় ছাত্র সমাজ স্পষ্টভাবে জানাতে চান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সংগঠনসমূহের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামানো যাবে না। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জিএম কাদের-এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সাক্ষাৎকারে ​দাবি ও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন : ১. অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এই হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ২. বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ​যদি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলার পেছনে থাকা অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে জাতীয় ছাত্র সমাজ দেশের ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

৬

হাদি ও লক্ষ্মীপুরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন মনে করছে ইসি

আপডেট সময়ঃ ০৭:০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। আবার আজ ভোরে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের নিচতলার স্টোর রুমে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের কাছে এসব বিষয় জানতে চাইলে কালের কণ্ঠকে তিনি এসব কথা জানান।

ওসমান হাদির গুলির ঘটনায় কমিশন থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না বা এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিশন এই মুহূর্তে সব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেছে। এই স্পেসিফিক ঘটনার একটা তদন্ত দিন ব্যাপার। তদন্ত করে দেখুক যে এটা কে বা কারা জড়িত ছিল। আপনারা হয়তো এইটা মনে করবেন যে যেহেতু তফসিলের পরপরই এই ঘটনা ঘটেছে কাজে তফসিলের সঙ্গে এটা জড়িত।

অথবা যেহেতু উনি একজন সম্ভাব্য প্রার্থী কাজেই এটা হয়তো নির্বাচনে পরিবেশটাকে বা নির্বাচন ভঙ্গ করার একটা প্রচেষ্টা হতে পারে। এটা আপনাদের মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয় এখন কোনো কিছু বলব না। আমরা বলব তদন্ত করে দেখা হোক।
এই ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত এবং কী তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এইটা যদি বের হয় তাহলেই আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া বলব।’
তিনি আরো বলেন, ‘যদি আরো প্রতিক্রিয়া জানতে চান আমরা আপাতত বলব যে, এটা একটা ঘটনা ঘটেছে; এই ঘটনাকে আমরা বিচ্ছিন্ন ঘটনাই বলতে পারি।’

এ সময় এই নির্বাচন কমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি যখন বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা বলছেন তখন কিন্তু লক্ষ্মীপুরের একটা নির্বাচন অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। আপনি এটাকে কিভাবে দেখবেন? উত্তরে এই কমিশনার বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টাও জানি। এখন যেটা হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আর কী বলব।

এখন আমরা নির্বাচন করার জন্য একেবারে বদ্ধপরিকর। আমরা দেখেছি যে আজকে সরকার সব দল নিয়ে বসেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা যারা রয়েছেন তাদের নিয়েও বসছেন। উনারা নিশ্চয়ই নির্দেশ দেবেন।’
আপনাদের পক্ষ থেকে কি কোনো নির্দেশনা ছিল না বা পুলিশের সঙ্গে কি কোনো কথা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক কোনো কথা আমরা কারো সঙ্গে বা কাউকে বলি নাই। আমার জানামতে বলা হয়নি।’

এখন তো প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধায়নে চলে এসেছে। তফসিলের পর তো সেটিই ঘটে থাকে, এমন প্রশ্নের উত্তরে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘এই তত্ত্বাবধায়ন বলতে কিন্তু এই না যে, তাদের বিভাগের কাজ তারা করবে না। এই যে একটা ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তত্ত্বাবধায়ন বলতে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি লাগবে বা আমাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে এই ধরনের কিছু না। তবে আমাদের কাছ থেকে এই বার্তা সব সময় আমরা দিয়ে আসতেছি যে, নির্বাচনের পরিবেশ ভঙ্গ করতে পারে বা নির্বাচনের এই যাত্রাকে কেউ ভঙ্গ করতে পারে এই ধরনের কোনো অশুভ বা অন্যায্য যদি কোনো ঘটনা ঘটে তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

এর আগে শরীফ ওসমান হাদির ওপর হওয়া গুলির ঘটনায় গতকাল থেকেই পুলিশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে কালের কণ্ঠের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় ওসমান হাদির ওপর হওয়া গুলির ঘটনায় ইসি পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ দেখছে। গতকাল দুপুর থেকে এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ইসির আলোচনা চলছে। পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’