ঢাকা, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | ই-পেপার

নদীর জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ, প্রশাসনের উদাসীনতা

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে

মো: ইমরান নাজীর, পাবনা প্রতিনিধি: চাটমোহর উপজেলার ফৌলজানা ইউনিয়নের শরৎগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশে চিকনাই নদীর তীরে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন এলাকার প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। প্রকাশ্যে প্রায় একযুগ ধরে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণ করে দখলে নিয়েছেন এই সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই নিরব জেনেও যেন না জানার ভান করে আসছে।
‎এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

‎সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,চাটমোহর ফৌলজানা ইউনিয়নের শরৎগঞ্জ বাজার মসজিদের পাশে চিকনাই নদীর তীরে প্রায় পঞ্চাশটি বহুতল পাকা ভবন নির্মাণ করে নদীর জায়গা দখল নিয়েছেন অবৈধ দখলদারেরা।দোকানের পেছনে চিকনাই নদী। নদীর তীর ঘেঁষে সরকারি জমিতে পাকা ভবন নির্মাণে ভবনের ভেতরে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন।

‎এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান ভাড়াটিয়া বলেন, শুনেছি এগুলি সব নদীর জায়গা, আমি দোকান মালিকের থেকে ভাড়া নিয়েছি, মাসে ১২০০০ টাকা ভাড়া দেই, দুই বছর এই দোকান ভাড়া নিয়েছি।

‎স্থানীয়রা জানান, প্রায় একযুগ ধরে চিকনাই নদীর তীর ঘেঁষে সরকারি জমি দখল করে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করছেন প্রভাবশালী আশরাফ আলী। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। প্রশাসনও কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

‎তবে সরকারি জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করার কথা স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ী আশরাফ আলী তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বড় করার জন্য নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ভবনের পেছনের দিকে অল্প কয়েক হাত সরকারি জমি আছে। প্রশাসন ভেঙে দিলে উঠে যাবো।

‎শরৎগঞ্জ বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন প্রায় এক যুগ ধরে এই দোকানগুলো তোলা হয়ে হয়েছে। দোকানগুলো নদীর জায়গা থাকলেও প্রশাসনের কাউকে কখনো আসতে দেখিনি অনেক বছর আগে শুনেছিলাম যে তারা সরকারিভাবে লিজ নিয়েছে।

‎পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, নদীর তীরবর্তী হলেও স্থানটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা দেখভাল করে।

‎বর্তমানে প্রায় এক মাস ধরে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের কাজ চলমান থাকলেও বিষয়টি নলেজে নেই বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, খোঁজখবর নিয়ে খুব দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নদীর জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ, প্রশাসনের উদাসীনতা

আপডেট সময়ঃ ০২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

মো: ইমরান নাজীর, পাবনা প্রতিনিধি: চাটমোহর উপজেলার ফৌলজানা ইউনিয়নের শরৎগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশে চিকনাই নদীর তীরে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন এলাকার প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। প্রকাশ্যে প্রায় একযুগ ধরে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণ করে দখলে নিয়েছেন এই সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই নিরব জেনেও যেন না জানার ভান করে আসছে।
‎এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

‎সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,চাটমোহর ফৌলজানা ইউনিয়নের শরৎগঞ্জ বাজার মসজিদের পাশে চিকনাই নদীর তীরে প্রায় পঞ্চাশটি বহুতল পাকা ভবন নির্মাণ করে নদীর জায়গা দখল নিয়েছেন অবৈধ দখলদারেরা।দোকানের পেছনে চিকনাই নদী। নদীর তীর ঘেঁষে সরকারি জমিতে পাকা ভবন নির্মাণে ভবনের ভেতরে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন।

‎এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান ভাড়াটিয়া বলেন, শুনেছি এগুলি সব নদীর জায়গা, আমি দোকান মালিকের থেকে ভাড়া নিয়েছি, মাসে ১২০০০ টাকা ভাড়া দেই, দুই বছর এই দোকান ভাড়া নিয়েছি।

‎স্থানীয়রা জানান, প্রায় একযুগ ধরে চিকনাই নদীর তীর ঘেঁষে সরকারি জমি দখল করে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করছেন প্রভাবশালী আশরাফ আলী। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। প্রশাসনও কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

‎তবে সরকারি জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করার কথা স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ী আশরাফ আলী তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বড় করার জন্য নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ভবনের পেছনের দিকে অল্প কয়েক হাত সরকারি জমি আছে। প্রশাসন ভেঙে দিলে উঠে যাবো।

‎শরৎগঞ্জ বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন প্রায় এক যুগ ধরে এই দোকানগুলো তোলা হয়ে হয়েছে। দোকানগুলো নদীর জায়গা থাকলেও প্রশাসনের কাউকে কখনো আসতে দেখিনি অনেক বছর আগে শুনেছিলাম যে তারা সরকারিভাবে লিজ নিয়েছে।

‎পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, নদীর তীরবর্তী হলেও স্থানটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা দেখভাল করে।

‎বর্তমানে প্রায় এক মাস ধরে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের কাজ চলমান থাকলেও বিষয়টি নলেজে নেই বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, খোঁজখবর নিয়ে খুব দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।