ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ | ই-পেপার

ভিসা নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কড়াকড়ি, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে

বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসা নীতিতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে চলে আসা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বাতিল করা হচ্ছে। এত দিন পর্যন্ত নির্দিষ্ট পড়াশোনা বা চাকরির পুরো সময়কালের জন্য ভিসা বৈধ থাকলেও, এখন থেকে এই ভিসার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ বা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ‘এফ’ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ‘জে’ ভিসার মেয়াদ সাধারণত সর্বোচ্চ ৪ বছর হবে। এর বেশি সময় পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হলে সরাসরি ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর (এক্সটেনশন) আবেদন করতে হবে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে। পেশাগত কারণে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি সাংবাদিকদের ‘আই’ ভিসার মেয়াদ কমিয়ে সর্বোচ্চ ২৪০ দিন বা ৮ মাস করা হয়েছে। তবে চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ হবে আরও কম— সর্বোচ্চ ৯০ দিন।

বিধিমালাটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর (চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে) কার্যকর হবে। তবে এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে এটি পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বৈধ ও অবৈধ দুই ধরনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি শুরু করে। নতুন নিয়মটি সেই কঠোর অভিবাসন নীতিরই অংশ।

ডিএইচএস জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৫ লাখের বেশি বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ও ৩৭ হাজার ৩০০ বিদেশি সাংবাদিক দেশটিতে প্রবেশ করেন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ওপর নজরদারি ও তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি মার্কিন সরকারের।

নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা একাডেমিক লক্ষ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছে, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ৬০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভিসা নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কড়াকড়ি, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময়ঃ ০১:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসা নীতিতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে চলে আসা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বাতিল করা হচ্ছে। এত দিন পর্যন্ত নির্দিষ্ট পড়াশোনা বা চাকরির পুরো সময়কালের জন্য ভিসা বৈধ থাকলেও, এখন থেকে এই ভিসার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ বা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ‘এফ’ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ‘জে’ ভিসার মেয়াদ সাধারণত সর্বোচ্চ ৪ বছর হবে। এর বেশি সময় পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হলে সরাসরি ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর (এক্সটেনশন) আবেদন করতে হবে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে। পেশাগত কারণে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি সাংবাদিকদের ‘আই’ ভিসার মেয়াদ কমিয়ে সর্বোচ্চ ২৪০ দিন বা ৮ মাস করা হয়েছে। তবে চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ হবে আরও কম— সর্বোচ্চ ৯০ দিন।

বিধিমালাটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর (চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে) কার্যকর হবে। তবে এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে এটি পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বৈধ ও অবৈধ দুই ধরনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি শুরু করে। নতুন নিয়মটি সেই কঠোর অভিবাসন নীতিরই অংশ।

ডিএইচএস জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৫ লাখের বেশি বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ও ৩৭ হাজার ৩০০ বিদেশি সাংবাদিক দেশটিতে প্রবেশ করেন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ওপর নজরদারি ও তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি মার্কিন সরকারের।

নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা একাডেমিক লক্ষ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছে, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ৬০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন করা হয়েছে।