থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
- আপডেট সময়ঃ ০৪:০৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে থাই বিনিয়োগকারীদের দেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে পারস্পরিক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি, রয়্যাল থাই দূতাবাসের কর্মকর্তারা, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও বিদ্যমান সম্ভাবনার তুলনায় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিসর এখনও অনেক বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ ভোক্তা বাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। তিনি কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, চামড়া, তৈরি পোশাক, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ এবং রাবারজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে থাই বিনিয়োগকে স্বাগত জানান।
একই সঙ্গে তিনি থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী কেবল পণ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয়; এটি উৎপাদক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং নতুন অংশীদারিত্ব তৈরির কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ প্রদর্শনী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।
দায়িত্বশীল বিদেশি বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী থাই কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদেরও থাইল্যান্ডের বাজারে নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।
রয়্যাল থাই সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগ (DITP)-এর আয়োজনে এবং ঢাকাস্থ রয়্যাল থাই দূতাবাসের বাণিজ্যিক কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে থাইল্যান্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।



















