ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

বিশ্ববাজারের পর দেশের বাজারেও কমল স্বর্ণের দাম

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১১:১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের স্বর্ণের বাজারে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে আবারও সব ধরনের সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের দাম সর্বোচ্চ দুই হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্য হ্রাসের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত এই নতুন এবং হ্রাসকৃত মূল্যতালিকা আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশের খুচরা ও পাইকারি বাজারে কার্যকর করা হয়েছে।

বাজুসের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। দেশের বুলিয়ন মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারের বর্তমান ওঠানামা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করার পরেই এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববাজারে কিছুটা দরপতনের সুফল দেশীয় বাজারেও যাতে সাধারণ ক্রেতারা ভোগ করতে পারেন, মূলত সেই লক্ষ্যেই এই মূল্য হ্রাসের পদক্ষেপ নিয়েছে সংগঠনটি।

বাজুস কর্তৃক প্রকাশিত নতুন এবং পরিমার্জিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১.৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এর আগে গতকাল পর্যন্ত এই মানের সোনার প্রতি ভরির বাজারমূল্য ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র ২২ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ভরিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে ক্রেতাদের। পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম ক্যারেটের গহনা তৈরিতে ব্যবহৃত ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বাজারে বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকায়। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার ও অলংকার তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান রুপার দামও সমহারে হ্রাস করা হয়েছে। বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৯১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৪ হাজার ৩১৬ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা। পাশাপাশি, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ টাকা। সোনার পাশাপাশি রুপার দামের এই পতনও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বাজারে সোনার দাম লাগাতার বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। বিশেষ করে বিয়ে বা বিভিন্ন সামাজিক পারিবারিক আয়োজনে সোনার গহনা কেনাকাটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল। বাজুসের পক্ষ থেকে নেওয়া বর্তমান এই মূল্য হ্রাসের পদক্ষেপ সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় বাজারে সোনার দাম কমার এই প্রবণতা অলংকার খাতের ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদে গতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ববাজারের পর দেশের বাজারেও কমল স্বর্ণের দাম

আপডেট সময়ঃ ১১:১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের স্বর্ণের বাজারে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে আবারও সব ধরনের সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের দাম সর্বোচ্চ দুই হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্য হ্রাসের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত এই নতুন এবং হ্রাসকৃত মূল্যতালিকা আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশের খুচরা ও পাইকারি বাজারে কার্যকর করা হয়েছে।

বাজুসের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। দেশের বুলিয়ন মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারের বর্তমান ওঠানামা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করার পরেই এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববাজারে কিছুটা দরপতনের সুফল দেশীয় বাজারেও যাতে সাধারণ ক্রেতারা ভোগ করতে পারেন, মূলত সেই লক্ষ্যেই এই মূল্য হ্রাসের পদক্ষেপ নিয়েছে সংগঠনটি।

বাজুস কর্তৃক প্রকাশিত নতুন এবং পরিমার্জিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১.৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এর আগে গতকাল পর্যন্ত এই মানের সোনার প্রতি ভরির বাজারমূল্য ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র ২২ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ভরিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে ক্রেতাদের। পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম ক্যারেটের গহনা তৈরিতে ব্যবহৃত ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বাজারে বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকায়। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার ও অলংকার তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান রুপার দামও সমহারে হ্রাস করা হয়েছে। বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৯১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৪ হাজার ৩১৬ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা। পাশাপাশি, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ টাকা। সোনার পাশাপাশি রুপার দামের এই পতনও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বাজারে সোনার দাম লাগাতার বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। বিশেষ করে বিয়ে বা বিভিন্ন সামাজিক পারিবারিক আয়োজনে সোনার গহনা কেনাকাটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল। বাজুসের পক্ষ থেকে নেওয়া বর্তমান এই মূল্য হ্রাসের পদক্ষেপ সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় বাজারে সোনার দাম কমার এই প্রবণতা অলংকার খাতের ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদে গতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।