ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুসিচের পদত্যাগ
- আপডেট সময়ঃ ১১:০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৬ বার পড়া হয়েছে
এক দশকের বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। তবে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়লেও রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না তিনি। বরং ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ক্ষমতার প্রভাব ধরে রাখার পথে এগোচ্ছেন ভুচিচ।
ছাত্রদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে ভুচিচের এই পদত্যাগ সার্বিয়ার রাজনীতিতে নতুন মোড় তৈরি করেছে। ২০১৪ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির রাজনীতিতে আধিপত্য ধরে রেখেছেন তিনি। দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আর নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ না থাকায় এবার প্রধানমন্ত্রীর পদকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছেন ভুচিচ।
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন দুর্নীতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অস্বচ্ছতার অভিযোগের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
মাসের পর মাস চলা বিক্ষোভে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা আগাম নির্বাচনের দাবিও জানিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত সেই দাবির মধ্যেই আগাম সংসদীয় নির্বাচনের পথে যায় সার্বিয়া।
ভুচিচ ও তার রাজনৈতিক মিত্ররা অবশ্য সরকারবিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
আগাম নির্বাচনে ভুচিচের নেতৃত্বাধীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস)-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থিত ‘স্টুডেন্টস উইন’ বা ‘ছাত্ররা জয়ী হবে’ জোট। কয়েকটি বিরোধী দলও এই জোটকে সমর্থন করছে। জোটটির প্রার্থী তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।
ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দাবি হলো দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
সার্বিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব দেশটির সীমানার বাইরেও পড়ছে। পশ্চিম বলকানের অন্যান্য দেশও বেলগ্রেডের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। সার্বিয়ার সঙ্গে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মন্টেনেগ্রো ও কসোভোর সার্ব জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকায় দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তনের আঞ্চলিক প্রভাব রয়েছে।
ভুচিচের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ। একই সঙ্গে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথও তৈরি হয়েছে।
২৫ অক্টোবরের নির্বাচন সার্বিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভুচিচের দল ও ছাত্র-সমর্থিত জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
আলজাজিরার সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বিশ্লেষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনের ফল কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এদিকে সার্বিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়া, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক এবং পশ্চিম বলকানের আঞ্চলিক রাজনীতিও এই নির্বাচনের দিকে আন্তর্জাতিক নজর বাড়িয়েছে।



















