ঢাকা, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | ই-পেপার

৫০ হাজারের বেশি তরুণকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের ১৩টি মহানগরের ৫১ হাজার বেকার ও চাকরিপ্রত্যাশী তরুণকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৬৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ‘দেশের সকল মহানগরীতে কর্মহীন যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পটি ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ–এই ১৩টি মহানগরে পরিচালিত হবে। এর আওতায় তরুণদের চাহিদাভিত্তিক ডিজিটাল দক্ষতা শেখানোর পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়া, পোর্টফোলিও তৈরি এবং ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল শেখানো হবে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের লক্ষ্য অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে সরাসরি আয়ের সঙ্গে যুক্ত করা। নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক তরুণদের পাশাপাশি এতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণার্থীদের ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সরঞ্জামও দেওয়া হতে পারে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রিয়সিন্ধু তালুকদার বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাকরির বাজার সীমিত হলেও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে কাজের অবারিত সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি তরুণরা ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারেন। এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে এই প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। বিপুল এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তোলা না গেলে ভবিষ্যতে তা অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দেশে বর্তমান বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখেরও বেশি। বিশ্বজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং বা গিগ ইকোনমির বাজার প্রায় ৪৫৫ বিলিয়ন ডলারের। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতেই সরকার এই বিনিয়োগ করছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৫০ হাজারের বেশি তরুণকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

আপডেট সময়ঃ ০১:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ১৩টি মহানগরের ৫১ হাজার বেকার ও চাকরিপ্রত্যাশী তরুণকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৬৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ‘দেশের সকল মহানগরীতে কর্মহীন যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পটি ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ–এই ১৩টি মহানগরে পরিচালিত হবে। এর আওতায় তরুণদের চাহিদাভিত্তিক ডিজিটাল দক্ষতা শেখানোর পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়া, পোর্টফোলিও তৈরি এবং ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল শেখানো হবে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের লক্ষ্য অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে সরাসরি আয়ের সঙ্গে যুক্ত করা। নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক তরুণদের পাশাপাশি এতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণার্থীদের ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সরঞ্জামও দেওয়া হতে পারে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রিয়সিন্ধু তালুকদার বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাকরির বাজার সীমিত হলেও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে কাজের অবারিত সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি তরুণরা ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারেন। এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে এই প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। বিপুল এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তোলা না গেলে ভবিষ্যতে তা অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দেশে বর্তমান বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখেরও বেশি। বিশ্বজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং বা গিগ ইকোনমির বাজার প্রায় ৪৫৫ বিলিয়ন ডলারের। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতেই সরকার এই বিনিয়োগ করছে।