ঢাকা, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ | ই-পেপার

তিন জেলার কর্মকর্তাদের জরুরী নির্দেশ এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৩২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ উন্নয়ন কার্যক্রম বেগবান করতে মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় আরো জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনের আলোকে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।

জরুরি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করারও নির্দেশ দেন তিনি।

মীর শাহে আলম জেলা প্রশাসকদের নিয়মিতভাবে সব উপজেলা পরিদর্শনের পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি কুড়িগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা সভায় সমন্বয় আরও জোরদারে পার্শ্ববর্তী জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার প্রতিনিধিদেরও অংশগ্রহণ নিশ্চিতের নির্দেশনা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরো বেগবান করা সম্ভব হবে।’

তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো সফর করে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনসেবার বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।

মীর শাহে আলম জেলার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরো দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সার সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। কৃত্রিম সংকট এড়িয়ে কৃষকরা যেন সময়মতো সার পান, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী শূন্য পদে দ্রুত ডিলার নিয়োগের জন্য জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সভায় তিন জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও সার সরবরাহসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সভায় জানানো হয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং এবং মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর আওতায় নিয়মিত মামলা রুজু ও প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক তথ্য দ্রুত প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়। এছাড়া নদীভাঙনসহ স্থানীয় সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খাল খনন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় অংশ নেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং রংপুর বিভাগের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

তিন জেলার কর্মকর্তাদের জরুরী নির্দেশ এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময়ঃ ০২:৩২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ উন্নয়ন কার্যক্রম বেগবান করতে মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় আরো জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনের আলোকে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।

জরুরি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করারও নির্দেশ দেন তিনি।

মীর শাহে আলম জেলা প্রশাসকদের নিয়মিতভাবে সব উপজেলা পরিদর্শনের পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি কুড়িগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা সভায় সমন্বয় আরও জোরদারে পার্শ্ববর্তী জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার প্রতিনিধিদেরও অংশগ্রহণ নিশ্চিতের নির্দেশনা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরো বেগবান করা সম্ভব হবে।’

তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো সফর করে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনসেবার বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।

মীর শাহে আলম জেলার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরো দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সার সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। কৃত্রিম সংকট এড়িয়ে কৃষকরা যেন সময়মতো সার পান, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী শূন্য পদে দ্রুত ডিলার নিয়োগের জন্য জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সভায় তিন জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও সার সরবরাহসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সভায় জানানো হয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং এবং মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর আওতায় নিয়মিত মামলা রুজু ও প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক তথ্য দ্রুত প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়। এছাড়া নদীভাঙনসহ স্থানীয় সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খাল খনন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় অংশ নেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং রংপুর বিভাগের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ।