ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

জালিয়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পদ ছাড়লেন পুতুল

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০১:১১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

রয়টার্সের দেখা পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডব্লিউএইচওর পদ থেকে সরে দাঁড়ান সায়মা ওয়াজেদ। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ জানান, বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে তুলেছে ডব্লিউএইচও। তবে তার দাবি, সংস্থাটিতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমির মালিকানা পেয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় জমিটি পাওয়ার অধিকার তার ছিল বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।

তবে দায়িত্ব পালনে তাকে বাধা দেওয়ার কারণে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রায় এক বছর ধরে বেতন না পাওয়ার বিষয়টিও পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তার ভাষ্য, প্রায় এক বছর পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে সদস্য দেশগুলোর ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়টি সামনে আসে।

২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে। এরপর জুলাইয়ে তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ওই ছুটি বেতনবিহীন ছুটিতে রূপ নেয়।

গত ৩ জুলাই ডব্লিউএইচওকে দেওয়া তার আইনজীবীদের পৃথক চিঠির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীন সফরের সময় আর্থিক জালিয়াতি এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও সংস্থাটি সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে এনেছে। তবে এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জালিয়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পদ ছাড়লেন পুতুল

আপডেট সময়ঃ ০১:১১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

রয়টার্সের দেখা পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডব্লিউএইচওর পদ থেকে সরে দাঁড়ান সায়মা ওয়াজেদ। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ জানান, বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে তুলেছে ডব্লিউএইচও। তবে তার দাবি, সংস্থাটিতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমির মালিকানা পেয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় জমিটি পাওয়ার অধিকার তার ছিল বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।

তবে দায়িত্ব পালনে তাকে বাধা দেওয়ার কারণে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রায় এক বছর ধরে বেতন না পাওয়ার বিষয়টিও পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তার ভাষ্য, প্রায় এক বছর পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে সদস্য দেশগুলোর ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়টি সামনে আসে।

২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে। এরপর জুলাইয়ে তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ওই ছুটি বেতনবিহীন ছুটিতে রূপ নেয়।

গত ৩ জুলাই ডব্লিউএইচওকে দেওয়া তার আইনজীবীদের পৃথক চিঠির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীন সফরের সময় আর্থিক জালিয়াতি এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও সংস্থাটি সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে এনেছে। তবে এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।