হাইকোর্টের নির্দেশের পরও লামায় পাহাড় কাটা অব্যাহত
- আপডেট সময়ঃ ০৭:২২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
মোহাম্মদ করিম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশনার পরও বান্দরবানের লামায় পাহাড় কাটা বন্ধ হয়েছে কি না, এ নিয়ে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে তিন দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চার সপ্তাহের রুল জারি এবং গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনার পর ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সারাদিন লামার সরই, আজিজনগর ও ফাঁসিয়াখালী এলাকার বিভিন্ন ইটভাটা ঘিরে গণমাধ্যমকর্মীরা অনুসন্ধান চালান। এ সময় ইট প্রস্তুতের জন্য পাহাড় কাটার একাধিক দৃশ্য ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব চিত্র প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
পাহাড় কাটার অভিযোগ ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে এনে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং পাহাড় কাটা বন্ধ ও কাটা পাহাড় পুনরুদ্ধারে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে কিছুদিন পর আবারও পাহাড় কাটা শুরু হয়েছে। ফলে এবার হাইকোর্টের নির্দেশনা কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের নির্দেশনা যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পাহাড়, বন, ঝিরি-ছড়া, পানির উৎস ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হাইকোর্টের নির্দেশের পরও যদি পাহাড় কাটার দৃশ্য অব্যাহত থাকে, তাহলে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে কতটা সক্রিয়, সে প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
























