ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

শি জিনপিংয়ের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৫৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে

তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একপর্যায়ে শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না, সেটিও জানতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। রোববার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ এ তথ্য জানিয়েছেন।

‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে শ্যানন ব্রিমের সঙ্গে আলাপকালে পারডিউ বলেন, ট্রাম্প চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনার কথাও তুলেছিলেন। তবে ঠিক কখন তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সময় উল্লেখ করেননি পারডিউ।

পারডিউর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের হাতে পৌঁছানোর বিষয়টিও সামনে আসবে।

এর আগে ফক্স নিউজের শ্যানন ব্রিম তাইওয়ানের জন্য বিলম্বিত সহায়তা ও অস্ত্রের চালান নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন। চীনের হুমকির মুখে আত্মরক্ষার জন্য তাইওয়ানের অস্ত্র প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও চীনের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত থাকছে কি না, সে প্রশ্নও করেন তিনি।

জবাবে পারডিউ বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে তিনি যতটা দৃঢ় অবস্থানে দেখেছেন, আর কাউকে ততটা দেখেননি। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে তাইওয়ানের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি করেছে। ভবিষ্যতেও তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

পারডিউ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বলেন, আমরা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর কাছেও অস্ত্র বিক্রি করি। একপর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট শিকেও জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কিছু অস্ত্র কিনতে চান কি না।’

তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন তাইওয়ানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এরপরও দ্বীপটির সবচেয়ে শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলে থাকে। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দিয়ে আসছে বেইজিং।

গত মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শির বৈঠকেও তাইওয়ান ইস্যুটি গুরুত্ব পায়। ওই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ১৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ স্থগিত করে। পরে চীনের সঙ্গে আলোচনায় তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও শির ব্যক্তিগত বৈঠকেও তাইওয়ান প্রসঙ্গ উঠে আসে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে শি জিনপিং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র: এপি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শি জিনপিংয়ের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প

আপডেট সময়ঃ ১০:৫৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একপর্যায়ে শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না, সেটিও জানতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। রোববার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ এ তথ্য জানিয়েছেন।

‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে শ্যানন ব্রিমের সঙ্গে আলাপকালে পারডিউ বলেন, ট্রাম্প চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনার কথাও তুলেছিলেন। তবে ঠিক কখন তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সময় উল্লেখ করেননি পারডিউ।

পারডিউর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের হাতে পৌঁছানোর বিষয়টিও সামনে আসবে।

এর আগে ফক্স নিউজের শ্যানন ব্রিম তাইওয়ানের জন্য বিলম্বিত সহায়তা ও অস্ত্রের চালান নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন। চীনের হুমকির মুখে আত্মরক্ষার জন্য তাইওয়ানের অস্ত্র প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও চীনের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত থাকছে কি না, সে প্রশ্নও করেন তিনি।

জবাবে পারডিউ বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে তিনি যতটা দৃঢ় অবস্থানে দেখেছেন, আর কাউকে ততটা দেখেননি। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে তাইওয়ানের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি করেছে। ভবিষ্যতেও তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

পারডিউ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বলেন, আমরা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর কাছেও অস্ত্র বিক্রি করি। একপর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট শিকেও জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কিছু অস্ত্র কিনতে চান কি না।’

তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন তাইওয়ানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এরপরও দ্বীপটির সবচেয়ে শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলে থাকে। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দিয়ে আসছে বেইজিং।

গত মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শির বৈঠকেও তাইওয়ান ইস্যুটি গুরুত্ব পায়। ওই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ১৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ স্থগিত করে। পরে চীনের সঙ্গে আলোচনায় তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও শির ব্যক্তিগত বৈঠকেও তাইওয়ান প্রসঙ্গ উঠে আসে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে শি জিনপিং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র: এপি