ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

সিটি নির্বাচন করব, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ শুরু করব: ইশরাক

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১ বার পড়া হয়েছে

পদত্যাগ ইস্যুতে প্রবাসী সাংবাদিককে অডিও কলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে গুলির ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, ‘আমি তো কারও জমি দখল করতে যাইনি, কারও কাছ থেকে চাঁদা নিতে যাইনি। তো সমস্যা কোথায়?’

রোববার রাতে সাংবাদিক নাজমুস সাকিবের প্রশ্নে সেদিনের গুলির ঘটনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, তারা সেখানে অবস্থান করার সময় ছাদ থেকে দুটি গুলি ছোড়া হয়। এছাড়া আমরা প্রবেশ করার সময় একসঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন বেরিয়ে আসেন। ওই সময় আমার নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। তাই আমি মনে করেছিলাম, কেউ অস্ত্র বের করছে। এ কারণে আমি কোমর থেকে পিস্তল বের করি।

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই আমি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঢাকায় দল তাকে কাজ করার সুযোগ দেবে— উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে যেন তার কারণে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেটি বিবেচনায় রেখেছেন।

ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরীর কাঠামো কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত নয়। ঢাকা সিটি করপোরেশনে আটটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ইশরাক আরও বলেন, ঢাকার সমস্যা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। রাজধানীকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।

নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ তার কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে শনিবার মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায় ইশরাক হোসেন অস্ত্র হাতে লোকজনকে তাড়া করছেন। পরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে তার পক্ষ দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন, শনিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে ইশরাক হোসেনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে, এমন আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। কিন্তু ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সিটি নির্বাচন করব, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ শুরু করব: ইশরাক

আপডেট সময়ঃ ০১:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পদত্যাগ ইস্যুতে প্রবাসী সাংবাদিককে অডিও কলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে গুলির ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, ‘আমি তো কারও জমি দখল করতে যাইনি, কারও কাছ থেকে চাঁদা নিতে যাইনি। তো সমস্যা কোথায়?’

রোববার রাতে সাংবাদিক নাজমুস সাকিবের প্রশ্নে সেদিনের গুলির ঘটনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, তারা সেখানে অবস্থান করার সময় ছাদ থেকে দুটি গুলি ছোড়া হয়। এছাড়া আমরা প্রবেশ করার সময় একসঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন বেরিয়ে আসেন। ওই সময় আমার নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। তাই আমি মনে করেছিলাম, কেউ অস্ত্র বের করছে। এ কারণে আমি কোমর থেকে পিস্তল বের করি।

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই আমি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঢাকায় দল তাকে কাজ করার সুযোগ দেবে— উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে যেন তার কারণে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেটি বিবেচনায় রেখেছেন।

ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরীর কাঠামো কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত নয়। ঢাকা সিটি করপোরেশনে আটটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ইশরাক আরও বলেন, ঢাকার সমস্যা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। রাজধানীকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।

নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ তার কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে শনিবার মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায় ইশরাক হোসেন অস্ত্র হাতে লোকজনকে তাড়া করছেন। পরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে তার পক্ষ দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন, শনিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে ইশরাক হোসেনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে, এমন আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। কিন্তু ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেন।