ঢাকা, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে বিসিবির স্বাধীন কমিটি

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১১:১৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে

নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের স্বাধীন কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমামকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। চার সদস্য নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে কমিটি। পঞ্চম সদস্য হিসেবে একজন সাবেক ক্রিকেটারকে যুক্ত করা হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিসিবির অভিযোগ কমিটির সচিব চন্দ্রা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, নতুন কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে। পঞ্চম সদস্যের নাম চূড়ান্ত হলে তাঁকেও যুক্ত করা হবে।

রাশনা ইমামের নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার আনীতা গাজী রহমান ও জারিন মাহমুদ হোসেন। রাশনা এর আগে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনের আগে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। ওই সময় তিনি বোর্ডের নারী বিভাগের প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন।

অভিযোগ তদন্তে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ প্রভাব ও স্বার্থের সংঘাত এড়াতে বর্তমান বিসিবির কোনো কর্মকর্তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। অভিযোগকারীরা যেন চাপ বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই নিজেদের অভিজ্ঞতা জানাতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

গত ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির ওয়ার্কিং কমিটির সভায় স্বাধীন অভিযোগ কমিটি গঠনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২ নভেম্বর বোর্ডের এক পরিচালক জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবটি নিয়ে নীতিগত ঐকমত্য হলেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে নতুন তথ্য অনুযায়ী, চার সদস্য নিয়ে কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

কমিটি গঠনের পাশাপাশি যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধে একটি সুরক্ষানীতিও তৈরি করেছে বিসিবি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়মকানুন ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসরণ করে নীতিটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চন্দ্রা ব্যানার্জি।

ক্রিকবাজকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও দেশের আইন অনুযায়ী সুরক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছে। এতে কোন ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ক্রিকেটাররা কীভাবে অভিযোগ জানাবেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ করতেও উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। নারী বিভাগের ক্রিকেটারদের মধ্যে ইতোমধ্যে সুরক্ষানীতির তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বোর্ডের ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিসিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়ে চন্দ্রা বলেন, অভিযোগ জানাতে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ক্রিকেটারদের মধ্যে অভিযোগের তথ্য প্রকাশ হয়ে যাওয়া বা পরিচয় গোপন না থাকার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাঁদের সেই ভয় দূর করতে কাজ করছে বোর্ড।

ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। এসব কর্মশালায় অভিযোগ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে, যাতে প্রয়োজনে তাঁরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রায় ১০০ নারী ক্রিকেটারের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রমও শুরু করেছে বোর্ড।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হলো। এর আগে জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। ওই অভিযোগ তদন্তে আলাদা কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি।

জাহানারার অভিযোগের পর নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি ওঠে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও (টিআইবি) যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে অভিজ্ঞ স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল।

বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে বিসিবির স্বাধীন কমিটি

আপডেট সময়ঃ ১১:১৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের স্বাধীন কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমামকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। চার সদস্য নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে কমিটি। পঞ্চম সদস্য হিসেবে একজন সাবেক ক্রিকেটারকে যুক্ত করা হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিসিবির অভিযোগ কমিটির সচিব চন্দ্রা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, নতুন কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে। পঞ্চম সদস্যের নাম চূড়ান্ত হলে তাঁকেও যুক্ত করা হবে।

রাশনা ইমামের নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার আনীতা গাজী রহমান ও জারিন মাহমুদ হোসেন। রাশনা এর আগে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনের আগে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। ওই সময় তিনি বোর্ডের নারী বিভাগের প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন।

অভিযোগ তদন্তে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ প্রভাব ও স্বার্থের সংঘাত এড়াতে বর্তমান বিসিবির কোনো কর্মকর্তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। অভিযোগকারীরা যেন চাপ বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই নিজেদের অভিজ্ঞতা জানাতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

গত ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির ওয়ার্কিং কমিটির সভায় স্বাধীন অভিযোগ কমিটি গঠনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২ নভেম্বর বোর্ডের এক পরিচালক জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবটি নিয়ে নীতিগত ঐকমত্য হলেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে নতুন তথ্য অনুযায়ী, চার সদস্য নিয়ে কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

কমিটি গঠনের পাশাপাশি যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধে একটি সুরক্ষানীতিও তৈরি করেছে বিসিবি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়মকানুন ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসরণ করে নীতিটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চন্দ্রা ব্যানার্জি।

ক্রিকবাজকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও দেশের আইন অনুযায়ী সুরক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছে। এতে কোন ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ক্রিকেটাররা কীভাবে অভিযোগ জানাবেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ করতেও উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। নারী বিভাগের ক্রিকেটারদের মধ্যে ইতোমধ্যে সুরক্ষানীতির তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বোর্ডের ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিসিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়ে চন্দ্রা বলেন, অভিযোগ জানাতে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ক্রিকেটারদের মধ্যে অভিযোগের তথ্য প্রকাশ হয়ে যাওয়া বা পরিচয় গোপন না থাকার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাঁদের সেই ভয় দূর করতে কাজ করছে বোর্ড।

ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। এসব কর্মশালায় অভিযোগ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে, যাতে প্রয়োজনে তাঁরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রায় ১০০ নারী ক্রিকেটারের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রমও শুরু করেছে বোর্ড।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হলো। এর আগে জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। ওই অভিযোগ তদন্তে আলাদা কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি।

জাহানারার অভিযোগের পর নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি ওঠে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও (টিআইবি) যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে অভিজ্ঞ স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল।

বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়।