ঢাকা, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ | ই-পেপার

বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করলে তো ভালো সম্পর্ক হবে না: রিজভী

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:২০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / ১১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সঙ্গে স্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বারবার সীমান্তে বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা বা আহত করা হলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

রোববার (১০ মে) ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ৪৫তম জাতীয় কাউন্সিল ২০২৬ এ বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় সীমান্তে সাম্প্রতিক গুলির ঘটনাও তুলে ধরেন রিজভী।

তিনি বলেন, “ভারতের নির্বাচন তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু বারবার বাংলাদেশিদের সীমান্তে কেন গুলি করা হবে? সীমান্তে রক্তপাত কবে বন্ধ হবে? শনিবার (৯ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ তো ভারতের মানুষও চায় না।”

রিজভী আরও বলেন, “আমরা চাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করবেন, এভাবে তো ভালো সম্পর্ক হবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থায়ী ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে হলে দিল্লিকে সহিংসতার মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, দেশের অবকাঠামো ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের পেশাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

তার ভাষায়, “নানা সময় নানা কথা আসতে পারে, কিন্তু আপনারা আপনাদের কাজ করে যাবেন। জনগণই আপনাদের কাজের মূল্যায়ন করবে। নির্বাচিত সরকার উন্নয়ন ও উৎপাদনে যারা ভূমিকা রাখে, সবাইকে মূল্যায়ন করবে।”

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। “প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করছেন,” বলেন তিনি।

একই সঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কোনো ফাঁপা কমিটমেন্ট করেননি। অতীতে ১০ টাকা কেজি চাল দেব, ঘরে ঘরে কাজ দেব, এ ধরনের প্রতারণামূলক অঙ্গীকার তারেক রহমান করেননি।”

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, আট লাখ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের ন্যায্য দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, সরকার জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে কাজ করছে এবং জনগণের প্রশ্ন করার অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। সংসদ কার্যক্রম ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই বর্তমান সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করলে তো ভালো সম্পর্ক হবে না: রিজভী

আপডেট সময়ঃ ০৪:২০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে স্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বারবার সীমান্তে বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা বা আহত করা হলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

রোববার (১০ মে) ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ৪৫তম জাতীয় কাউন্সিল ২০২৬ এ বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় সীমান্তে সাম্প্রতিক গুলির ঘটনাও তুলে ধরেন রিজভী।

তিনি বলেন, “ভারতের নির্বাচন তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু বারবার বাংলাদেশিদের সীমান্তে কেন গুলি করা হবে? সীমান্তে রক্তপাত কবে বন্ধ হবে? শনিবার (৯ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ তো ভারতের মানুষও চায় না।”

রিজভী আরও বলেন, “আমরা চাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করবেন, এভাবে তো ভালো সম্পর্ক হবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থায়ী ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে হলে দিল্লিকে সহিংসতার মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, দেশের অবকাঠামো ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের পেশাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

তার ভাষায়, “নানা সময় নানা কথা আসতে পারে, কিন্তু আপনারা আপনাদের কাজ করে যাবেন। জনগণই আপনাদের কাজের মূল্যায়ন করবে। নির্বাচিত সরকার উন্নয়ন ও উৎপাদনে যারা ভূমিকা রাখে, সবাইকে মূল্যায়ন করবে।”

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। “প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করছেন,” বলেন তিনি।

একই সঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কোনো ফাঁপা কমিটমেন্ট করেননি। অতীতে ১০ টাকা কেজি চাল দেব, ঘরে ঘরে কাজ দেব, এ ধরনের প্রতারণামূলক অঙ্গীকার তারেক রহমান করেননি।”

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, আট লাখ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের ন্যায্য দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, সরকার জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে কাজ করছে এবং জনগণের প্রশ্ন করার অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। সংসদ কার্যক্রম ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই বর্তমান সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।