ঢাকা, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ | ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক এখন বাংলাদেশ

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমলেও দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় মূলত বাংলাদেশ উপরে উঠেছে। আর বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত সবশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২০৪ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে চীনের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে ১৭০ কোটি ডলারে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটি ৩৬১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। এতে বাংলাদেশের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে দেশটি।

এদিকে, ভিয়েতনাম ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। পোশাকখাতে দেশটির বাজার হিস্যা বর্তমানে ২২ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে শুধু ভিয়েতনামের রপ্তানিতে বেড়েছে। কমেছে বাংলাদেশসহ চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, গত তিন মাসে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য কমে ১২২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর ভারতের রপ্তানি ২৭ শতাংশ কমে ১১০ কোটি ডলারে নেমেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের ফলে বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই পাল্টা শুল্কের আওতায় পড়া ১৫৭টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে চীন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতার ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার কিছুটা কমায় প্রতিযোগিতায় কিছু সুবিধা পাওয়া গেছে।

তবে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, শুল্কজনিত কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে। এতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রয়াদেশ কমেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক এখন বাংলাদেশ

আপডেট সময়ঃ ০৩:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমলেও দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় মূলত বাংলাদেশ উপরে উঠেছে। আর বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত সবশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২০৪ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে চীনের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে ১৭০ কোটি ডলারে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটি ৩৬১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। এতে বাংলাদেশের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে দেশটি।

এদিকে, ভিয়েতনাম ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। পোশাকখাতে দেশটির বাজার হিস্যা বর্তমানে ২২ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে শুধু ভিয়েতনামের রপ্তানিতে বেড়েছে। কমেছে বাংলাদেশসহ চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, গত তিন মাসে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য কমে ১২২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর ভারতের রপ্তানি ২৭ শতাংশ কমে ১১০ কোটি ডলারে নেমেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের ফলে বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই পাল্টা শুল্কের আওতায় পড়া ১৫৭টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে চীন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতার ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার কিছুটা কমায় প্রতিযোগিতায় কিছু সুবিধা পাওয়া গেছে।

তবে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, শুল্কজনিত কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে। এতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রয়াদেশ কমেছে।