ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ | ই-পেপার

রাজবাড়ীতে জুয়ার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে মারপিট, হাসপাতালে ভর্তি।।

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / ৩১ বার পড়া হয়েছে

আদম আলী রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গায় অনলাইন জুয়ার টাকা দিতে না পেরে স্ত্রীকে মারপিট করেছে স্বামী সোহেল শখ।

বর্তমানে নির্যাতিত ইভা আক্তার রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ইভা আক্তার সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রামের ইউনুচ আলীর মেয়ে। অভিযুক্ত পাষন্ড স্বামী সোহেল শেখ বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা গ্রামের নোবিয়াল শেখের ছেলে।গত সাত আট মাস আগে ইভা আক্তারের সাথে সোহেল শেখের বিয়ে হয়।

গতকাল ২০জুন রাতে ইভা আক্তারের স্বামী তার স্ত্রীর কাছে টাকা চায়। সে টাকা দিতে না পেরে তাকে বেধরক মারপিট করে। মারপিট করার এক পর্যায়ে তার হাত বেঁধে আগুন ধরিয়ে দিতে গেলে বাড়ির লোকজনের কারনে তার শরীরে আগুন দিতে পারেনি।

ইভাকে তার স্বামী, শ্বশুর ও তার শ্বাশুরী সবাই মিলে মারপিট করেছে। পরে অসুস্থ্য অবস্থায় তাকে মেযের বাবা ইউনুস আলী তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে আসার পর ইভার স্বামী শ্বশুর বাড়িতে লোকজন নিয়ে এসে আবারও মারপিট করে দ্রুত চলে যায়।এ অবস্থায় মেয়ের বাবা মো. ইউনুস আলী মোল্লা মেয়েকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাচ্ছেন। বর্তমানে ইভা মারাত্বক অসুস্থ্য, এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিয়ের সময় দরিদ্র বাবা তার গরু ছাগল বিক্রি করে মেয়েকে দুই ভরি স্বর্ণের বিভিন্ন গহনা দিয়েছিলেন চার লক্ষ টাকা খরচ করে।সেই স্বর্ণের গহনা সব কিছু বিক্রি করে তার স্বামী সোহেল অনলাইন জুয়া খেলে সব হারিয়েছে।জুয়া খেলার সাথে মাদক সেবনও করে নিয়মিত। বর্তমানে ঘরের বিভিন্ন আসবাব পত্র ও নগদ টাকা অনলাইন জুয়া খেলে নষ্ট করছে। স্ত্রীর কাছে টাকা চেয়ে না পেলে তাকে মারপিট করতে থাকে।নির্যাতনের এমন পরিস্থিতি ইভা আক্তারের সাথে বিয়ের পর থেকেই চলমান রয়েছে। মেয়ের বাবা মেয়ের অসুস্থ্যতার কারনে এখনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন নি।মেযের শারিরিক অবস্থার উন্নতি হলে থানায় মামলা করবেন বলে জানান।
ভুক্তভোগী মেয়ের বাবা ইউনুস আলী জানান, বাড়ির বড় মেয়ে হওয়ার কারনে তাকে বাড়ির গরু,ছাগল বিক্রি করে মেয়েকে স্বর্ণের গহনা দিয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারেন নি তার মেয়ের জামাই অনলাইন জুয়া ও মাদকের সাথে যুক্ত।মেয়েকে দেওয়া সব স্বর্ণ বিক্রি করে জুয়া খেলে প্রতিদিন। মাদকও সেবন করেন প্রতিদিন।মেয়ের কাছে টাকা চায় জুয়া খেলার জন্য।টাকা দিতে না পারলে মেয়েকে মারধর করে। এ বিষয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজবাড়ীতে জুয়ার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে মারপিট, হাসপাতালে ভর্তি।।

আপডেট সময়ঃ ০৭:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আদম আলী রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গায় অনলাইন জুয়ার টাকা দিতে না পেরে স্ত্রীকে মারপিট করেছে স্বামী সোহেল শখ।

বর্তমানে নির্যাতিত ইভা আক্তার রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ইভা আক্তার সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রামের ইউনুচ আলীর মেয়ে। অভিযুক্ত পাষন্ড স্বামী সোহেল শেখ বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা গ্রামের নোবিয়াল শেখের ছেলে।গত সাত আট মাস আগে ইভা আক্তারের সাথে সোহেল শেখের বিয়ে হয়।

গতকাল ২০জুন রাতে ইভা আক্তারের স্বামী তার স্ত্রীর কাছে টাকা চায়। সে টাকা দিতে না পেরে তাকে বেধরক মারপিট করে। মারপিট করার এক পর্যায়ে তার হাত বেঁধে আগুন ধরিয়ে দিতে গেলে বাড়ির লোকজনের কারনে তার শরীরে আগুন দিতে পারেনি।

ইভাকে তার স্বামী, শ্বশুর ও তার শ্বাশুরী সবাই মিলে মারপিট করেছে। পরে অসুস্থ্য অবস্থায় তাকে মেযের বাবা ইউনুস আলী তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে আসার পর ইভার স্বামী শ্বশুর বাড়িতে লোকজন নিয়ে এসে আবারও মারপিট করে দ্রুত চলে যায়।এ অবস্থায় মেয়ের বাবা মো. ইউনুস আলী মোল্লা মেয়েকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাচ্ছেন। বর্তমানে ইভা মারাত্বক অসুস্থ্য, এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিয়ের সময় দরিদ্র বাবা তার গরু ছাগল বিক্রি করে মেয়েকে দুই ভরি স্বর্ণের বিভিন্ন গহনা দিয়েছিলেন চার লক্ষ টাকা খরচ করে।সেই স্বর্ণের গহনা সব কিছু বিক্রি করে তার স্বামী সোহেল অনলাইন জুয়া খেলে সব হারিয়েছে।জুয়া খেলার সাথে মাদক সেবনও করে নিয়মিত। বর্তমানে ঘরের বিভিন্ন আসবাব পত্র ও নগদ টাকা অনলাইন জুয়া খেলে নষ্ট করছে। স্ত্রীর কাছে টাকা চেয়ে না পেলে তাকে মারপিট করতে থাকে।নির্যাতনের এমন পরিস্থিতি ইভা আক্তারের সাথে বিয়ের পর থেকেই চলমান রয়েছে। মেয়ের বাবা মেয়ের অসুস্থ্যতার কারনে এখনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন নি।মেযের শারিরিক অবস্থার উন্নতি হলে থানায় মামলা করবেন বলে জানান।
ভুক্তভোগী মেয়ের বাবা ইউনুস আলী জানান, বাড়ির বড় মেয়ে হওয়ার কারনে তাকে বাড়ির গরু,ছাগল বিক্রি করে মেয়েকে স্বর্ণের গহনা দিয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারেন নি তার মেয়ের জামাই অনলাইন জুয়া ও মাদকের সাথে যুক্ত।মেয়েকে দেওয়া সব স্বর্ণ বিক্রি করে জুয়া খেলে প্রতিদিন। মাদকও সেবন করেন প্রতিদিন।মেয়ের কাছে টাকা চায় জুয়া খেলার জন্য।টাকা দিতে না পারলে মেয়েকে মারধর করে। এ বিষয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান তিনি।