প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে বললেন ইসরায়েলি মন্ত্রী
- আপডেট সময়ঃ ১১:৪৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ৬ বার পড়া হয়েছে
গাজ্জায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ ফিলিস্তিনিকে লক্ষ্য করে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
শুধু তাৎক্ষণিকভাবে হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের নয়, আরও অনেক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) প্রকাশ্যে আসা একটি পডকাস্টে সাবেক ইসরাইলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বেন-গভির। প্রকাশের পর তার মন্তব্যগুলো ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
বেন-গভির বলেন, গাজ্জায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে লক্ষ্য করে হত্যার অভিযান চালানো উচিত। শুধু যারা ওই মুহূর্তে হুমকি তৈরি করছে, তাদের মধ্যেই এ অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
এ সময় তিনি আরও বলেন, গাজ্জায় এমন মানুষ রয়েছে, যারা তার ভাষায় ‘বেঁচে থাকার যোগ্য নয়’ এবং ‘তারা মানুষও নয়’।
গাজ্জায় বর্তমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরাইলি সামরিক হামলা কমিয়ে আনার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেন বেন-গভির। এর পরিবর্তে গাজ্জায় আবারও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড চালানোর পক্ষে মত দেন তিনি।
তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে সরাসরি হামলার নির্দেশ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা বেন-গভিরের নেই। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনি দেশটির যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখেন। পাশাপাশি ইসরাইলের পুলিশ ও কারা ব্যবস্থার দায়িত্বও তার হাতে রয়েছে।
আলোচনায় ইসরাইলে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ড আইন নিয়েও কথা বলেন বেন-গভির। ওই আইনে সামরিক আদালতে ইসরাইলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ সময় ব্রাসলাভস্কি তাকে অনুরোধ করেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ হলে যেন তাকে নিজ হাতে তা কার্যকর করার সুযোগ দেওয়া হয়।
জবাবে বেন-গভির বলেন, সেই সুযোগ করে দিতে তিনি ‘দুনিয়া উল্টে দেবেন’ এবং এ বিষয়ে যা করার সবই করবেন।
বেন-গভির গাজ্জা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে চলে যেতে উৎসাহ দেওয়ার পক্ষেও মত দেন। একই সঙ্গে গাজ্জায় নতুন ইসরাইলি বসতি স্থাপনের কথাও বলেন তিনি।
আলোচনায় তিনি আবারও দাবি করেন, ‘পুরো গাজ্জাই আমাদের’।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন, ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে, জোরপূর্বক বা পরিকল্পিতভাবে গাজ্জা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ জাতিগত নিধনের পর্যায়ে পড়তে পারে।
বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্যকে তার দীর্ঘদিনের উগ্র বক্তব্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৈশোরে তিনি নিষিদ্ধ কাহানিস্ট জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার পরও ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন তিনি। একই সঙ্গে ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতি আরও কঠোর করার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।
তার বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা রয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
গাজ্জা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলি সরকারের অভ্যন্তরেও মতপার্থক্য ক্রমেই প্রকাশ্য হচ্ছে। বিশেষ করে উগ্র ডানপন্থী অংশ আরও কঠোর সামরিক অভিযান এবং গাজ্জায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্য সেই চাপকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।






















