সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে মিলল এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততা: চিফ প্রসিকিউটর
- আপডেট সময়ঃ ০৬:৩০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এক ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে। তবে মামলাটির মূল তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তের সময় অন্য কোনো ঘটনার সূত্র পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও এমন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনার সময় এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের একটি সংযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিষয়টি এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নজরদারিতে রয়েছেন। তদন্তে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তকারী পিবিআই কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হতে পারে।
এর আগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তের সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তার দাবি ছিল, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আগে থেকেই তৎকালীন র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের কাছে তথ্য ছিল।
জোহা এক ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ওই কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল, ‘একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে’। তবে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা তখন নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পরদিন সকালে ওই কর্মকর্তা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন বলে দাবি করা হয়।
সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিচার কোথায় হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এটি একটি ব্যক্তি হত্যার ঘটনা হওয়ায় সাধারণত সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতেই এর বিচার হবে। তবে কোনো ঘটনা যদি বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড না হয়ে ব্যাপক বা পদ্ধতিগত অপরাধের অংশ হয়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারে আসতে পারে।
এদিকে সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার বিষয়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মামলার বাদী নওশের রোমান জানান, এ বিষয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন। পাশাপাশি মামলায় নতুন করে যাদের নাম আসছে, তারা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম।
এ সময় প্রসিকিউটর তানভীর জোহা জানান, সাবেক এক মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার সূত্রে তার বরিশালের বাসা থেকে বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এসবের মধ্যে থাকা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সার্ভার ট্রাইব্যুনাল জব্দ করে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে ২০০৭ সাল থেকে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে। এমনকি কিছু মুছে ফেলা ফাইলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তিন থেকে চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান জোহা। তাদের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জোহা আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যসহ অন্যান্য আলামত সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে যাচাই করা হলে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে বিডিআর কিংবা তৎকালীন সরকারের কিছু স্পর্শকাতর নথির বিষয়েও তথ্য এসেছে বলে জানান তিনি। এসব নথি কোনো ডিস্ক, টেপ বা মেমোরির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পাশাপাশি বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিখোঁজ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।



















