ঢাকা, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ | ই-পেপার

১৮০ দিনে সরকারের বিরুদ্ধে ৪৬৪টি অপতথ্য প্রচার হয়েছে : জাহেদ উর রহমান

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ১৮০ দিনে আমাদের বিরুদ্ধে অপতথ্য প্রচারিত হয়েছে বড় ধরনের ৪৬৪টি। এর মধ্যে ১৫৭টি হয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে যতগুলো হয়েছে, এর মধ্যে বেশ ওপরের দিকে আমার অবস্থানও আছে।

রবিবার বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) মিলনায়তনে পিআইবির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও অবজারভারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি পরিষদ এই আলোচনাসভার আয়োজন করে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি এটা বলতে চাইছি, এই সরকার মতপ্রকাশের ব্যাপারে আসলে খুবই উদার আছে, উদার থাকবে। একটা গণতান্ত্রিক সরকারের মতপ্রকাশের ব্যাপারে উদার থাকাটাই স্বাভাবিক। মতপ্রকাশ বন্ধ করে দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার- যেটা ভবিষ্যতে আরেকটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায় তার কোনো লাভ নেই।

বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের সমালোচনার প্রতি সহিষ্ণু বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান বলেন, আবদুস সালাম ডিক্টেটরদের বিরুদ্ধে অ্যাক্টিজম করেছেন। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় এ ধরনের অ্যাক্টিজমের প্রয়োজন আছে। আমরা আর কোনো গণঅভ্যুত্থান চাই না; আবু সাঈদ, মুগ্ধরা জীবন দিক- সেটাও চাই না। সেই প্রেক্ষাপটে আবদুস সালামদের অ্যাক্টিজমও যেন আর ফিরে না আসে, সেটাই চাই। তবে ভবিষ্যতে আবারও যদি কোনো ডিক্টেটর ফিরে, আসে তখন তার অ্যাক্টিভিজমে ফিরে যেতে হবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশেও আমরা আবদুস সালামকে মনে রাখবো।

এসময় আলোচকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আবদুস সালামের নামে ঢাকা নগরীর একটি সড়কের নামকরণ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, চব্বিশের আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় পথচলা শুরু করেছি। কিন্তু পাঁচ মাস যেতে না যেতেই পুরনো অপশক্তি আবারও গণতন্ত্রের পথে আবারও কণ্টক বিছাতে চাইছে। গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হিসেবে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদেরও এর বিরুদ্ধে বলিষ্ঠভাবে কথা বলতে হবে। এমন প্রেক্ষাপটে আবদুস সালামের মতো সাহসী সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্যত।

আবদুস সালাম নির্মোহভাবে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেছেন উল্লেখ করে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যারা সরকারে থাকেন, তারা মনে করেন, গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা হলে তারা দুর্বল হয়ে পড়বেন। কিন্তু তারা যদি সমালোচনাকে গ্রহণ করে নিজেকে সংশোধন করতে পারলে দেশ ও জাতিও এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে আমাদের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা ক্ষমতামুখী ও দলদাসে পরিণত হওয়ায় সাংবাদিকতার ইতিহাস কলঙ্কিত হয়েছে। পেশার মর্যাদাহানি হয়েছে। গত দুই দশকে সম্পাদকদের মধ্যে অসহায় আত্মসমর্পণ দেখেছি। এই সম্পাদক ও সাংবাদিকরাই শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী বানানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। এর বিপরীতে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সম্পাদক ও ভাষাসৈনিক আবদুস সালামের সাহসী ও নির্মোহ সাংবাদিকতা আমাদের পথ দেখায়। তাই, সাংবাদিকতার হারানো সম্মান ও মর্যাদা ফিরে পেতে তার মতো মানুষদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ প্রখ্যাত এই সাংবাদিকদের নামে পিআইবি থেকে একটি পদক চালুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, যে জাতি তার ইতিহাস এবং কৃতি সন্তানদের মনে রাখে না, সে জাতি দুর্ভাগা। আবদুস সালামের মতো মানুষদেরও মনে রাখানোর জন্য আমাদের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মতো একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটাতে হয়েছে। তার মানে ৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশ কতটা বন্দি অবস্থায় ছিল। তখন তার স্মরণে একটা আলোচনা সভাও করা যায়নি।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক ও আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক লোটন একরামের সঞ্চালনায় সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আবদুস সালামের মেয়ে ও স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম। আরও বক্তব্য দেন দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, সদস্য সচিব জুবায়ের আহমেদ বাবু প্রমুখ। সভার শুরুতে সাংবাদিক আবদুস সালামের জীবন ও কর্ম এবং পিআইবি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দু’টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

১৮০ দিনে সরকারের বিরুদ্ধে ৪৬৪টি অপতথ্য প্রচার হয়েছে : জাহেদ উর রহমান

আপডেট সময়ঃ ০৮:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ১৮০ দিনে আমাদের বিরুদ্ধে অপতথ্য প্রচারিত হয়েছে বড় ধরনের ৪৬৪টি। এর মধ্যে ১৫৭টি হয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে যতগুলো হয়েছে, এর মধ্যে বেশ ওপরের দিকে আমার অবস্থানও আছে।

রবিবার বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) মিলনায়তনে পিআইবির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও অবজারভারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি পরিষদ এই আলোচনাসভার আয়োজন করে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি এটা বলতে চাইছি, এই সরকার মতপ্রকাশের ব্যাপারে আসলে খুবই উদার আছে, উদার থাকবে। একটা গণতান্ত্রিক সরকারের মতপ্রকাশের ব্যাপারে উদার থাকাটাই স্বাভাবিক। মতপ্রকাশ বন্ধ করে দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার- যেটা ভবিষ্যতে আরেকটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায় তার কোনো লাভ নেই।

বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের সমালোচনার প্রতি সহিষ্ণু বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান বলেন, আবদুস সালাম ডিক্টেটরদের বিরুদ্ধে অ্যাক্টিজম করেছেন। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় এ ধরনের অ্যাক্টিজমের প্রয়োজন আছে। আমরা আর কোনো গণঅভ্যুত্থান চাই না; আবু সাঈদ, মুগ্ধরা জীবন দিক- সেটাও চাই না। সেই প্রেক্ষাপটে আবদুস সালামদের অ্যাক্টিজমও যেন আর ফিরে না আসে, সেটাই চাই। তবে ভবিষ্যতে আবারও যদি কোনো ডিক্টেটর ফিরে, আসে তখন তার অ্যাক্টিভিজমে ফিরে যেতে হবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশেও আমরা আবদুস সালামকে মনে রাখবো।

এসময় আলোচকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আবদুস সালামের নামে ঢাকা নগরীর একটি সড়কের নামকরণ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, চব্বিশের আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় পথচলা শুরু করেছি। কিন্তু পাঁচ মাস যেতে না যেতেই পুরনো অপশক্তি আবারও গণতন্ত্রের পথে আবারও কণ্টক বিছাতে চাইছে। গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হিসেবে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদেরও এর বিরুদ্ধে বলিষ্ঠভাবে কথা বলতে হবে। এমন প্রেক্ষাপটে আবদুস সালামের মতো সাহসী সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্যত।

আবদুস সালাম নির্মোহভাবে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেছেন উল্লেখ করে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যারা সরকারে থাকেন, তারা মনে করেন, গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা হলে তারা দুর্বল হয়ে পড়বেন। কিন্তু তারা যদি সমালোচনাকে গ্রহণ করে নিজেকে সংশোধন করতে পারলে দেশ ও জাতিও এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে আমাদের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা ক্ষমতামুখী ও দলদাসে পরিণত হওয়ায় সাংবাদিকতার ইতিহাস কলঙ্কিত হয়েছে। পেশার মর্যাদাহানি হয়েছে। গত দুই দশকে সম্পাদকদের মধ্যে অসহায় আত্মসমর্পণ দেখেছি। এই সম্পাদক ও সাংবাদিকরাই শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী বানানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। এর বিপরীতে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সম্পাদক ও ভাষাসৈনিক আবদুস সালামের সাহসী ও নির্মোহ সাংবাদিকতা আমাদের পথ দেখায়। তাই, সাংবাদিকতার হারানো সম্মান ও মর্যাদা ফিরে পেতে তার মতো মানুষদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ প্রখ্যাত এই সাংবাদিকদের নামে পিআইবি থেকে একটি পদক চালুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, যে জাতি তার ইতিহাস এবং কৃতি সন্তানদের মনে রাখে না, সে জাতি দুর্ভাগা। আবদুস সালামের মতো মানুষদেরও মনে রাখানোর জন্য আমাদের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মতো একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটাতে হয়েছে। তার মানে ৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশ কতটা বন্দি অবস্থায় ছিল। তখন তার স্মরণে একটা আলোচনা সভাও করা যায়নি।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক ও আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক লোটন একরামের সঞ্চালনায় সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আবদুস সালামের মেয়ে ও স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম। আরও বক্তব্য দেন দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, সদস্য সচিব জুবায়ের আহমেদ বাবু প্রমুখ। সভার শুরুতে সাংবাদিক আবদুস সালামের জীবন ও কর্ম এবং পিআইবি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দু’টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।