ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | ই-পেপার

মোঘল আমলের কারুকার্যে নতুন প্রাণ গফুরের কুটির শিল্পে স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৫২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৫৯২ বার পড়া হয়েছে

আদম আলী, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে এক ভিন্নধর্মী কুটির শিল্পাঙ্গন। মোঘল আমলের স্থাপত্য ও কারুকার্যের ছোঁয়ায় সাজানো এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি যেন ইতিহাস আর আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন। এর নেপথ্যের মানুষটি হলেন আব্দুল গফুর মণ্ডল—যিনি দারিদ্রতাকে জয় করে আজ নিজেই হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের পথপ্রদর্শক।

দারিদ্রতার কষাঘাতে আব্দুল গফুরের শৈশব ছিল সংগ্রামের। লেখাপড়ার সুযোগ না পেয়ে খুব অল্প বয়সেই তাকে স্কুল ছাড়তে হয়। গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমান জীবিকার সন্ধানে। কিন্তু ভাগ্যের কাছে হার মানেননি তিনি। মনের গভীরে লালিত স্বপ্ন আর নিজের হাতে কাজ শেখার প্রবল আগ্রহ তাকে টেনে আনে কুটির শিল্পের জগতে।
চুনা পাথরের সাধারণ কারুকার্য নয়—আব্দুল গফুরের তৈরি নকশাগুলো যেন মোঘল আমলের নির্মিত বহুতল ভবনের অলঙ্করণ। ঐতিহ্যবাহী মুঘল স্থাপত্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি প্লাস্টার কারুকার্যে এনে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। তার শিল্পকর্মে ফুটে ওঠে বিভিন্ন প্রকারের ফুলের নকশা, বেলকনি প্লার, জানালার হাফ প্লার, নেছা প্লার, রেলিং প্লারসহ নানান নান্দনিক ডিজাইন।

শহরে কাজ শেখার পর আবার নিজের জন্মভূমিতে ফিরে এসে তিনি গড়ে তোলেন শিল্প প্রতিষ্ঠান—“মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ”। এখানে সুলভ মূল্যে মোঘল আমলের কারুকার্য খচিত বিভিন্ন ধরনের প্লার ও ডিজাইন সামগ্রী তৈরি ও বিক্রি করা হয়। শুধু নিজে স্বাবলম্বী হওয়াই নয়, এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকার বেকার যুবকদের জন্য তৈরি করেছে কর্মসংস্থানের সুযোগ।

শৈশবে আব্দুল গফুরের স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শিখে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। দারিদ্রতা সে স্বপ্ন ভেঙে দিলেও আজ তার হাতের শিল্পই হয়ে উঠেছে সাফল্যের সিঁড়ি। নিজের পরিশ্রম, ধৈর্য ও সৃজনশীলতায় তিনি প্রমাণ করেছেন—চাইলেই প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।

আব্দুল গফুরের এই উদ্যোগ আজ এলাকার মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছে চমক ও অনুপ্রেরণা। তার মতো যদি বেকার যুবকেরা নিজ নিজ উদ্যোগে শিল্পকর্ম বা উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসে, তবে সমাজ থেকে অনেকাংশেই বেকারত্ব দূর করা সম্ভব—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
মোঘল আমলের কারুকার্যে গড়ে ওঠা এই কুটির শিল্প শুধু একটি ব্যবসা নয়, এটি এক সংগ্রামী জীবনের সফল পরিণতির গল্প।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মোঘল আমলের কারুকার্যে নতুন প্রাণ গফুরের কুটির শিল্পে স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প

আপডেট সময়ঃ ০৬:৫২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

আদম আলী, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে এক ভিন্নধর্মী কুটির শিল্পাঙ্গন। মোঘল আমলের স্থাপত্য ও কারুকার্যের ছোঁয়ায় সাজানো এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি যেন ইতিহাস আর আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন। এর নেপথ্যের মানুষটি হলেন আব্দুল গফুর মণ্ডল—যিনি দারিদ্রতাকে জয় করে আজ নিজেই হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের পথপ্রদর্শক।

দারিদ্রতার কষাঘাতে আব্দুল গফুরের শৈশব ছিল সংগ্রামের। লেখাপড়ার সুযোগ না পেয়ে খুব অল্প বয়সেই তাকে স্কুল ছাড়তে হয়। গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমান জীবিকার সন্ধানে। কিন্তু ভাগ্যের কাছে হার মানেননি তিনি। মনের গভীরে লালিত স্বপ্ন আর নিজের হাতে কাজ শেখার প্রবল আগ্রহ তাকে টেনে আনে কুটির শিল্পের জগতে।
চুনা পাথরের সাধারণ কারুকার্য নয়—আব্দুল গফুরের তৈরি নকশাগুলো যেন মোঘল আমলের নির্মিত বহুতল ভবনের অলঙ্করণ। ঐতিহ্যবাহী মুঘল স্থাপত্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি প্লাস্টার কারুকার্যে এনে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। তার শিল্পকর্মে ফুটে ওঠে বিভিন্ন প্রকারের ফুলের নকশা, বেলকনি প্লার, জানালার হাফ প্লার, নেছা প্লার, রেলিং প্লারসহ নানান নান্দনিক ডিজাইন।

শহরে কাজ শেখার পর আবার নিজের জন্মভূমিতে ফিরে এসে তিনি গড়ে তোলেন শিল্প প্রতিষ্ঠান—“মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ”। এখানে সুলভ মূল্যে মোঘল আমলের কারুকার্য খচিত বিভিন্ন ধরনের প্লার ও ডিজাইন সামগ্রী তৈরি ও বিক্রি করা হয়। শুধু নিজে স্বাবলম্বী হওয়াই নয়, এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকার বেকার যুবকদের জন্য তৈরি করেছে কর্মসংস্থানের সুযোগ।

শৈশবে আব্দুল গফুরের স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শিখে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। দারিদ্রতা সে স্বপ্ন ভেঙে দিলেও আজ তার হাতের শিল্পই হয়ে উঠেছে সাফল্যের সিঁড়ি। নিজের পরিশ্রম, ধৈর্য ও সৃজনশীলতায় তিনি প্রমাণ করেছেন—চাইলেই প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।

আব্দুল গফুরের এই উদ্যোগ আজ এলাকার মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছে চমক ও অনুপ্রেরণা। তার মতো যদি বেকার যুবকেরা নিজ নিজ উদ্যোগে শিল্পকর্ম বা উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসে, তবে সমাজ থেকে অনেকাংশেই বেকারত্ব দূর করা সম্ভব—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
মোঘল আমলের কারুকার্যে গড়ে ওঠা এই কুটির শিল্প শুধু একটি ব্যবসা নয়, এটি এক সংগ্রামী জীবনের সফল পরিণতির গল্প।