ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | ই-পেপার

লামা বাজারে গরুর মাংসে অতিরিক্ত দাম, নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ করিম লামা, আলীকদম প্রতিনিধি: সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ থাকলেও কার্যকর তদারকির অভাবে ক্রেতারা বাধ্য হচ্ছিলেন অতিরিক্ত দামে মাংস কিনতে। অবশেষে এ অনিয়মের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) লামা বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সেই অনিয়মের বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে।

উপজেলার প্রধান বাজার লামা বাজারে অভিযান চালান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ। অভিযানে কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে তিনটি মামলায় তিনজন ব্যবসায়ীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোট ৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা।

ক্রেতাদের অভিযোগের সত্যতা মিলল অভিযানে স্থানীয় ক্রেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে গরুর মাংসের দামে কোনো স্থিরতা নেই। কেউ মূল্য তালিকা টানান না, আর টানালেও তা মানা হয় না। এক ক্রেতা বলেন, “এক দোকানে এক দাম, আরেক দোকানে আরেক দাম। জিজ্ঞেস করলে বলা হয়, এটাই বাজারদর।”
মোবাইল কোর্ট চলাকালে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে ইচ্ছামতো দামে গরুর মাংস বিক্রি করছেন। অনেক দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায় ক্রেতারা প্রকৃত দাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে, কৃষিপণ্য ও পশুজাত পণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্য মেনে চলতে হবে। কিন্তু নিয়মিত নজরদারির অভাবে আইনটি অনেক জায়গায় কার্যকর হচ্ছে না। লামা বাজারেও সেই চিত্রই দেখা গেছে।
মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (দাপ্তরিক প্রসিকিউটর), লামা। তিনি জানান, “ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্ক করা হলেও অনেকে তা মানছেন না। তাই আইন প্রয়োগ ছাড়া বিকল্প ছিল না।”

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ বলেন, “ভোক্তার স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হবে না। কেউ যদি নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে পণ্য বিক্রি করেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।”

মোবাইল কোর্টের খবরে বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিয়মিত অভিযান হলে ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবেন না। তাদের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোবাইল কোর্টসহ অন্যান্য তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

লামা বাজারে গরুর মাংসে অতিরিক্ত দাম, নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

আপডেট সময়ঃ ১০:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোহাম্মদ করিম লামা, আলীকদম প্রতিনিধি: সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ থাকলেও কার্যকর তদারকির অভাবে ক্রেতারা বাধ্য হচ্ছিলেন অতিরিক্ত দামে মাংস কিনতে। অবশেষে এ অনিয়মের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) লামা বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সেই অনিয়মের বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে।

উপজেলার প্রধান বাজার লামা বাজারে অভিযান চালান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ। অভিযানে কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে তিনটি মামলায় তিনজন ব্যবসায়ীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোট ৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা।

ক্রেতাদের অভিযোগের সত্যতা মিলল অভিযানে স্থানীয় ক্রেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে গরুর মাংসের দামে কোনো স্থিরতা নেই। কেউ মূল্য তালিকা টানান না, আর টানালেও তা মানা হয় না। এক ক্রেতা বলেন, “এক দোকানে এক দাম, আরেক দোকানে আরেক দাম। জিজ্ঞেস করলে বলা হয়, এটাই বাজারদর।”
মোবাইল কোর্ট চলাকালে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে ইচ্ছামতো দামে গরুর মাংস বিক্রি করছেন। অনেক দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায় ক্রেতারা প্রকৃত দাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে, কৃষিপণ্য ও পশুজাত পণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্য মেনে চলতে হবে। কিন্তু নিয়মিত নজরদারির অভাবে আইনটি অনেক জায়গায় কার্যকর হচ্ছে না। লামা বাজারেও সেই চিত্রই দেখা গেছে।
মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (দাপ্তরিক প্রসিকিউটর), লামা। তিনি জানান, “ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্ক করা হলেও অনেকে তা মানছেন না। তাই আইন প্রয়োগ ছাড়া বিকল্প ছিল না।”

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ বলেন, “ভোক্তার স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হবে না। কেউ যদি নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে পণ্য বিক্রি করেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।”

মোবাইল কোর্টের খবরে বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিয়মিত অভিযান হলে ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবেন না। তাদের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোবাইল কোর্টসহ অন্যান্য তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।