ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কোনো কমপ্রোমাইজ নেই: জামায়াত আমির

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শুক্রবার নেত্রকোনার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রশ্নের জবাবে বললেন, “আমাদের বিজিবি’র পাশাপাশি আমরা সবাই বিজিবি হয়ে আমরা ওখানে খাড়ায়ে যাব ইনশাআল্লাহ। বিজিবি’র হাতে অস্ত্র থাকবে, আমাদের বুকের দেশপ্রেমের অস্ত্র নিয়ে আমরা দাঁড়ায়ে যাব। এবং বহু জায়গায় দাঁড়ায়ে গেছে বলে ওরা পারে নাই কিছু করতে। কিন্তু এটা দুঃখজনক, তারা বলে যে তারা আমাদের বন্ধু দেশ। বন্ধু দেশ কি মানুষকে এরকম মানে বিব্রত করবে? ক্ষতিগ্রস্ত করবে? বন্ধুত্বের পরিচয় এভাবে হয় না। বন্ধুত্বের পরিচয় দেওয়ার জন্য আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। কিন্তু কেউ যদি না দেয়, তাহলে কি আমি গালে হাত দিয়ে বসে থাকব? এ দেশ আমার দেশ, আমাকে আমার দেশ রক্ষা করতে হবে। এর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কোনো কমপ্রোমাইজ নেই। অনেক ব্যাপারে কমপ্রোমাইজ হতে পারে, এই দুইটা ব্যাপারে কোনো কমপ্রোমাইজ নেই।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা একটা নোটিশ জমা দিয়েছিলাম সীমান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য। সরকার এখনো নোটিশটা আমাদেরকে আলোচনা করতে দিচ্ছে না। এখন আবার ৭ তারিখ থেকে শুরু হবে, আমরা আবার শুরু করব। আমাদের অন্য সদস্যদেরকে দিয়েই নোটিশ দিয়েছিলাম, এখন হয়তো আমাকে দিয়ে দিতে হবে। যদি আমাকে দিয়ে এই নোটিশ এক্সেপ্ট না হয়, তাহলে আমাকে দাঁড়িয়ে যেতে হবে, কথা বলতে হবে। তো আমি ওইভাবে চাইছিলাম না। আমি চাইছিলাম যে নোটিশটা সুন্দরভাবে আসুক। দেশ তো সবার, প্রবলেমও সবার। আমরা প্রবলেমটা ডিসকাস করি, শেয়ার করি, সমাধান বের করি। সংসদ থেকেও ঐক্যবদ্ধ একটা আওয়াজ উঠলে সারা দুনিয়ায় এটা ছড়ায়ে পড়বে। মেসেজ যাবে বহু জায়গায় যে, এই জাতি ইউনাইটেড। এই ৩৫০ জন না, এখন তো আছে ৩৪৮ জন। এই ৩৪৮ জন মানেই তো ১৮ কোটি বাংলাদেশ, মানুষের বাংলাদেশ। এই আওয়াজটা যাওয়ার দরকার ছিল।”

মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে তিনি বলেন, আমরা মিলেমিশেই ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশটাকে গড়ব এবং সব ধরনের অপরাধ প্রবণতা-এখানে মাদকের কথাও এসেছে। মাদকের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান জিরো। সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের একটা বিল এনেছে। আমাদের দাবি-নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদক নির্মূল। নিয়ন্ত্রণের মানে হচ্ছে কিছু থাকবে, একটু চেপে রাখা। আমরা ওটা চাই না, আমরা নির্মূলের পক্ষে। আমরা সেই বক্তব্যই ইনশাআল্লাহ সংসদে রাখব। কী হবে সেটা বক্তব্যের পরে দেখা যাবে। কিন্তু আমরা বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে কারো চোখের দিকে, মনের দিকে তাকিয়ে আমরা বক্তব্য রাখব না। আমরা জাতির দিকে তাকিয়েই বক্তব্য রাখব।

তিনি আরো বলেন, এখানে অনেকে বলছেন কিশোররা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি তো দেখি অনেক বুড়ারাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই মাদকের সাথে এখন তো শুধু কিশোর নেই! এটার ব্যাপকতায় এখন আর কোনো বয়স মানে না। বয়সসীমা অতিক্রম করে অন্য জায়গায় চলে গেছে। আর শুধু মাদক সেবন করেই ধ্বংস হচ্ছে না, মাদক লালন করে এর চেয়ে বেশি সমাজকে ধ্বংস করতেছে। মাদকের উৎপাদন, মাদকের সংরক্ষণ, বিপণন এবং সেবন-এই চারটা মিলেই তো মাদক। তো আমরা এই সবগুলোই বন্ধ করতে চাই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একজন সরকারি দলীয় সংসদ সদস্য চমৎকারই বলেছেন যে-মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির এলাকা থেকে। উনি জানেন না? এই চালান কীভাবে আসে? এটা কীভাবে বন্ধ করতে হয়? কারা এর সাথে জড়িত? নেত্রকোনার মানুষ আমার চাইতেও ভালো জানেন। আমরা আর দেখতে চাই যে, সংসদের ভেতরে অনেক ব্যাপারে তিনি অনেক ভূমিকা রাখেন। আমরা দেখতে চাই যে তার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাটা তার বাড়ি থেকে শুরু হোক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কোনো কমপ্রোমাইজ নেই: জামায়াত আমির

আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শুক্রবার নেত্রকোনার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রশ্নের জবাবে বললেন, “আমাদের বিজিবি’র পাশাপাশি আমরা সবাই বিজিবি হয়ে আমরা ওখানে খাড়ায়ে যাব ইনশাআল্লাহ। বিজিবি’র হাতে অস্ত্র থাকবে, আমাদের বুকের দেশপ্রেমের অস্ত্র নিয়ে আমরা দাঁড়ায়ে যাব। এবং বহু জায়গায় দাঁড়ায়ে গেছে বলে ওরা পারে নাই কিছু করতে। কিন্তু এটা দুঃখজনক, তারা বলে যে তারা আমাদের বন্ধু দেশ। বন্ধু দেশ কি মানুষকে এরকম মানে বিব্রত করবে? ক্ষতিগ্রস্ত করবে? বন্ধুত্বের পরিচয় এভাবে হয় না। বন্ধুত্বের পরিচয় দেওয়ার জন্য আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। কিন্তু কেউ যদি না দেয়, তাহলে কি আমি গালে হাত দিয়ে বসে থাকব? এ দেশ আমার দেশ, আমাকে আমার দেশ রক্ষা করতে হবে। এর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কোনো কমপ্রোমাইজ নেই। অনেক ব্যাপারে কমপ্রোমাইজ হতে পারে, এই দুইটা ব্যাপারে কোনো কমপ্রোমাইজ নেই।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা একটা নোটিশ জমা দিয়েছিলাম সীমান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য। সরকার এখনো নোটিশটা আমাদেরকে আলোচনা করতে দিচ্ছে না। এখন আবার ৭ তারিখ থেকে শুরু হবে, আমরা আবার শুরু করব। আমাদের অন্য সদস্যদেরকে দিয়েই নোটিশ দিয়েছিলাম, এখন হয়তো আমাকে দিয়ে দিতে হবে। যদি আমাকে দিয়ে এই নোটিশ এক্সেপ্ট না হয়, তাহলে আমাকে দাঁড়িয়ে যেতে হবে, কথা বলতে হবে। তো আমি ওইভাবে চাইছিলাম না। আমি চাইছিলাম যে নোটিশটা সুন্দরভাবে আসুক। দেশ তো সবার, প্রবলেমও সবার। আমরা প্রবলেমটা ডিসকাস করি, শেয়ার করি, সমাধান বের করি। সংসদ থেকেও ঐক্যবদ্ধ একটা আওয়াজ উঠলে সারা দুনিয়ায় এটা ছড়ায়ে পড়বে। মেসেজ যাবে বহু জায়গায় যে, এই জাতি ইউনাইটেড। এই ৩৫০ জন না, এখন তো আছে ৩৪৮ জন। এই ৩৪৮ জন মানেই তো ১৮ কোটি বাংলাদেশ, মানুষের বাংলাদেশ। এই আওয়াজটা যাওয়ার দরকার ছিল।”

মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে তিনি বলেন, আমরা মিলেমিশেই ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশটাকে গড়ব এবং সব ধরনের অপরাধ প্রবণতা-এখানে মাদকের কথাও এসেছে। মাদকের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান জিরো। সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের একটা বিল এনেছে। আমাদের দাবি-নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদক নির্মূল। নিয়ন্ত্রণের মানে হচ্ছে কিছু থাকবে, একটু চেপে রাখা। আমরা ওটা চাই না, আমরা নির্মূলের পক্ষে। আমরা সেই বক্তব্যই ইনশাআল্লাহ সংসদে রাখব। কী হবে সেটা বক্তব্যের পরে দেখা যাবে। কিন্তু আমরা বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে কারো চোখের দিকে, মনের দিকে তাকিয়ে আমরা বক্তব্য রাখব না। আমরা জাতির দিকে তাকিয়েই বক্তব্য রাখব।

তিনি আরো বলেন, এখানে অনেকে বলছেন কিশোররা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি তো দেখি অনেক বুড়ারাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই মাদকের সাথে এখন তো শুধু কিশোর নেই! এটার ব্যাপকতায় এখন আর কোনো বয়স মানে না। বয়সসীমা অতিক্রম করে অন্য জায়গায় চলে গেছে। আর শুধু মাদক সেবন করেই ধ্বংস হচ্ছে না, মাদক লালন করে এর চেয়ে বেশি সমাজকে ধ্বংস করতেছে। মাদকের উৎপাদন, মাদকের সংরক্ষণ, বিপণন এবং সেবন-এই চারটা মিলেই তো মাদক। তো আমরা এই সবগুলোই বন্ধ করতে চাই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একজন সরকারি দলীয় সংসদ সদস্য চমৎকারই বলেছেন যে-মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির এলাকা থেকে। উনি জানেন না? এই চালান কীভাবে আসে? এটা কীভাবে বন্ধ করতে হয়? কারা এর সাথে জড়িত? নেত্রকোনার মানুষ আমার চাইতেও ভালো জানেন। আমরা আর দেখতে চাই যে, সংসদের ভেতরে অনেক ব্যাপারে তিনি অনেক ভূমিকা রাখেন। আমরা দেখতে চাই যে তার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাটা তার বাড়ি থেকে শুরু হোক।