ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কেঁদে যা বলছিলেন মিয়াঁদাদ
- আপডেট সময়ঃ ০২:৩০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
তিন বছর ধরে কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই সাবেক ক্রিকেটারের মুক্তির দাবিতে এবার সরব হয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের আরেক কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ।
সম্প্রতি ইমরান খানের চিকিৎসা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে যৌথ চিঠি পাঠান ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। গত ২৪ আগস্ট পাঠানো ওই চিঠির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও।
এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যারেটিভস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের পক্ষে কথা বলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ।
তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে বুঝিয়ে বলুক, তিনি (ইমরান খান) কি পাকিস্তানকে খেয়ে ফেলবেন? আমরা সবাই পাকিস্তানি। আমাদের একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করা উচিত। বিষয়টি অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য ভালো নয়।’
ইমরানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনও নাকচ করে দেন ৬৯ বছর বয়সি এই সাবেক ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনও কোনো শত্রুতা বা ঝগড়া ছিল না।’
ইংল্যান্ডে একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার স্মৃতি তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি এবং প্রায় ছয় মাস একসঙ্গে ছিলাম। পরে পাকিস্তান দলে আমি তাকে অধিনায়কত্বও দিয়েছিলাম। আমাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো। আমরা একসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটের দারুণ একটি সময় কাটিয়েছি।’
সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ‘তিনি কারও না কারও সন্তান। প্রায়ই ভাবি, কী কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি যাচ্ছেন। আমরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একসঙ্গে খেলেছি, সময় কাটিয়েছি এবং একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতাম। পাকিস্তান ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি।’
যদিও অবসরের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অতীতে ইমরান খানের সমালোচনা করেছেন মিয়াঁদাদ, তবু তিনি মনে করেন, দেশের জন্য ইমরানের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
মিয়াঁদাদ বলেন, ‘যা ভুল, তা অবশ্যই ভুল। কিন্তু তিনি একজন জাতীয় বীর। আমি চাই এই সমস্যার সমাধান হোক। পাকিস্তান সরকারের কাছেও আমার আবেদন রয়েছে। হয়তো আমি সবকিছু বলার অবস্থানে নেই, তবে এটুকু বলতে পারি—তিনি আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী। আমরা একসঙ্গে খেলেছি, সময় কাটিয়েছি। আমি তাকে খুব ভালোভাবে চিনি। তিনি একজন সৎ মানুষ।’
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মিয়াঁদাদ। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘আমার একটাই প্রার্থনা—সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হোক। এর বেশি আর কী বলব? আপনারা আমার চোখে পানি এনে দিয়েছেন। আমি হৃদয়ের গভীরতা থেকেই এসব কথা বলছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, অবশ্যই করব। আমরা সবাই পাকিস্তানি এবং দেশের পতাকা বহন করেছি। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে সেগুলোর অবসান হওয়া উচিত। দেশপ্রেমের প্রশ্নে ইমরান কারও চেয়ে কম নন। আমরা মাঠে লড়েছি পাকিস্তানের জন্যই। যা হওয়ার হয়েছে। মানুষ ভুল করতেই পারে। এখন সময় এসেছে এই অধ্যায়ের ইতি টানার।’






















