ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

সাঘাটায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: ৫ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্ত চেংটু, ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হাসিলকান্দি গ্রামে চার বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি মোন্তাজ আলী ওরফে চেংটু (৫৫) ঘটনার পাঁচ দিন পরও গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে হাসিলকান্দি গ্রামে চেংটু তার বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে চাপড়া ভাজা রুটি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশুটিকে ঘরে ডেকে নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়ে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে তার মা ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের ঘর থেকে শিশুটির সাড়া পেয়ে তিনি সেখানে ছুটে যান। এ সময় শিশুটি জানায়, তার ‘বড় আব্বু’ তার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। শিশুর মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত চেংটু দরজা খুলে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে ও তার বর্ণনা শুনে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় কয়েকজন বিচার হবে বলে আশ্বাস দিয়ে প্রথমে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় শিশুটিকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ধর্ষণের অভিযোগে ভর্তি দেখিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে শিশুটির প্রতিবন্ধী বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকায় এবং মা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর শিশুটির চাচা জহুরুল ইসলাম সাঘাটা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগের পর থেকেই অভিযুক্ত চেংটু ও তার পরিবারের সদস্যরা আশপাশ এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত ও মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উজ্জ্বল বলেন, “চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।”

তবে ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। সচেতন মহল দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার না হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সাঘাটায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: ৫ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্ত চেংটু, ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হাসিলকান্দি গ্রামে চার বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি মোন্তাজ আলী ওরফে চেংটু (৫৫) ঘটনার পাঁচ দিন পরও গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে হাসিলকান্দি গ্রামে চেংটু তার বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে চাপড়া ভাজা রুটি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশুটিকে ঘরে ডেকে নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়ে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে তার মা ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের ঘর থেকে শিশুটির সাড়া পেয়ে তিনি সেখানে ছুটে যান। এ সময় শিশুটি জানায়, তার ‘বড় আব্বু’ তার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। শিশুর মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত চেংটু দরজা খুলে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে ও তার বর্ণনা শুনে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় কয়েকজন বিচার হবে বলে আশ্বাস দিয়ে প্রথমে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় শিশুটিকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ধর্ষণের অভিযোগে ভর্তি দেখিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে শিশুটির প্রতিবন্ধী বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকায় এবং মা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর শিশুটির চাচা জহুরুল ইসলাম সাঘাটা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগের পর থেকেই অভিযুক্ত চেংটু ও তার পরিবারের সদস্যরা আশপাশ এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত ও মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উজ্জ্বল বলেন, “চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।”

তবে ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। সচেতন মহল দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার না হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।